প্রধান শিক্ষক
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৭ অপরাহ্ণ
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ক্যাডার পদায়ন বাতিল দাবি
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ক্যাডার পদায়ন বাতিল দাবি
সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট বিভিন্ন গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি নিরসনে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ নিয়ে চলমান বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে দেওয়া শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্টীকরণ ও সুনির্দিষ্ট বক্তব্যের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান পদে সরকারি শিক্ষকদের ‘প্রেষণ’ বাতিলের দাবি জানানো হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) ন্যাশনালিস্ট ফোরাম ফর টিচার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ (এনএফটিই) এ সভার আয়োজন করে। পরবর্তীতে এনএফটিই থেকে দৈনিক শিক্ষাডটকমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।সভায় বক্তারা বক্তারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সব অংশীজনের মধ্যে বিরাজমান দীর্ঘদিনের অস্বস্তি ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে এবং সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন।
সভায় শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী গণমাধ্যমের সামনে এসে জাতির উদ্দেশে অত্যন্ত পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, স্থানীয় গভর্নিং বডি বা পকেট নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। মন্ত্রীর এই নীতিগত আশ্বাসের ফলে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে।
আজকের সভায় শিক্ষক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদের জন্য গত ১৮ এপ্রিল লিখিত পরীক্ষা অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং এর মাত্র চার দিন পর, অর্থাৎ ২২ এপ্রিল, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ফল প্রকাশের পর আজ দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এনটিআরসিএ এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) কোনো তারিখ ঘোষণা করতে পারেনি। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষক চরম মানসিক ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নেতারা জোর দিয়ে বলেন, বিগত দিনে নিয়োগ কমিটির অধীনে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ছিল। এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আসায় শিক্ষক সমাজ স্বস্তি পেয়েছিল। তাই নেতারা দাবি জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ঝুলে থাকা মৌখিক পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত এবং এনটিআরসিএ’র নিজস্ব কঠোর ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে অনুষ্ঠিত করার জন্য দ্রুত তারিখ ঘোষণা করতে হবে।
সভায় শিক্ষক নেতারা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যখন মৌখিক পরীক্ষা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে সম্পূর্ণ অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘প্রেষণে’ সরকারি কলেজের শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
নেতারা শিক্ষামন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে সরকারি শিক্ষকদের প্রেষণে পদায়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ বেসরকারি শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করছে এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করছে।
আলোচনা সভায় শিক্ষক নেতরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে এনটিআরসিএ-এর ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে, অনতিবিলম্বে ঝুলে থাকা মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি নিশ্চিত করতে এবং প্রেষণ প্রথা বন্ধ করতে শিক্ষক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ। অবিলম্বে প্রেষণ বাতিল করে মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা না হলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সভায় উপস্থিত নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপাধ্যক্ষ শেখ ফরিদ হোসেন, অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান, অধ্যাপক গোলাম রসুল সানি, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম মাসুদ, অধ্যাপক মো. আলমগীর হোসেন, অধ্যাপক কে এম নাহিদ হাসান, অধ্যাপিকা ফারহানা হক, অধ্যাপিকা ইপফাত আরা, সিনিয়র শিক্ষক তাসলিমা বেগম এবং মো. জয়নাল আবেদীন।
১৩
১৮ মন্তব্য