সহকারী শিক্ষক
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ
ফোনের আলো থেকে ত্বক বাঁচাতে
মোবাইলের আলোয় বুড়িয়ে যাচ্ছে ত্বক: স্ক্রিনের ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়।
ঘরের ভেতরে বা অফিসে সুরক্ষিত থেকেও, প্রতিদিন অজান্তে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে চলেছে, সে বিষয়ে হয়ত অনেকেই সচেতন নয়।
আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে সারাদিন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার কিংবা এলইডি টিভির স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার কারণে, সেখান থেকে অনবরত নির্গত হচ্ছে এক ধরনের উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন দৃশ্যমান নীল আলো, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ব্লু লাইট’ বা ‘হাই এনার্জি ভিজিবল (এইচইভি) লাইট নামে পরিচিত।
চর্মরোগ বিজ্ঞানীদের মতে, এই কৃত্রিম নীল আলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মতোই ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত প্রবেশ করে অকাল বার্ধক্য এবং পিগমেন্টেশনের মতো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিসাধন করছে।
স্ক্রিনের নীল আলো যেভাবে ত্বকের ক্ষতি করে
বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অফ ইনভেস্টিগেটিভ ডার্মাটোলজি’-তে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ব্লু লাইট বা নীল আলো ত্বকের গভীরে ঢুকে কোষের ডিএনএ কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হসপিটালের কসমেটিক ও ক্লিনিক্যাল রিসার্চের পরিচালক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোশুয়া জেইচনার স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেল্থলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেন যে, “নীল আলোর কারণে ত্বকের ভেতরে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ তৈরি হয়, যা প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যাল উৎপন্ন করে। এই ফ্রি-র্যাডিক্যালগুলো ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখা প্রধান দুটি প্রোটিন ‘কোলাজেন’ এবং ‘ইলাস্টিন’ খুব দ্রুত ভেঙে ফেলে।
ফলে বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই মুখে বলিরেখা পড়া, চামড়া ঝুলে যাওয়া এবং এক ধরনের কালচে ছোপ ছোপ দাগ বা ‘ডিজিটাল পিগমেন্টেইশন’ দেখা দেয়।”
স্ক্রিনের আলো থেকে ত্বক সুরক্ষার ৪টি নিয়ম
মোবাইল ও ল্যাপটপের এই অদৃশ্য ক্ষতি থেকে ঘরের ভেতরেও ত্বককে নিরাপদ রাখতে এই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়মগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন।
জিঙ্ক অক্সাইডযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার
সাধারণ কেমিক্যাল সানস্ক্রিনগুলো মোবাইলের নীল আলো পুরোপুরি আটকাতে করতে পারে না।
ডা. জোশুয়া জেইচনারের মতে, “ঘরের ভেতরে থাকার সময়ও এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত যাতে ‘জিঙ্ক অক্সাইড’ বা ‘টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড’ উপাদান থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মিনারেল বা ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন’ বলে এগুলোকে। এই উপাদানগুলো ত্বকের ওপর একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে আয়নার মতো ব্লু লাইটকে প্রতিফলিত করে বাইরে ফিরিয়ে দেয়।”
আয়রন অক্সাইড যুক্ত টিন্টেড সানস্ক্রিন, নীল আলো প্রতিরোধে বেশি কার্যকর।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সেরামের ব্যবহার
নীল আলোর কারণে তৈরি হওয়া ফ্রি-র্যাডিক্যালগুলোকে ধ্বংস করতে ত্বকে প্রতিদিন সকালে ভিটামিন-সি বা ভিটামিন-ই যুক্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সেরাম ব্যবহার করা উপকারী।
এই উপাদানগুলো ত্বকের কোষে এক ধরনের অদৃশ্য রক্ষাকবচ তৈরি করে কোলাজেন ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে। আর অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না।
‘ডিভাইস’-এ নাইট মোড ও ডার্ক ফিল্টার চালু করা
শুধুমাত্র প্রসাধনী মাখাই যথেষ্ট নয়, সরাসরি উৎসের আলো কমানো প্রয়োজন।
প্রতিটি স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের সেটিংসে গিয়ে ‘নাইট লাইট’, ‘আই কমফোর্ট শিল্ড’ বা ‘ডার্ক মোড’ সার্বক্ষণিকভাবে চালু করে রাখা উচিত।
এগুলো স্ক্রিন থেকে বের হওয়া ক্ষতিকর নীল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে কমিয়ে একটি মৃদু হলুদ আলোতে রূপান্তর করে, যা চোখ এবং ত্বক উভয়ের জন্যই নিরাপদ।
কোষের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা ও পানি পানের নিয়ম
ডিজিটাল স্ক্রিন দীর্ঘ সময় ব্যবহারে ত্বক খুব দ্রুত তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা বা পানি হারিয়ে শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
এর প্রতিকারে মস্তিস্ক ও ত্বকের কোষ সতেজ রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ দূষণ দূর করতে সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।
পরামর্শ
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মোবাইল বা ল্যাপটপ পুরোপুরি বর্জন করা সম্ভব নয়। তবে সচেতনতাই পারে এই ডিজিটাল ক্ষতির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে।
‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি’র চিকিৎসকদের মতে, স্ক্রিন থেকে অন্তত এক হাত বা ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রেখে, ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা এবং স্ক্রিন টাইম কিছুটা পরিমিত করে এই ডিজিটাল ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
১
১ মন্তব্য