সহকারী শিক্ষক
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
আমিও পারবো (শিশুতোষ গল্প)
আমি পারবো!
রাতুল, স্কুল পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী। সে তার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। যার রয়েছে শক্তিশালী বুদ্ধিভিত্তিক সামর্থ্য ও উদ্দেশ্য সাধনে নাছোড়বান্দার মত পড়ে থাকার বিপুল ক্ষমতা। পথ যতই বন্ধুর হোক , লক্ষ্য অর্জনে অবিচল।
রাতুলের স্কুলে সামনের মাসে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সে খুবই চিন্তিত কারন তার পূর্বের স্মৃতি সুখকর নয়। গতবছর সে দৌড় প্রতিযোগিতায় খুবই বাজে পারফরম্যান্স করেছে। এবারও স্কুলে সহপাঠীরা বলাবলি করছে, রাতুল দৌড়ে ভালো না।“ এসব কথা তাকে ব্যথিত করে তবে দমে যাওয়ার পাত্র সে নয়। কারন সে বিশ্বাস করে ব্যর্থতা একটি পথ ; এটি কোন শেষ রাস্তা নয়।
বাসায় ফিরে সে তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করল, "বাবা ,আমি কি দৌড় প্রতিযোগিতায় এবার জিততে পারবো?"
বাবা তাকে বললেন, " তুমি কি রবার্ট ব্রুসের গল্পটা ভুলে গেছো? যেটা আমি তোমাকে কিছুদিন আগেও শুনিয়েছিলাম। বাবা, জেতার জন্য আগে বিশ্বাস করতে হবে যে তুমি পারবে। ভয়কে পাশ কাটিয়ে যখনই তুমি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারবে; তখনই তোমার পরিশ্রম সার্থক হয়ে উঠবে। সফলতা এসে ধরা দিবে তোমার হাতে। !"
বাবার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে পরেরদিন থেকেই সে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করল। ভোরবেলা উঠেই মাঠে গিয়ে অনুশীলন করা , পায়ের ব্যায়াম করা, আর খাবারে পুষ্টিকর খাবার যোগ করা—সবকিছুই সে মন দিয়ে করল।
ছেলের অদম্য ইচ্ছে দেখে বাবা খুবই খুশি ;পাশাপাশি ছেলের কষ্ট দেখে কিছুটা বিচলিত হলেন। পিতৃত্বের স্নেহকে পাশ কাটিয়ে বাবা ছেলেকে উৎসাহ দিলেন এই বলে, “কষ্ট ও ধৈর্য্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়েই সফলতা আসে।“
রাতুল বলল, “ বাবা, তোমার আবৃতি করা কবিতা “একবার না পারিলে দেখো শতবার” আজও আমার কানে বাজে। এটি আমার পথচলার আলোকমিনার।
এভাবেই অনুশীলনের মাধ্যমে অতিবাহিত হলো কিছু দিন। একদিন রাতুলের বাবা রাতুলের অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করার জন্য মাঠে এলেন। রাতুলের বাবা পেশাগত জীবনে একটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক। তাই এই বিষয়ে রাতুলের বাবার ভালো জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। তিনি ছেলেকে কিছু কৌশল শিখিয়ে দিলেন। বাসায় এসে ভিডিও দেখিয়ে কৌশলগুলো আরো ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলেন।
অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিযোগিতার দিন চলে এল। পুরো বিদ্যালয়কে রঙিন সাজে সাজানো হলো।
রাতুলকে উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। তার বাবা সেটা বুঝতে পেরেছিল।
বাবা বলল, “পৃথিবী জয় করার প্রবল ইচ্ছা থেকেই নেপোলিয়ন পুরো ইউরোপ জয় করেছিল।আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিল।বাবা, আজ তোমার জয়ের দিন।“
রাতুল বিড়বিড় করে বলতে লাগল, "আমি পারবো! আমাকে পারতেই হবে!"
রেফারির হুইসেলের সাথে সাথে দৌড় শুরু হলো। প্রথমে রাতুল পিছিয়ে পড়েছিল কিন্তু সে মনোযোগ হারায়নি।তার চোখের সামনে ভেসে উঠল বিশ্ববিখ্যাত দৌড়বিদ “উসাইন বোল্ট।” সে শিখেছে, শেষ পর্যন্ত লড়াই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাঝপথে একে একে কয়েকজন ক্লান্ত হয়ে পড়ল, কিন্তু রাতুল তার গতি ধরে রাখল। শেষের দিকে সে আরও জোরে দৌড়াতে শুরু করল।
চূড়ান্ত লাইনের ঠিক আগে সে বুঝল, সে প্রায় সবার থেকে এগিয়ে গেছে! ফিনিশ লাইনে পৌঁছানোর সঙ্গে
সঙ্গেই ঘোষক বললেন, "রিয়াদ প্রথম হয়েছে!"
সে বিস্মিত হল! তার হৃদয়াকাশে আনন্দের রংধনুর যে অপরূপ রুপ ধারন করেছিল ,তা তার চেহারাতে ফুটে উঠেছিল। দর্শকরা হাততালি দিচ্ছে, বন্ধুরা চিৎকার করছে, আর অনির্বচনীয় আনন্দের এক অপূর্ব হিল্লোল বয়ে গেল রাতুলের বাবার মনে।
তার বন্ধুরা তাকে অভিনন্দন জানালো এবং বলল, জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যে সাধনা ও একাগ্রতা প্রয়োজন, তুমি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ, বন্ধু।“
রাতুল বিজয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনুধাবন করল, সবচেয়ে বড় জয় শুধু দৌড় জেতা নয়, নিজের ভয়কে জেতা।
রাতুলের দেহের দুয়ারে নয়, আত্মার গভীরে ছিল একটি মাত্র আবেদন, “আমিও পারবো।“
|
মোঃ মানিক হোসেন সহকারী শিক্ষক খলিশাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। |
১৩
১৮ মন্তব্য