Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা

রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসিন্দা নওরীন জাহান গতকাল বুধবার সকালে বাজার করতে যান মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে। তিনি পাঁচ কেজি চাল, দুই লিটার সয়াবিন তেল, দেড় কেজি ওজনের একটি ব্রয়লার মুরগি, এক ডজন ডিম ও পাঁচ ধরনের সবজি কেনেন। তাতে সব মিলিয়ে নওরীনের ১ হাজার ১৭৫ টাকা খরচ হয়। এই ক্রেতা জানান, এক বছর আগে এই পণ্যগুলো ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে তিনি কিনতে পারতেন।

বাজার করে ফেরার পথে প্রথম আলোকে নওরীন বলেন, ‘গত এক বছরে শুধু চালের দামটা সেভাবে বাড়েনি। বাকি সব জিনিসের দাম কমবেশি বেড়েছে। আমি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। বাজারের বাড়তি দামের সঙ্গে আমার বেতন নিয়ে আর চলতে পারছি না।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত মঙ্গলবার জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে। সরকারি তথ্যে মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য থাকলেও বাজারে গিয়ে তা টের পাচ্ছেন না ক্রেতারা। কারণ, বাজারে সব জিনিসপত্রের দাম আগের মতোই চড়া।

পরিসংখ্যানে যত দেখানো হয়, বাজারে গিয়ে তার প্রতিফলন পাওয়া যায় না।
সেলিম রায়হান, নির্বাহী পরিচালক, সানেম

মূল্যস্ফীতি কমলেও সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ, গত বছরের তুলনায় মানুষের আয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় জিনিসপত্রের দাম বেশি বেড়েছে। ফলে বিবিএসের হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও ক্রেতারা স্বস্তি পাচ্ছেন না। সেই অসন্তোষের কথাই উঠে এসেছে লালমাটিয়ার বাসিন্দা নওরীন জাহানের কথায়।

বিবিএসের হিসাবে জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, অর্থাৎ মজুরি যতটা বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে বেশি। ফলে সীমিত আয়ের মানুষকে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিবিএসের হিসাবে টানা ৫৩ মাস মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি রয়েছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সীমিত আয়ের অনেক মানুষকে হয় সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, নয়তো ধারদেনা করতে হচ্ছে। আবার নিরুপায় হয়ে অনেককে খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

গত জুলাই মাসে অতিবৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাতে এসব জেলার বেশ কিছু এলাকায় সবজির খেত তলিয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে সবজির বাজারে। এর আগে অতি গরমের কারণেও বিভিন্ন জেলায় মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া চলতি বছর জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহন ও উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। সব মিলিয়ে বাজারে শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ