সহকারী শিক্ষক
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ণ
দাম্পত্য জীবন নিয়ে আমার দর্শন
My Philosophy about Conjugal Life.
সবাই চায় বিবাহিত জীবন সুখের হোক, দুজনে মিলে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাতে সফল হোক। এই বাসনা নিয়েই দাম্পত্য জীবনের শুরু। তাই শুরুটা হয় স্বপ্নের মতো। তখন প্রেমিক মনের চাওয়াটা হয় এমন-
ওগো ললনা! আমি দাঁড়ি, তুমি কমা
ক্ষতি কি যদি হও আমার প্রিয়তমা।
তাই অযুত স্বপ্ন নিযুত কল্পনা নিয়ে একটা দাম্পত্য জীবন নদীতে ডিঙি চড়ায়। যেহেতু নদীতে স্রোত থাকে তাই জীবন নদী হয় বেগবান। অর্থাৎ জীবনে আসে দ্বন্দ্ব। যাবতীয় আশা-ভরসার কণ্ঠ রোধ করে জীবনে আসে শীত আর বর্ষা। তখন জীবনের সেই অমোঘ সত্যটি চোখের সামনে রঙলীলা করে।
When sorrow come,they come not single spies but in battalions.
তখন আমরা অনেকেই দলছুট ভেড়ার মত হয়ে যায়। সুখ খুঁজতে থাকি অন্য এক রঙিন কল্পনায়। আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি অধিকাংশ পুরুষ ঘরে স্ত্রী সন্তান থাকা সত্ত্বেও পর নারীর প্রতি আসক্ত। কেউ সিরিয়াস আবার কেউ টাইম পাস করার মানসে। তারা ভুলে যায়," ম্যারেজ কাপলদের শিশু,বাচ্চাদের হিসু আর মনের মধ্যে ট্রাস্ট ইস্যু " এই তিনটি হল চরম অনিশ্চিত বিষয়। মানুষের রসনা বড় ভয়ানক বস্তু। পরকিয়ার রসনায় আসক্ত হওয়া বিষাক্ত সাপের রসনার চেয়েও ভয়ঙ্কর। স্ত্রী/ স্বামীর প্রতি তাদের এই বিশ্বাসঘাতকতা আমাকে ব্যথিত করে। তাই কবি ওবায়দুলের মতো অভিমানী হ্রদয়ে বলতে ইচ্ছে করে- " তুমি কি কখনোই ভালো হবে না, মাসুদ?"
আমাদের বিশ্ব সমাজে স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন তথা বোঝাপড়া যে কতটা দুর্বল তা Robert Frost তার বিখ্যাত কবিতা "Home Burial" এ সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন -"একজন পিতা নিজ হাতে তার সন্তানকে দাফন করার কারণে সেটা তার স্ত্রী মেনে নিতে পারছেন না। এতে করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হল এবং সম্পর্কের এতটাই অবনতি হল একপর্যায়ে স্ত্রী স্বামীর সংসার ত্যাগ করে চলে যেত উদ্ধত হলো। অনুরুপ চিত্র আপনি আমাদের সমাজে দেখতে পাবেন। অনেকেরই দাম্পত্য জীবনে প্রেম নেই, আকর্ষণ নেই, চাহিদা নেই, কামনা নেই, বাসনা নেই। এমনকি রাগ- ক্ষোভ- ক্রোধগুলো যেন হারিয়ে গেছে। ঠিক যেন জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ এর মতো। আপনি অনেক দম্পতি খুঁজে পাবেন যারা শুধুমাত্র "লোকে কি বলবে?" এই ভাবনায় বেড শেয়ার করছেন।
আমাদের স্ত্রীদের মনে রাখা উচিত-" বিয়ের আগে ছেলেরা যতটা সৌন্দর্যের পিছনে ছুটে, বিয়ের পরে তার চেয়ে বেশি আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা খুঁজে।"
Christopher Marlow তার Dr. Faustus নাটকে দেখিয়েছেন Dr. Faustus তার অর্জিত জ্ঞানের কারণে নিজেকে ইন্ডিসপেনসিবল ভাবতেন। ঠিক তেমনি দাম্পত্য জীবনে আমরা অনেকে নিজেকে ইনডিসপেনসিবল ভাবী
যা দাম্পত্য জীবনে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক।
Marianne Williamson তার লেখা বই "A Return to Love " এ দেখিয়েছেন দাম্পত্য জীবন সুখময় ও স্বর্গীয় করার জন্য যে জিনিসটা খুবই অপরিহার্য তা হল ভালোবাসা। তিনি যা চিত্রিত করেছেন এইভাবে -
Love in your mind produces love in your life. This is the meaning of the heaven.
আমাদের সমাজে আরেকটি চিত্র পরিলক্ষিত হয়। আর সেটা হল স্বামী/ স্ত্রী তার স্ত্রী/ স্বামীকে মাত্রাতিরিক্ত ভালোবাসেন। এক কথায় অন্ধের মত ভালোবাসেন। এটা কখনোই প্রশংসনীয় কাজ নয়। এটা একটা নির্বুদ্ধিতা। আমাদের মনে রাখা উচিত-
We should not love excessively but we should love wisely.
William Shakespeare তাঁর বিখ্যাত ট্যাজেডি "Othello" নাটকে দেখিয়েছেন - ওথেলো তার স্ত্রী দেসদিমোনাকে অত্যাধিক ভালোবাসতো কিন্তু ওয়াইজলি ভালোবাসে নাই। তাইতো সে ইয়াগোর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তার স্ত্রীকে খুন করে। তাই শেক্সপিয়ার তার নাটকে বলেছেন- "He loved Desdemona excessively but not wisely."
পরিবার শুধু স্বামী- স্ত্রী নিয়ে হয়না, পারিবারে মা- বাবা, ভাই- বোন ও অন্যান্যরাও থাকে। তাই আমি এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, excessively ভালোবাসার চেয়ে wisely ভালোবাসতে পারা তাৎপর্যপূর্ণ।
হাজবেন্ডের সাথে ভাব-সম্প্রসারণে আর শাশুড়ির সাথে সারাংশে কথা বলা স্ত্রীরা যেদিন শিখবে সেদিন দাম্পত্য জীবনে কলহ আরো অনেক বেশি হ্রাস পাবে। রাগ অভিমান,এগুলো দাম্পত্য জীবনের অলংকার। আমাদের মনে রাখতে হবে -
Strong couple will argue and fight. But at the end of the day, they are alright .
মার্কিন লেখক মিগনন- ম্যাকফলিন যেমনটা বলেছিলেন- দায়িত্ব দু-তরফেরই। সম্পর্ক হবে এ রকম। এক জীবনে বারবার প্রেমে পড়া চাই একে অপরের। শুধু দায়িত্ববোধ না, পরস্পরের প্রতি মুগ্ধতা ও থাকা চাই।
পরিশেষে বলতে চাই, পরস্পরের প্রতি আস্থাশীল, স্বহৃদয়, সদয় ও সংবেদনশীল হওয়ার মধ্য দিয়ে সুখী ও ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলাই হোক বিবাহিত যুগলের আরাধনা।
মোহাম্মদ মানিক হোসেন
সহকারী শিক্ষক
খলিশাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
৬৪
১০০ মন্তব্য