Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৯ অপরাহ্ণ

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে বদলি: অবশেষে সেই মাদ্রাসা শিক্ষক খাইরুল পেলেন ছাড়পত্র

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে বদলি: অবশেষে সেই মাদ্রাসা শিক্ষক খাইরুল পেলেন ছাড়পত্র

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পদায়ন করা হয়। তবে পদায়নের পরও তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি দেয়া হচ্ছিলো না। ভুক্তভোগী শিক্ষকের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় দৈনিক শিক্ষাডটকমে। এরপরপরই ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে তাকে।রাতে খাইরুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এদিকে আসতে বলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম।আমাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেবে বলে জানান, আমি আসি। আমাকে কাগজপত্র দিয়েছে। তবে কিছু কিছু কাগজের ফটোকপি দিয়েছে। যেগুলোর মূলকপিগুলো দেয়নি। বলছে পরে দেবে।

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ছাড়পত্রে এবং অভিজ্ঞতা সনদপত্রে একটা ভুল তথ্য দিয়েছেন অধ্যক্ষ। যেখানে উল্লেখ করেছেন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ মে থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত আমি অননুমোদিত ছুটি ভোগ করি। কিন্তু তারিখটি হবে ২০ জুন থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত।

আমি কাগজপত্র গ্রহণ করার সময় রাত হওয়ার এবং একা থাকার কারণে ভালোভাবে তথ্যগুলো দেখার সুযোগ হয়নি। বাসায় এনে দেখার পর। এ ব্যাপারে আমি প্রিন্সিপাল স্যারকে হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস এ জানাই এবং বারবার কল করলে উনি ফোন কেটে দেন।

এর আগে আজ বুধবার সকালে তিনি অভিযোগ করেছিলেন মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিচ্ছে না। তাই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে পারছেন না তিনি।

এ বিষয়ে শিক্ষক খাইরুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আমি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পরেই প্রিন্সিপাল স্যারকে বলছি আমার কাগজপত্র রেডি রাখার জন্য। কিন্তু রেডি রাখেননি। এরপর আমি যখন অফিসে আসি এবং আবেদন জমা দেই। উনি আমাকে ইউএনও এবং শিক্ষা অফিসারের কাছে অনুমতি নিতে হবে বলে জানায়। আমিসহ ইউএনও এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে গেলে, ওনারা আমার কাগজপত্র দিয়ে দিতে বলেন। এখানে ওনাদের পারমিশন নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই বলে জানায়। এভাবে গত ৯ ও ১০ আগস্ট আমাকে ঘুরায়। ১১ তারিখ দেবে বললেও আজকে ১২ তারিখ আমাকে ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয়ও কাগজপত্র দিচ্ছেনা।

জানা গেছে, খাইরুল ইসলাম ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এরপর একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর তিনি গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (বাংলা) হিসেবে যোগ দেন। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের ৩০ জুলাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিতপুর ডি.এস. ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় নতুন সংযুক্তি হিসেবে পদায়ন করা হয়। কিন্তু এরপরই তার বদলিতে ছাড়পত্র দিতে গড়িমসি করছে প্রতিষ্ঠান প্রধান।

এদিকে গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমকে দেওয়া আবেদনপত্রে খাইরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুন এনটিআরসিএ‘র গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। পরে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর তিনি মাদ্রাসায় যোগদান করেন।

আবেদনপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুলাই কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, মাদ্রাসা শাখা-১-এর স্মারক নম্বর ৫৭.০০.০০০.০০০.০৫৫.১৯.০০০১.২৬-১৮-এর মাধ্যমে তাকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিতপুর ডি.এস. ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় সংযুক্তি হিসেবে পদায়ন করা হয়।

এ বিষয়ে গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনটি রেখে দেন। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

ব্লগ