Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:০২ পূর্বাহ্ণ

সত্যে ও নিরাপদ সহাবস্থান (দাম্পত্য জীবন) - মোঃ মুজিবুর রহমান


সত্যে নিরাপদ সহাবস্থান

(দাম্পত্য জীবন)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষ গড়ে সংসারখানি
বিশ্বাসেরই তরে,
ভালোবাসার সোনার সেতু
হৃদয় হতে ঝরে।
দুটি প্রাণের মিলনস্রোতে
জাগে নতুন গান,
সুখের সাথে দুঃখও আসে
এটাই জীবনজ্ঞান।

ঘর যে শুধু ইটের দেয়াল,
কাঠ-পাথরের ছাদ,
ঘরকে ঘর বানিয়ে তোলে
স্নেহের অবিরাম স্বাদ।
একটি হাসি, একটি কথা,
একটি কোমল ছোঁয়া,
শুষ্ক হৃদয় ফুলে ভরে,
মুছে দুঃখ-ছোঁয়া।

স্বামী কিংবা স্ত্রীকেউ নয়
অপর কারও প্রভু,
দুজন মিলে গড়তে হয় যে
ভালোবাসার ভূবন।
সম্মানেরই ভিত্তির ওপর
দাঁড়ায় সুখের ঘর,
সত্য, ন্যায় আর বিশ্বস্ততায়
জাগে অনন্ত ভোর।

কথার ভেতর কথার জন্ম,
কথাতেই অবসান,
মনের দুয়ার খুলে দিলে
মেলে সমাধান।
অভিযোগের কঠিন ভাষা
আগুন জ্বালায় প্রাণ,
শান্ত স্বরে সত্য বললে
ফোটে আশার গান।

রাগ যদি হয়, থামো একটু,
ভাবো নীরব হয়ে,
কঠিন বাক্য ফিরিয়ে আনে
অশ্রু ঢেউয়ের বয়ে।
কোমল ভাষা শীতল বাতাস,
শান্ত নদীর ঢেউ,
ভালোবাসার আলো জ্বালে,
হারায় অন্ধ ঢেউ।

শোনা যেমন বড় প্রয়োজন,
তেমনি বলা সত্য,
শুধু নিজের কথাই বললে
বাড়ে মনের ক্লান্ত।
অপরজনের অনুভবও
সমান মূল্যবান,
দুটি হৃদয় শুনতে শিখলে
ফিরে আসে প্রাণ।

ভুল যে হবেমানুষ বলেই,
এটাই চিররীতি,
ক্ষমার মাঝে ফুটে থাকে
মহৎ জীবনের গীতি।
যে ক্ষমাতে অপমান নেই,
আছে ন্যায়ের দীপ,
সে- ক্ষমা হৃদয় জুড়ে
আনে শান্তির নীড়।

পুরোনো ক্ষত রোজ না কেটে
বাড়তে দাও না ব্যথা,
গতকালের ধুলো ঝেড়ে
গড়ো নতুন পথটা।
ভবিষ্যতের আলোকরেখা
ডাকে দুজনকে,
হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলো
সত্যের আলোকপথে।

সন্দেহ যদি মেঘ হয়ে যায়
নীল আকাশের বুকে,
বিশ্বাসেরই সূর্য তখন
উঠুক নতুন সুখে।
গোপনতার অন্ধকারে
জন্ম নেয় অবিশ্বাস,
সত্য কথার নির্মল আলো
আনে নতুন শ্বাস।

অর্থ শুধু জীবনের নয়
সুখের শেষ ঠিকানা,
সম্পর্ক যদি শুকিয়ে যায়,
ফাঁকা থাকে খাজানা।
অল্প নিয়ে সুখী হওয়া
মহৎ হৃদয়ের রীতি,
সন্তুষ্টির নির্মল আলো
ঘোচায় শত ভীতি।

কাজের ভারও ভাগ করে নাও,
ঘর তো দুজনার,
একজন শুধু টানবে কেন
সংসারেরই ভার?
সহযোগিতার মৃদু স্পর্শে
হালকা হয় ক্লান্তি,
পরিশ্রমের সম্মানেতে
ফোটে ঘরের শান্তি।

সময়েরও বড় প্রয়োজন
প্রিয় মানুষের তরে,
একটু বসো পাশাপাশি
দিনের শেষে ঘরে।
একটি চায়ের উষ্ণ কাপে,
একটি মধুর হাসি,
শত ব্যস্ততা ভুলিয়ে দেয়
হৃদয় থাকে ভাসি।

সম্মান ছাড়া ভালোবাসা
দীর্ঘ হয় না কভু,
অপমানের বিষমাখা বাণ
ভেঙে দেয় সব রূপ।
যে সম্মান দেয় মানুষকে
মানুষ হওয়ার তরে,
সে- সম্মান অমর হয়ে
ফুল হয়ে যায় ঝরে।

সন্তানেরা শেখে প্রথম
পিতা-মাতার ঘরে,
শান্ত ভাষা, সত্য আচরণ,
সহমর্মী অন্তরে।
যেমন দেখে, তেমন শেখে,
তেমন গড়ে প্রাণ,
তাই তো ঘরই প্রথম পাঠশালা,
প্রথম বিদ্যাপীঠ মহান।

দাম্পত্য মানে জয় নয় শুধু,
হারও নয় কোনো,
দাম্পত্য মানে পাশাপাশি
জীবন লেখা দুজন।
একজন যদি কাঁদে নীরব,
অন্যজন হোক ঢাল,
একজন যদি ক্লান্ত হয়ে যায়,
অন্যজন দিক বল।

নিরাপদ সেই সংসারখানি,
যেখানে ভয় নাই,
সত্য বলাতে অপমানের
কোনো ছায়া নাই।
যেখানে মতের ভিন্নতা
শত্রু হয়ে ওঠে না,
সংলাপের সেতু গড়ে
ভাঙা মনকে ছোটে না।

সত্য যেখানে দীপশিখা,
ন্যায় যেখানে পথ,
সহমর্মিতা ছায়া হয়ে
রাখে দিনের রথ।
সেখানে ঘর ফুলের বাগান,
সেখানে শান্তি রয়,
সেখানে দুটি হৃদয় মিলে
জয় করে সব ক্ষয়।

ভালোবাসা ক্ষণিক আবেগ
নয় তো শুধু তাই,
প্রতিদিনের সৎ আচরণে
তার পরিচয় পাই।
বিশ্বাস, ধৈর্য, ক্ষমা, মমতা,
ত্যাগের শুভ দান
এসব মিলেই গড়ে ওঠে
সুখী মানবজীবন।

এসো তবে হাতে হাত রেখে
গড়ি নতুন ঘর,
সত্য, ন্যায় আর নিরাপত্তা
হোক জীবনের স্বর।
স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি
সমমর্যাদার গান,
মানবতার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়
সুখী সংসার প্রাণ।

সত্যে নিরাপদ সহাবস্থান

(দাম্পত্যজীবন)

সংসার শুধু ঘর নয় তো,
চারটি দেয়ালখানি,
সংসার মানে দুটি প্রাণের
চিরকল্যাণ-বাণী।
সংসার মানে সুখের দিনে
হাসিমুখে পথ,
দুঃখ এলেও পাশাপাশি
ধরে থাকা হাত।

দুটি নদী মিলেমিশে
যেমন সাগর পায়,
দুটি হৃদয় ভালোবেসে
তেমনি ঘর সাজায়।
একটি প্রাণের স্পন্দনে
অন্য প্রাণের সুর,
এভাবেই তো জীবন জাগে
স্বপ্নে ভরপুর।

ভালোবাসা ফুলের মতো,
যত্ন চায় প্রতিক্ষণ,
অযতনে তার রঙ মলিন,
ঝরে পড়ে মন।
বিশ্বাস তার উর্বর মাটি,
সত্য তারই জল,
মমতা যেন কোমল রোদ,
ফোটায় শুভ ফল।

সত্য যেখানে দীপ জ্বালে,
মিথ্যা পায় হার,
সেই সংসারে শান্তি নামে
অপরূপ অপার।
লাভ-ক্ষতির হিসাব ভুলে
যে রাখে মানবধর্ম,
সেই ঘরটিই হয়ে ওঠে
সুখের পবিত্র মর্ম।

স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি
সমঅধিকারের গান,
একই নৌকার মাঝি দুজন,
একই অভিযাত্রার প্রাণ।
কেউ নয় কারো অধিপতি,
কেউ নয় দাসত্বে,
দুজন মিলে গড়ে তোলে
জীবন সত্যপথে।

রাগের আগুন ক্ষণিক জ্বলে,
ভস্ম করে মন,
ধৈর্যের শিশির নেমে এলে
ফিরে আসে জীবন।
কঠিন কথার ধারাল তীরে
রক্ত ঝরে চুপে,
মধুর বচন অমৃত হয়ে
ফোটে হৃদয়রূপে।

শোনার মধ্যেও ভালোবাসা,
বলায় থাকে দান,
যে শিখে নীরবে শুনতে,
সে- জয় করে প্রাণ।
নিজের কথা বলার আগে
শুনুক সঙ্গীর মন,
তবেই মিলবে শান্তির পথে
নতুন আলোকক্ষণ।

ভুল মানুষই করে থাকে,
তো চিরসত্য,
ক্ষমার ভেতর মহত্ত্ব লুকায়,
এটাই মানবমত্য।
ক্ষমা যদি হয় ন্যায়ের সাথে,
বাড়ে হৃদয়বল,
দাম্পত্য তখন ফুলের বনে
ফুটায় শত দল।

অতীত যদি শৃঙ্খল হয়ে
বাঁধে প্রতিটি দিন,
ভবিষ্যতের সোনার সকাল
হয় না রঙিন।
গতকালের সব অন্ধকার
আজই যাক মুছে,
নতুন সূর্য উঠুক আবার
আলোর রঙে পুছে।

সন্দেহ যখন মেঘের মতো
ঢাকে নীলাকাশ,
বিশ্বাস তখন সূর্য হয়ে
আনে নতুন শ্বাস।
স্বচ্ছ হৃদয়, সত্য ভাষা,
নির্ভেজাল ব্যবহার
এসব নিয়েই টিকে থাকে
সম্পর্ক বারবার।

ঘরের কাজে পাশাপাশি
বাড়াও সেবার হাত,
একজনের সব বোঝা যেন
না হয় দিনের রাত।
সহযোগিতার ক্ষুদ্র কাজে
অগাধ সুখ রয়,
ভাগ করে নিলে ক্লান্তিগুলো
হাসি ফিরে সয়।

সময়েরও আছে দাবি,
প্রিয়জনের তরে,
ব্যস্ততারই ফাঁক গলে বসো
একটু নীরব ঘরে।
একটি চাহনি, একটি হাসি,
একটু মধুর বাণী,
শুকনো হৃদয় সবুজ করে
আনে প্রাণের পানি।

সন্তানেরা দেখে শেখে
মা-বাবারই রীতি,
তাদের ঘরই প্রথম পাঠ,
প্রথম জীবনের গীতি।
সত্য, শিষ্টতা, ভদ্র আচরণ,
সহমর্মী মন,
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে
আগামীর স্বদেশধন।

সুখের দিনে অহংকার নয়,
দুঃখে নয় বিরাগ,
সম্মানেরই সোনার সেতু
রাখুক অনুরাগ।
যেখানে ভয় নেই, অপমান নেই,
আছে মনের স্থান,
সেই সংসারেই ফুটে থাকে
মানবতার গান।

এসো তবে শপথ করি,
সত্য হবে পথ,
ন্যায়ের আলো জ্বালব সবে
প্রতিটি দিবস-রাত।
ভালোবাসা, ধৈর্য, মমতা,
বিশ্বাস অটুট প্রাণ
এসব নিয়েই গড়ে উঠুক
নিরাপদ সহাবস্থান।

মন্তব্য করুন