Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ণ

আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন (শিশুতোষ গল্প)

শিশুতোষ গল্প (গ্রেড-)

 

আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলানিকেতন ভূমি পায়রাবন্দ গ্রাম, যেখানে নীল আকাশের নিচে সবুজের সমারোহ। প্রাকৃতিক শোভায় এই গ্রামখানি যেন ছবির মতো সাজানো। এই গ্রামেই বেড়ে উঠেছে অর্ক, যে মননে মানসে লালন করে— "Dream big to grow big." যার মানসপটে সর্বদা অনুরণিত হয়, "পথ পথিকের সৃষ্টি করে না, পথিকই পথের সৃষ্টি করে।"

সমুদ্রের অতল তলে কত মণিমুক্তা লোকচক্ষুর অন্তরালে বালি-কাদার মধ্যে পড়ে থাকে, কত গিরি-উপত্যকায় কত ফুল ফুটে আপন মনে ঝরে পড়ে! অর্ক যেন এরই প্রতিচ্ছবি। অজপাড়া গাঁয়ের এক দুর্দান্ত, সাহসী কৌতূহলী ছেলে অর্ক, যার জীবনের স্বপ্ন মহাকাশচারী হওয়া। কারণ সে বিশ্বাস করে, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন সবাই দেখতে পারে। মহাকাশ তো সবার জন্য!

একদিন বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে অর্ক তার স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করলে তারা বলল,
"
তুই তো হুইলচেয়ারে বসে থাকিস, মহাকাশচারী হবি কীভাবে?"

কথাগুলো অর্ককে বিচলিত করল, কিন্তু দমাতে পারেনি। অর্কের মনে পড়ল কবির সেই অমোঘ বাণী

মুক্ত করো ভয়,
আপন মাঝে শক্তি ধরো,
নিজেরে করো জয়।

ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! যার স্বপ্ন একদিন তারার দেশে উড়বে, মহাকাশ হবে যার বাড়ি, তার পা দুটি অচল। জন্ম থেকেই সে হুইলচেয়ারে বন্দি।

আহা! স্বপ্নের কত রং, আকাঙ্ক্ষার কত আঙ্গিক!

সে তার বিজ্ঞান বইতে মহাকাশযান, গ্রহ-নক্ষত্রের ছবি দেখত আর নিজের মনে স্বপ্ন বুনত। স্টিফেন হকিংয়ের হুইলচেয়ারে বসে থাকার ছবি তাকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করেছিল।

অর্ক জানত, মাটিতে মাটি লেখা যত সহজ, জলে জল লেখা তত সহজ নয়। তাই সে বিজ্ঞান নিয়ে আরও বেশি পড়তে লাগল, রকেট নিয়ে গবেষণা শুরু করল।

একদিন বিজ্ঞান শিক্ষক ক্লাসে ঘোষণা দিলেনআগামী সপ্তাহে বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উপজেলার প্রায় ২০টি স্কুল অংশগ্রহণ করবে। সেই মেলায় কেউ সৌরজগতের মডেল বানিয়েছে, কেউ রোবট বানিয়েছে। অর্ক বানিয়েছে মহাকাশযানের মডেল। সে বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, "এই রকেট একদিন এমন হবে, যেখানে সবাই যেতে পারবেএমনকি যারা হাঁটতে পারে না, তারাও!"

তার কথা শুনে সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। বন্ধুরা তাকিয়ে দেখল, অর্কের চোখে এক অদম্য বাসনা।

কিন্তু তার কিছু বন্ধু তাকে নিয়ে হাসাহাসি করল। এক বন্ধু বলেই ফেলল, "মহাকাশচারী হতে গেলে তো অনেক কসরত করতে হয়, দৌড়াতে হয়, ভারী জিনিস তুলতে হয়! তোর পক্ষে এটা সম্ভব না!"

সে যেন এক শূন্যতার মাঝে ডুবে গেল। হঠাৎ এক স্বপ্নালু ভাব তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। সে তার বন্ধুর নেতিবাচক কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজে মনোনিবেশ করল। সে প্রতিদিন পড়াশোনা করত, শরীরকে শক্তিশালী করার জন্য বিশেষ ব্যায়াম করত। এভাবেই কেটে গেল কয়েক বছর।

অতঃপর, যখন সে দশম শ্রেণির ছাত্র, সে নাসার এক প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন করল। সেই প্রতিযোগিতায় বিচারক তার সহপাঠীদের অবাক করে দিয়ে সে বিজয়ী হলো।

সেদিন তার সহপাঠীরা বুঝল, "অধরা স্বপ্নকেও ছোঁয়া যায়!"

মাস পেরিয়ে বছর গেল। একদিন সত্যি সত্যিই অর্ক খবর পেল, সে নাসায় কাজ করার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এক ধরনের বিশেষ প্রযুক্তির স্পেসস্যুট তৈরি করা হচ্ছে তার জন্য, যাতে থাকবে হুইলচেয়ার প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি তাকে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করবে মহাশূন্যে।

ছোটবেলায় অর্ক যখন রাতের আকাশে তারা দেখে স্বপ্ন বুনত তারা ছোঁয়ার, আজ সে স্বপ্ন তার হাতের মুঠোয়।

বন্ধুরা বলল, "অভিনন্দন, বন্ধু! তুমি প্রমাণ করলে, স্বপ্নরা মরে না।"

অর্ক মনের অগোচরে বিড়বিড় করে বলতে থাকে"মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়!"

 

লেখকঃ মোঃ মানিক হোসেন,

সহকারী শিক্ষক, খলিশাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সদর, নোয়াখালী।

এম. (ইংরেজি) ; এম.এস.এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) , ডিপি.এড , বি.এড

 

 

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ