Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:০৪ পূর্বাহ্ণ

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST)

১৬০৯ সালের এক রাত। ইতালির প্যাডুয়ার আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে গ্যালিলিও গ্যালিলেই একটি সাধারণ কাঠের নলে দুটি লেন্স লাগিয়ে প্রথমবারের মতো মহাকাশের দিকে তাকালেন। সেই ক্ষুদ্র টেলিস্কোপ দিয়ে তিনি দেখলেন চাঁদের পর্বতমালা ও গহ্বর, বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ, শুক্রগ্রহের ক্রমবর্ধমান ও ক্ষয়িষ্ণু দশা, এবং সূর্যের কলঙ্ক। সেই মুহূর্তেই পৃথিবী কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ধারণা ভেঙে পড়তে শুরু করে। এটি ছিল মানবজাতির ইতিহাসে প্রথমবার, যখন আমরা নিজেদের চোখের সীমা ছাড়িয়ে মহাবিশ্বের দরজা খুলে দিলাম।

তারপর কেটে গেল চারশো বছর। টেলিস্কোপের আকার বড় হয়েছে, লেন্স থেকে আয়নায় রূপান্তরিত হয়েছে, কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সবসময় আমাদের দৃষ্টিকে ঝাপসা করে রেখেছে। সেই সীমাবদ্ধতা ভাঙতে ১৯৯০ সালে মহাকাশে পাঠানো হলো হাবল স্পেস টেলিস্কোপ। পৃথিবীর ৫৪০ কিলোমিটার উপরে ঘুরতে থাকা এই যন্ত্র বায়ুমণ্ডলের কোনো বাধা ছাড়াই আকাশের ছবি তুলতে শুরু করল। হাবলের চোখে আমরা দেখলাম বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথের জন্ম, কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশের আলোকচক্র, সুপারনোভার বিস্ফোরণ এবং মহাবিশ্ব যে ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে তার অকাট্য প্রমাণ। হাবল আমাদের শিখিয়েছে—মহাকাশ কেবল নক্ষত্রের সমষ্টি নয়, এটি সময়েরও এক বিশাল খোলা বই।

এখন সেই বইয়ের আরও গভীর পাতা উন্মোচন করছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। ২০২১ সালের শেষে উৎক্ষেপণ হওয়া এই স্বর্ণালি আয়নার দৈত্য ইনফ্রারেড চোখ দিয়ে দেখে। ধুলোমেঘ ও মহাকাশের অন্ধকারকে ভেদ করে এটি পৌঁছে যায় সেই সময়ের কাছে, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল মাত্র কয়েকশো মিলিয়ন বছর। JWST ইতিমধ্যে ধারণ করেছে প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন বছর আগের ছায়াপথের আলো—যে আলো যাত্রা শুরু করেছিল মহাবিস্ফোরণের পরপরই। আমরা এখন প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পাচ্ছি নক্ষত্রের জন্ম, ছায়াপথের গঠন এবং মহাবিশ্বের শৈশবকাল।

গ্যালিলিওর ছোট কাঠের নল থেকে হাবলের কক্ষপথ, আর হাবল থেকে জেমস ওয়েবের স্বর্ণালি আয়না—এই ধারাবাহিক যাত্রা শুধু প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়। এটি মানবমনের কৌতূহলের জয়যাত্রা। আমরা এখন আর শুধু নক্ষত্র গুনছি না; আমরা মহাবিশ্বের উৎপত্তি, তার গঠন এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করছি। আর প্রতিটি নতুন টেলিস্কোপ সেই প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

মন্তব্য করুন