Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০৩ অপরাহ্ণ

শৈশবের ছায়াতলে নেতৃত্বের পাঠ ( NAPE এর ম্যাগাজিন "শিক্ষা বার্তায়" প্রকাশিত)

শৈশবের ছায়াতলে নেতৃত্বের পাঠ

 

দেখি, শুনি, স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য। বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সুবাদে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমা হয়েছে অসংখ্য গল্প। আর নশ্বর জীবনের সব গল্পরাই শুধু হয়ে থাকে অবিনশ্বর। যে গল্পে চোখ শীতল হবে, হৃদয় তৃপ্ত হবে, অন্তর প্রশান্ত হবে।

আমার সরল সৌন্দর্যতিয়াসী মন সময়ের সুরঙ্গ ধরে সুদূর অতীতে ফিরে যেতে চায় লীলায় বা অবলীলায়। যেখানে থরে থরে সাজানো আছে কচিকাচার স্মৃতিকথা, যা আমার দেহের দুয়ারে নয়, আত্মার গহীনে রেখেছে গভীর নিবেদন। আমার আত্মার গহীনে স্মৃতিগুলো আমাকে জানান দেয়বুঝি বা অবচেতনেরও অবচেতনেতারা আমার খুবই প্রিয়। প্রিয় মানুষ, প্রিয় মুখ, প্রিয় মুহূর্ত, প্রিয় ছবি, প্রিয় জিনিসের প্রতি আমার দুর্বার আকর্ষণ।

একজন স্মৃতিকাতর মানুষ হিসাবে এই জিনিসগুলো আমার অন্তরেও আনন্দের এক অপূর্ব হিল্লোল বয়ে নিয়ে চলে। শিশু মনের আকুতি, তাদের মুখের বচন, চলার ধরন, কাজের প্রকৃতি, চিন্তাজগতের গঠন অন্তর্নিহিত ধারণা আমাকে ভাবায়, আন্দোলিত করে। তন্মধ্যে শিশু বয়সে নেতৃত্বের গুণআমার উপলব্ধির সূচনাবিন্দু।

শৈশবএক উজ্জ্বল সকালের নাম। শিশুর মন যেন কচিপাতা। এই কচিপাতার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকে জীবনীশক্তি নামক অপার সম্ভাবনার আলো। সেই আলোর মাঝে একটিই দীপ্ত রেখানেতৃত্ব। পৃথিবীর কঠিন সব কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো নেতৃত্ব দেওয়া। নেতৃত্ব দিতে সাহস আত্মবিশ্বাস থাকতে হয়। নেতৃত্ব মানে প্রভাবিত করা, এগিয়ে চলা এবং অন্যকে পথ দেখানো।

আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব বিশেষজ্ঞ জন ম্যাক্সওয়েল এর ভাষায়, Leadership is not about titles, it is about influencing others. নেতৃত্ব বয়সের নয়, মনে ধারণ করা গুণের বিষয়। আর শৈশব নেতৃত্ব হলো সেই দীপ্ত প্রদীপ, যা নিজে জ্বলে আর অন্যকে পথ দেখায়। শৈশব নেতৃত্ব কোনো বড় মঞ্চে জন্ম নেয় না; বরং তা জন্ম নেয় বিদ্যালয়ের উঠোনে, শ্রেণিকক্ষে সকাল বেলার সমাবেশে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে, স্কুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযানে, খেলাধুলায় দল নেতৃত্বে, সমাজসেবামূলক কাজে, দেয়ালপত্রিকা প্রকাশ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনকার কর্মকান্ডে সততা, সাহসিকতা দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব গুণ ধীরে ধীরে মহীরুহে পরিণত হয়।শৈশব নেতৃত্বের প্রতি বিমুগ্ধ হয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন

বিস্ময় আমি বিস্ময়, আমি শিশির, আমি শিশুগণ
আমি ভোরের কিশোর-বেলায় নব উজ্জ্বল জীবন।

 

নেতৃত্ব মানে শুধু বড়দের হাতে ক্ষমতার ব্যাটন নয়, ছোট্ট হাতেও লুকিয়ে থাকে নেতৃত্বের দীপ্তি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা যখন ছোট ছোট উদ্যোগে নেতৃত্ব দেখায়, তখন হয়ে উঠে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রথম পাঠ।

পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কাজলী আক্তার প্রাত্যহিক সমাবেশে তার নেতৃত্বগুণ দেখে আমি বিমোহিত। তার দরদপূর্ণ কণ্ঠ ইথারে ইথারে শিক্ষার্থীরা শুনতে পায়। সে যখন বলে, “বন্ধুরা, জাতীয় সংগীত শুরু হতে যাচ্ছে, সবাই চুপ করো।তার কথায় সহপাঠীরা সাড়া দেয়এটাই তো নেতৃত্বের স্বপ্নবীজ। সে যখন দেখে তার সহপাঠীরা জাতীয় সংগীতের জন্য লাইনে ঠিকঠাক দাঁড়ায়নি, তখন সে মুচকি হেঁসে স্মরণ করিয়ে দেয়, “চলো সবাই ঠিক হয়ে দাঁড়াই, এটা তো আমাদের সম্মানের গান।

চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল মুরাদ, স্বভাবে শান্ত সৌম্য। দেখে বোঝার উপায় ছিল না তার ভিতর রয়েছে নেতৃত্বের স্ফূলিঙ্গ। সমুদ্রের প্রশান্ত জলরাশির মধ্যে যেমন লুকিয়ে থাকে সুনামিপ্রয়োজন হয় একটা মৃদু ভূমিকম্পের; অরণ্যের সুশীতল ছায়ার মাঝে যেমন ঘুমিয়ে আছে দাবানলের শক্তিদরকার হয় একটা দিয়াশলাই। মুরাদ ছেলেটাকে আমি পেয়েছিলাম তেমনই। কোন এক পড়ন্ত দুপুরে তাকে অফিসে নিয়ে অনুপ্রাণিত করেছিলাম, বুঝিয়েছিলাম দায়িত্ব নেওয়া, নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে।

তাকে শুধালাম, “কলমে যতই কালি থাকুক, যদি তার নিপ ভেঙ্গে যায় তবে সে নতুন গল্প লিখতে পারে না। জীবনটাও একই রকম; যদি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যায়, তবে প্রতিভা যতই থাকুক, কোন কাজে আসে না।সেদিন তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলাম আত্মবিশ্বাসী, ন্যায়বোধসম্পন্ন মানবিক মানুষ হওয়ার জন্য।

তার প্রতিফলন দেখতে পেয়েছি কয়েক মাস পরবর্তী একটি কার্যক্রমে। তখন আমার হৃদয়ের অন্দরমহলে একটি কথায় প্রতিধ্বনিত হয়েছিল—“আরম্ভেরও আরম্ভ আছে।দেয়ালপত্রিকা উৎসব উপলক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের জন্য আহবান করেছিলাম। দু-একজন সাড়া দিলেও অনেকেই দ্বিধান্বিত ছিল, তখন মুরাদ তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যকে পাশ কাটিয়ে সাহস করে বলল, “আমরা যদি গল্প-ছড়া না লিখি, তাহলে দেয়ালপত্রিকায় কে লিখবে?” তার ডাকে সাড়া দিল পুরো ক্লাস। সে হয়ে উঠল নেতৃত্বের এক অনন্য মুখ। সেই থেকে তার কবিতা লেখার হাতেখড়ি।

সে আমাদের বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল। বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সে নিজের লেখা কবিতা পাঠ করত। কথায় তার মধু ছিল, কণ্ঠে ছিল সুর। সে সুরে মোহিত হত শিক্ষক ভক্তকুল। জেএসসি সমাপনী পরীক্ষা বিদায় উপলক্ষে অনুষ্ঠানে সে সকল শিক্ষকদের বৈশিষ্ট্য অবদানকে বিবেচনায় নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিল এবং পাঠ করে আমাদের শুনিয়েছিল।

বর্তমানে মুরাদ একজন কবি। তার কবিতার বই প্রকাশিত হওয়ার দিন আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তখন হৃদয় সরোবরে সুখ তরঙ্গ যেন উথলে উঠলো এবং কৃতজ্ঞতার অশ্রু যেন মুক্ত বিন্দু হয়ে ঝরে পড়ল। হৃদয়ের সবটুকু আবেগে উত্তাপে কম্পিত হয়ে আমি বিড়বিড় করে আবৃত্তি করলাম


ভবিষ্যতের লক্ষ্য আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।

 

আফওয়ানপোশাকে আচরণে যতটা মার্জিত, তার চেয়ে ঢের গুণ বেশি মার্জিত উদ্যমী সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে। তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সে তার কার্য দিয়ে তার বয়সকে অতিক্রম করেছে।

প্রতিবছরের ন্যায় বছরও আমাদের বিদ্যালয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেয়। সেখানে প্রত্যেক শিক্ষক একটি করে গাছ রোপণ করে আর শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে সেটা পর্যবেক্ষণ করে। আফওয়ান, “সময়ের সন্তানহয়ে সে দিন বলে উঠল, “বন্ধুরা! এসো, একসাথে কাজ করি।সে দল গড়ে তোলেসেই মুহূর্তেই সে হয়ে ওঠে ক্ষুদ্র অথচ গর্বিত এক নেতা। সে হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের কাছে পথচলার আলোকমিনার। আর আমি, আদম, তখন সত্যতা খুঁজে পাইকাহলিল জিবরানেরসেই বিখ্যাত কবিতার চরণে তোমার সন্তানেরা তোমার সন্তান নয়, তারা সময়ের সন্তান।

 

প্রত্যেকটি দরজা খোলার জন্য একটি চাবি আছে, একইভাবে প্রত্যেকটি হৃদয় জয় করার জন্য একটি পন্থা আছে। সেদিন আফওয়ানও তার শৈশব নেতৃত্বগুণে শিক্ষকদের মন জয় করেছিল।

 

শিক্ষক হিসেবে আমি শৃঙ্খলা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শ্রেণিকার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। প্রতি বছরের শুরুতে আমি শ্রেণি শিক্ষক হিসেবেক্লাস ক্যাপ্টেননির্বাচন করি। আমি সিলেকশন নয়, বরং ইলেকশনকে নেতা নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি মনে করি। এতে করে শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিজের পছন্দকৃত নেতা কর্তৃক শাসিত হওয়ার বাসনা পূরণ হয়।ক্লাস ক্যাপ্টেনপদপ্রার্থীদের শ্রেণিকক্ষের সামনে এনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতে বলি। তাদেরকে ভোট দিলে তারা শ্রেণিকক্ষে কী কী সেবা প্রদান করবে? তাদেরকে ভোট দিয়ে ক্লাস ক্যাপ্টেন হিসেবে কেন নির্বাচিত করবে তাদের সহপাঠীরা, তা তুলে ধরে বক্তব্য দিতে উৎসাহ দিই।

কৌতূহলী মনের পাতা উল্টে দেখি, আমার জন্য অপেক্ষা করছে আর একটি বিস্ময়নিয়াজ মারুফ। পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী, সে সাবলীলভাবে বলতে লাগলো তাকেক্লাস ক্যাপ্টেনহিসেবে শ্রেণিকক্ষে কেন দরকার? সে তার সহপাঠীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যের শুরুতে সম্বোধন করল, “বন্ধুরা, তোমরা আমার চোখের জলের মতিহার। তোমাদের কিছু দেব বলে চায় যে আমার মন, নাইবা তোমাদের থাকলো প্রয়োজন।অতঃপর সে তার দায়িত্বের কথা উপস্থাপন করল।ছেলেটিকে দেখে আমার অন্দরমহলে এই বিশ্বাস জন্ম নিল, সে সহজাত নেতৃত্বগুণ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। সৌভাগ্যের বিষয় হলো তার সহপাঠীরাও তাকেই ক্যাপ্টেন হিসেবে নির্বাচিত করলো। আমি তার নেতৃত্বে শাসনের মনোভাব নয়, বরং দেখেছি দায়িত্ববোধ আর সহমর্মিতার ছাপ।শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, শ্রেণিকক্ষ পরিচ্ছন্নতা, সহপাঠীদের প্রতি সহমর্মিতা, সহপাঠীদের মধ্যে ঝগড়া মিটিয়ে দেওয়া, সহপাঠীদের সাথে বন্ধুর মতো আচরণইত্যাদি যেন নেতৃত্বের এক অনুশীলন।

নিঝুম রাত্রির অমানিশা জয় করে অগ্রগতির বর্তমান পেরিয়ে আশার ভবিষ্যতের দিকে ছুটে যাওয়া এক বালকের গল্পপঞ্চম শ্রেণির পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সে একজন। দারিদ্র্যের সাথে লড়াই যেন তার নিয়তি। বিনয়, মান্যতা খেলাধুলায় তার জুড়ি মেলা ভার, কিন্তু পড়াশোনায় তার যত অনীহা। খেলার মাঠে তার ক্ষিপ্রতা, দৌড়ানোর গতি বল নিয়ন্ত্রণের কারিশমা দেখে আমি মুগ্ধ। তাকে দলনেতা করে আমাদের বিদ্যালয়ের ফুটবল টিম গঠন করা হলো। দলকে উজ্জীবিত করা নেতৃত্ব দেওয়ার সকল গুণাগুণ তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। তারই নেতৃত্বে আমাদের বিদ্যালয় উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ছেলেটাকে দেখে আমার একটি কথাই মনে পড়ে সমুদ্র না পাওয়া জলকণারাই মাটির খোরাক।

 

এই পৃথিবীর পান্থশালায়, আনাচে-কানাচে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের জীবনের চিত্রনাট্যে ভাগ্য বিমাতা সুলভ আচরণ করেছে। ফুটবল খেলার পারদর্শিতা দেখে ছেলেটির প্রতি আমার ভালোবাসার নৌকা পাহাড় বাইয়া চলে।

 

 

দুই জোড়া বছর আগের কথা। পঞ্চম শ্রেণিতে প্রিয় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার প্রয়াসে মুখ থেকে নিঃসৃত হলো
তোমরা ব্যক্তির মত হও, যার পা থাকে জমিনে আর তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী মাথা থাকে সুরাইয়া তারকার চেয়েও উঁচুতে।

 

সুরাইয়াসম্ভ্রান্ত পরিবারের এক রাজকন্যা, কে জানতো কথার এই লালিত্য তাকে ভাসাবে ভাবের তরঙ্গে, আবেগের উচ্ছ্বাসে। সেদিন থেকেই সে স্বপ্ন বুনেছিল ডাক্তার হওয়ার। আমি প্রধান শিক্ষক মহোদয় যখন ক্ষুদে ডাক্তার টিম গঠন করার প্রয়াস চালাচ্ছিলাম, তখন আশার আলোকে উদ্দীপ্ত হয়ে চাঁদমুখ বদনটি আরজ করলসে ক্ষুদে ডাক্তার টিমের দলনেতা হতে চায়। নেতৃত্ব দেওয়ার এই বাসনা আমাকে শুধায়—“ঢেঁকিশালে যদি মানিক পাই, তবে কেন পর্বতে যাই?” এভাবেই গঠন হলো ক্ষুদে ডাক্তার টিম। মেয়েটিকে যখন গ্রাউন পরিহিত অবস্থায় প্রত্যেক শ্রেণিতে কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ, শিক্ষার্থীদের দৈর্ঘ্য পরিমাপ ওজন পরিমাপে তার দলকে নেতৃত্ব দিতে দেখি, তখন আমার স্বপ্ন, কল্পনা চিন্তা-বাসনার বাগানে একটি কথাই প্রতিধ্বনিত হয়

জীবন আকর্ষণ করে জীবনকে। বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী ইনজুরির হওয়া মাত্রই ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে সেবা দিতে যাওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা আমাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়নেতৃত্ব মানে সর্বাধিক দায়িত্বশীলতা।

 

শৈশব হলো নদীর প্রথম ঢেউযে ঢেউ হয়তো ছোট, কিন্তু তাতে থাকে সাগরের স্বপ্ন। বুবার কিংবা লেভিনাসের দর্শনও এই অকাট্য সত্যকে ভুল প্রমাণ করতে পারবে না বলে আমার বিশ্বাস। শৈশবই নেতৃত্বের সূতিকাগার আর শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা। নেতৃত্ব শিক্ষা একই সূত্রে গাঁথা। সম্পর্কে জন এফ. কেনেডি বলেছেন“Leadership and learning are indispensable to each other.” শিশুদের হাত ধরেই একদিন গড়ে উঠবে সমাজের নেতৃত্ব, মানবতার আলোয় উদ্ভাসিত হবে এই পৃথিবী।

 

আহা! সত্য প্রতিষ্ঠার কী অপূর্ব প্রতীতি।

 

 

লেখকঃ মোঃ মানিক হোসেন

      শিক্ষক

খলিশাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নোয়াখালী সদর, নোয়াখালী।

মোবাইলঃ ০১৯৮৯৩৩০৬৩৩

ই-মেইলঃ [email protected].

 

মন্তব্য করুন