সিনিয়র শিক্ষক
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ
এই ফল শিক্ষার মানের এগোনোর ইঙ্গিত
নির্ধরিত সময়ের তিন সপ্তাহ পরে প্রকাশিত হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। এবার এসএসসি পরীক্ষার ফল বিলম্ব হচেছ, দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম কিছু একটা হচেছ। শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করলে পাসের হার ২০ শতাংশের উপরে নীচে ঘোরাঘুরি করার কথা। কিন্তু পাস করে আসছিলো প্রায় শতভাগ! সবাই এই গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিচিছলো। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন। এর বিরুদ্ধে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ। কিন্তু এভাবে চলতে চলতে জাতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিল, যে কোন সময় একেবারে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হচিছলো। এ সময় দরকার মহাসাহসী, মহাবিপ্লবী কোন পদক্ষেপ এবং সে রকম একজন কাণ্ডারী হচেছন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি একজন মানুষ, ফেরেশতা নন। তাই তার মানবিক কিছু ত্রুটি থাকবে, সেগুলোকে আমরা উপক্ষো করব। বাকীক্ষেত্রে তার প্রতিটি পদক্ষেপকে আমাদের সহায়তা দিয়ে যেতে হবে। যদি আমরা দেশের মানুষের, শিক্ষার ও ভবিষ্যত প্রজন্মের মঙ্গল চাই।
গত ৮ জুন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ২০ জুলাই। প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে তা হয়নি। অবশেষে ১০ আগস্ট পাওয়া গেলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। গত ২৭ জুলাই আন্ত:শিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ এর ফল ১০ আগস্ট সারা দেশে একযোগে প্রকাশ করা হবে এবং সেভাবেই ফল প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল, চলে ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ছিল ব্যবহারিক পরীক্ষা। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল ( ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই আমাদের দেশের ভবিষ্যত, তারাই একদিন দেশের সব দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবে, হাল ধরবে। কাজেই তাদের সেভাবেই প্রস্তত করতে হবে। যেন তেন পাস আর না পড়িয়ে শুধু গ্রেড দিয়ে বরং তাদের মহাক্ষতি করা হচিছলো। সেই অবস্থা থেকে বের হওয়া মাত্র শুরু হলো।
অবশ্যই শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারকে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। তবে শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মাউশি অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখার গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে দক্ষতা অর্জনে বেশ পিছিয়ে। এমনকি বাংলায়ও শিক্ষার্থীদের অবস্থা কাঙ্খিত মানে নয়। মূলত বিদ্যালয়গুলোতে ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোচিং ও গৃহশিক্ষকের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়। এ অবস্থা সরকার হঠাৎ করে বন্ধ করে দিতে পারবে না। সবাইকে ভূমিকা পালন করতে হবে।
টানা প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে পরীক্ষার ফল ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রকাশের শুধু অভিযোগ নয়, প্রমাণ ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। একজন শিক্ষক হিসবে এবং বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক হিসেবে দেখেছি, পরীক্ষার খাতা ঠিকমতো পরীক্ষণ করলে নিতান্ত কম সংখ্যক শিক্ষার্থী পাসের মধ্যে পড়ে। অথচ সেটিকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে পাসের হার শতভাগে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব ধরনের মেকানিজম ব্যবহার করা হতো, ফলে শিক্ষার মান প্রায় শূন্যের কোঠায় গিয়ে ঠেকেছে। এ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে হবে। তাই, কোন একটি জায়গা থেকে শুরু করা দরকার এবং সেই শুরু অন্তত মাধ্যমিক ফল দিয়ে শুরু হলো বলা যায়। এই ফল দেখে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার টেবিলে বসবে। অভিভাবক যারা চান তাদের ছেলেমেয়েরা কিছু জানুক আর না জানুক জিপিএ-৫ তাদের পেতেই হবে, তাদের জন্যও কিছুটা সতর্ক সংকেত এই ফল।
লেখক: মাসুম বিল্লাহ্, ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষক
১৩
১৮ মন্তব্য