Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:২৪ অপরাহ্ণ

বিষয় : এসএসসি ২০২৬ ফলাফল প্রসঙ্গে

এসএসসি ২০২৬ ফলাফল প্রসঙ্গে

ভূমিকা

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হয়ে এসেছে। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮,২৯,৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়; এর মধ্যে ১১,৩৮,৮৭৭ জন পাস করেছে এবং ৬,৯০,৬০৮ জন ফেল করেছে। জাতীয় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ৬৮.৪৫ শতাংশের তুলনায় ৬.২ শতাংশের কম এবং দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অন্যতম নিম্ন ফলাফল।

 

চট্টগ্রাম বোর্ডের ফলাফল বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সেখানে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭২.৭০ শতাংশ; ২০২৬ সালে তা কমে ৫৯.৪৮ শতাংশ হয়েছে। বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণে গণিত ও ইংরেজিতে তুলনামূলক দুর্বল ফল এবং মানবিক বিভাগের অত্যন্ত কম পাসের হার সামগ্রিক ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

 

এ ফলাফলকে শুধু ‘শিক্ষার্থীরা খারাপ করেছে’ বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। একইভাবে শুধু শিক্ষক, প্রশ্নপত্র বা মূল্যায়ন-পদ্ধতিকে দায়ী করেও সমস্যার সমাধান হবে না। বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার, বিদ্যালয়, পরীক্ষা-পদ্ধতি এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেই কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

 

২. ফলাফল বিপর্যয়ের সম্ভাব্য প্রধান কারণ

ক. ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল ভিত্তি

২০২৬ সালের ফলাফলে ইংরেজি ও গণিত সবচেয়ে দুর্বল বিষয়গুলোর মধ্যে উঠে এসেছে। বিভিন্ন বোর্ডে এসব বিষয়ে পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। চট্টগ্রাম বোর্ডে গণিতে পাসের হার ৮১.৫৩ শতাংশ এবং ইংরেজিতে ৮৩.২৪ শতাংশ ছিল

এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে।

  • প্রাথমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে  গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে মৌলিক ধারণা দুর্বল থাকা;
  • নিয়মিত অনুশীলন বা চর্চার  অভাব;
  • গণিতকে সূত্র মুখস্থ করার বিষয় হিসেবে দেখা;
  • ইংরেজিতে reading, writing, grammar ও vocabulary-এর সমন্বিত চর্চার অভাব;
  • পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত নির্ভরতা কোচিং ও সংক্ষিপ্ত সাজেশননির্ভর পড়াশোনার ওপর;
  • ভুল উত্তর বিশ্লেষণ করে পুনরায় অনুশীলন না করা।

সমাধান: গণিত ও ইংরেজিতে ‘শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি’ নয়, বরং প্রাথমিক  থেকেই ধারাবাহিক ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।

খ. মুখস্থনির্ভর শিক্ষা

শুধু বইয়ের উত্তর মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। কোনো প্রশ্ন সামান্য ভিন্নভাবে এলে মুখস্থ উত্তর কাজে আসে না। তাই  এ পদ্ধতির শিক্ষা প্রবণতা বাদ দিতে হবে।

গ. পরীক্ষার জন্য প্রকৃত প্রস্তুতির ঘাটতি

অনেক শিক্ষার্থী পুরো শিক্ষাবর্ষে ধারাবাহিকভাবে না পড়ে পরীক্ষার কয়েক মাস আগে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। এতে বিষয় বুঝে শেখার পরিবর্তে দ্রুত শেষ করার প্রবণতা তৈরি করা।  বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিশ্লেষণধর্মী বিষয়ে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। একটি পরীক্ষার আগে ১০-১২ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে সারা বছর প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা কার্যকর পড়াশোনা অনেক বেশি ফলপ্রসূ।

ঘ. শিক্ষকতার মান ও শিক্ষক-সহায়তার ঘাটতি

একজন কার্যকর শিক্ষক শুধু বইয়ের বিষয়বস্তু পড়ান না; তিনি বোঝেন-

  • কোন শিক্ষার্থী পিছিয়ে আছে;
  • কেন পিছিয়ে আছে;
  • কোন পদ্ধতিতে তাকে শেখানো দরকার;
  • তার ভুল কোথায়;
  • কীভাবে পরীক্ষার উত্তর উন্নত করা যায়।

তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণকে কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মশালা না রেখে বাস্তব শ্রেণিকক্ষভিত্তিক করতে হবে।

ঙ. কোচিং ও গাইডনির্ভরতা

অনেক শিক্ষার্থী মূল পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে গাইড, সাজেশন ও কোচিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে। এতে পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা হতে পারে, কিন্তু ধারণাগত জ্ঞান ও নতুন প্রশ্ন সমাধানের সক্ষমতা সবসময় তৈরি হয় না। কোচিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় দুটির কোনোটিই একক সমাধান নয়। মূল বিষয় হলো শিক্ষার্থী যেন বিদ্যালয়ের পাঠ, মূল বই এবং নিজের অনুশীলনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

চ. শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও পরীক্ষাভীতি

 একটি পরীক্ষার ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ মেধা, ব্যক্তিত্ব, সৃজনশীলতা বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। ২০২৬ সালের ফলাফল নিয়ে আলোচনাতেও শিক্ষার্থীদের ওপর ফলাফলকেন্দ্রিক সামাজিক চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।

ছ. ছেলে ও মেয়েদের ফলাফলের পার্থক্য

২০২৬ সালে মেয়েদের পাসের হার ছিল ৬৬.৬৮ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৫৭.৮৬ শতাংশ অর্থাৎ মেয়েরা ৮.৮২ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে।

এটি দেখায় যে শুধু ‘সামগ্রিক শিক্ষার্থী দুর্বল’ বললে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। ছেলে শিক্ষার্থীদের কম ফলাফলের পেছনে উপস্থিতি, পড়াশোনার অভ্যাস, মনোযোগ, সামাজিক পরিবেশ, ঝরে পড়ার ঝুঁকি ও অন্যান্য বিষয় আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার।

জ.  ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পাঠদান

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক দিয়ে পাঠদান  না করালে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন ব্যাহত হবে। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা  যাচাই করা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।  এমনকি পরীক্ষার ফলাফলও খারাপ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক ধারণা, সমস্যা সমাধান ও ভাষাগত দক্ষতা কমে যাবে। অনেকক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষায় কৃতকার্য হলেও  উচ্চশিক্ষায়ও তারা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

 ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য কাকে দায়ী করা উচিত?

আমার মতে কোনো এক পক্ষকে সম্পূর্ণ দায়ী করা যুক্তিসংগত নয়।

 

শিক্ষার্থীর দায়িত্ব

নিয়মিত পড়াশোনা, অনুশীলন, সময় ব্যবস্থাপনা ও নিজের ভুল সংশোধন।

শিক্ষকের দায়িত্ব

সহজভাবে শেখানো, দুর্বল শিক্ষার্থী শনাক্ত করা, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া।

অভিভাবকের দায়িত্ব

চাপ না দিয়ে পরিবেশ তৈরি করা, সন্তানের পড়াশোনা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষক/বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

বিদ্যালয়ের দায়িত্ব

শিক্ষার মান, উপস্থিতি, শিক্ষকতার মান, পরীক্ষা ও ফলাফল বিশ্লেষণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীর জন্য সহায়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দায়িত্ব

বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশে যাতে কোনো অরাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি না হয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সরকারের দায়িত্ব

শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষা-উপকরণ ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৈষম্য কমানো।

 শিক্ষার্থীদের করণীয়

ক. ফলাফলকে শেষ নয়, feedback হিসেবে দেখো।

ফেল করলে প্রথম কাজ হলো ভয় পাওয়া নয়; নিজের ফলাফল বিশ্লেষণ করা।

প্রতিটি বিষয়ের জন্য লিখতে হবে -

  • কোন বিষয়ে ফেল করেছি?
  • কোন অধ্যায়ে দুর্বল?
  • কোথায় বেশি ভুল হয়েছে?
  • আমি কি নিয়মিত পড়েছি?
  • প্রশ্ন বুঝতে সমস্যা হয়েছে কি?
  • সময় ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হয়েছিল কি?

 

২. দুর্বল বিষয়কে সবচেয়ে বেশি সময় দাও

যে বিষয়ে নম্বর কম, সেই বিষয়ে কাজ করার সময় বাড়াতে হবে।

‘আমি গণিতে দুর্বল, তাই গণিত পড়ব না’- এই মানসিকতা বদলাতে হবে।

বরং বলতে হবে ‘আমি গণিতে দুর্বল, তাই গণিতেই বেশি অনুশীলন করব।’

৪. মূল বইকে অগ্রাধিকার দাও

গাইড বা সাজেশন সহায়ক হতে পারে, কিন্তু মূল পাঠ্যবইয়ের বিকল্প নয়।

এই ধারা অনুসরণ করা উচিত।

৫. নিয়মিত পরীক্ষা দাও

শুধু পড়লেই হবে না। সময় ধরে পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষার পরে নম্বরের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কেন ভুল হয়েছে তা জানা

 

 শিক্ষকদের করণীয়

1. দুর্বল শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা সহায়তা

একজন ভালো শিক্ষার্থীকে আরও ভালো করার পাশাপাশি একজন দুর্বল শিক্ষার্থীকে পাসের উপযোগী করে তোলাও শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বিদ্যালয়ে প্রয়োজনে- 

  • আলাদা মনিটরিং এর ব্যবস্থা;
  • ছোট গ্রুপে পাঠদান;
  • peer learning ইত্যাদি চালু করা যেতে পারে।

2. শুধু উত্তর শেখানো নয়, সমস্যা সমাধান শেখানো

বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ‘কীভাবে চিন্তা করতে হয়’ তা শেখাতে হবে।

3. অভিভাবকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ

শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত হলে, ধারাবাহিকভাবে কম নম্বর পেলে বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিলে অভিভাবককে দ্রুত জানানো প্রয়োজন।

 

অভিভাবকদের করণীয়

১. ফলাফল প্রকাশের দিন সন্তানকে অপমান করবেন না

ফেল বা কম জিপিএ কোনো সন্তানের বিরুদ্ধে রায় নয়।

‘তুই আমাদের মুখ পুড়িয়েছিস’, ‘তোর ভবিষ্যৎ শেষ’- এ ধরনের কথা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বরং বলতে হবে-

‘কোথায় সমস্যা হয়েছে, আমরা একসঙ্গে সেটা ঠিক করব।’

২. অন্যের সন্তানের সঙ্গে তুলনা বন্ধ করুন

‘অমুক জিপিএ -5 পেয়েছে, তুমি পারোনি কেন?’- এ ধরনের তুলনা আত্মবিশ্বাস কমায়।

প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার গতি ও পরিস্থিতি আলাদা।

৩. পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করুন

বাড়িতে নির্দিষ্ট পড়ার সময়, শান্ত পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. শুধু ফল নয়, অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করুন

অভিভাবকের প্রশ্ন হওয়া উচিত-

  • প্রতিদিন পড়ছে কি?
  • স্কুলে যাচ্ছে কি?
  • কোন বিষয়ে সমস্যা হচ্ছে?
  • শিক্ষককে প্রশ্ন করছে কি?
  • পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি?
  • অতিরিক্ত অ্যান্ডয়েড  ফোনে আসক্তি হচ্ছে কী  অথবা সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে বেশি সময়  দিচ্ছে কি?

 

 

 বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রশাসনের করণীয়

২০২৬ সালের ফলাফলকে শুধু ‘খারাপ ফল’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একটি ডায়াগনস্টিক সংকেত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন-

  1. গত তিন বছরের ফলাফল তুলনা;
  2. বিষয়ভিত্তিক ফেল বিশ্লেষণ;
  3. শিক্ষকভিত্তিক নয়, পদ্ধতিভিত্তিক সমস্যা শনাক্তকরণ;
  4. দুর্বল শিক্ষার্থীর তালিকা;
  5. ইংরেজি ও গণিতে remedial programme;
  6. শিক্ষক প্রশিক্ষণ;
  7. অভিভাবক-বিদ্যালয় সমন্বয়;
  8. অনুপস্থিত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নজর;
  9. প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা।

 

 

 সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

এসএসসি ২০২৬-এর ফলাফল থেকে তিনটি বড় শিক্ষা পাওয়া যায়।

প্রথমত, শুধু পরীক্ষার কয়েক মাস আগে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়াশোনা করলে ভালো ফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, ইংরেজি ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা তৈরি করতে হবে।

তৃতীয়ত, ফলাফল কমে গেলে শিক্ষার্থীকে দোষারোপ না করে পুরো শিক্ষা-প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করতে হবে।

কারণ একটি পরীক্ষার ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীর প্রস্তুতির প্রতিফলন নয়; এর মধ্যে পরিবার, শিক্ষক, বিদ্যালয়, সামাজিক পরিবেশ, পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাবও থাকে।

 

শেষকথা

এসএসসিতে খারাপ ফলাফল একটি সতর্কবার্তা, চূড়ান্ত রায় নয় আজ যে শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিশ্রম ও সহযোগিতা পেলে আগামী দিনে সে ভালো করতে পারে।

তাই ফল বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন হওয়া উচিত-“কে ব্যর্থ?” নয়; বরং “কোথায় সমস্যা হয়েছে এবং কীভাবে আমরা সবাই মিলে তা ঠিক করতে পারি?”

একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় তাকে ভয় দেখানোর চেয়ে সাহস দেওয়া, দোষারোপ করার চেয়ে পথ দেখানো এবং তুলনা করার চেয়ে সহযোগিতা করাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

 


মন্তব্য করুন