Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

বিরল গোলাপি হাতিটি এখন শুধুই স্মৃতি

প্রায় ১০ মাস হয়ে গেছে ‘গোলাপি’ নেই। তবু কাপ্তাই হ্রদের পানিতে নিথর হস্তীশাবকটিকে তুলে আনার জন্য তার মায়ের প্রাণান্তকর চেষ্টার সেই দৃশ্য এখনো মনে পড়ে। পানিতে পড়ে আছে ছোট্ট ‘গোলাপি’। মা তাকে ছেড়ে যাচ্ছে না। কখনো পানিতে নেমে শুঁড় দিয়ে ঠেলছে, কখনো পা ধরে টেনে তুলতে চাইছে। এক জায়গায় না পেরে নিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের অন্য পাশে। ডাঙায় দাঁড়িয়ে আবার চেষ্টা করছে। কিন্তু ছোট্ট শরীরটি আর উঠছে না। কোনো সাড়াও নেই।

অস্থির হয়ে উঠছে মা হাতিটি। কান ঝাঁকাচ্ছে, মাথা নাড়ছে, কখনো গাছের ডাল ভাঙছে। আবার ফিরে যাচ্ছে পানিতে ভাসতে থাকা শাবকের কাছে। যে শাবক কয়েক মাস ধরে তার পেটের নিচে আশ্রয় নিয়ে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরেছে, সেই ‘গোলাপি’ আর উঠছে না। দিন গড়িয়েছে। তবু শাবককে ছেড়ে যায়নি মা।

‘গোলাপি’ নামটি শাবকটির মা দেয়নি। দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী গবেষক এম এ আজিজ। রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ে বিরল রঙের শাবকটিকে প্রথম দেখেছিলেন তিনি। তখন জীবন সবে শুরু। কয়েক মাসের মধ্যেই কাপ্তাই হ্রদের পানিতে নিথর হয়ে পড়ে সেই গোলাপি। গোলাপির জন্ম, বেড়ে ওঠা ও মৃত্যুর এই গল্প এম এ আজিজ লিখেছেন তাঁর ‘বিপন্ন হাতির কথা’ বইয়ে।

মন্তব্য করুন