Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:০৮ পূর্বাহ্ণ

আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Special Theory of Relativity)

১৯০৫ সাল। সুইজারল্যান্ডের একটি পেটেন্ট অফিসে বসে তরুণ আলবার্ট আইনস্টাইন প্রকাশ করলেন বিশেষ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Special Theory of Relativity)। তিনি দেখালেন যে স্থান ও কাল আলাদা নয়—এরা একসঙ্গে মিশে আছে ‘স্পেস-টাইম’ নামক এক অবিচ্ছিন্ন কাঠামোতে। আলোর গতি সবার কাছে সমান, এবং সময় নিজেই গতির সঙ্গে ধীর হয়ে যায়। এই তত্ত্বই আমাদের শিখিয়েছে যে ভর ও শক্তি আসলে একই জিনিসের দুই রূপ—বিখ্যাত সমীকরণ E=mc2 E = mc^2 E=mc2-এর মাধ্যমে।

দশ বছর পর, ১৯১৫ সালে আইনস্টাইন আরও গভীরতর এক বিপ্লব ঘটালেন—সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (General Theory of Relativity)। তিনি বললেন, অভিকর্ষ কোনো রহস্যময় বল নয়। ভারী বস্তু স্পেস-টাইমকে বাঁকিয়ে দেয়, আর অন্য বস্তু সেই বাঁকানো পথে চলে। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে না কোনো অদৃশ্য দড়ির টানে; বরং পৃথিবী স্পেস-টাইমকে এমনভাবে বাঁকায় যে চাঁদ সেই বাঁকা পথেই ঘুরতে বাধ্য হয়।

এই দুই তত্ত্ব মিলে চিরাচরিত নিউটনীয় ধারণাকে আমূল বদলে দিল। আর তার ফল এসেছে সুদূরপ্রসারী।

সাধারণ আপেক্ষিকতার গাণিতিক সমাধান থেকেই জন্ম নিয়েছে কৃষ্ণগহ্বরের ধারণা। আমরা এখন জানি, যথেষ্ট ভারী কোনো নক্ষত্রের মৃত্যুর পর স্পেস-টাইম এতটাই বাঁকে যায় যে আলো পর্যন্ত বেরিয়ে আসতে পারে না। হাবল ও জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের ছবিতে আমরা ইতিমধ্যে সেই কৃষ্ণগহ্বরের ছায়া ও তার চারপাশের জ্বলন্ত চক্র দেখেছি।

একই তত্ত্ব থেকে এসেছে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের ধারণা। আইনস্টাইন নিজে প্রথমে বিশ্বাস করেননি, কিন্তু পরবর্তীতে হাবলের পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করেছে—মহাবিশ্ব স্থির নয়, এটি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। আর এই সম্প্রসারণের হিসাব আজ মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের ভিত্তি।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যবহারিক ফল হলো আধুনিক GPS প্রযুক্তি। উপগ্রহগুলো পৃথিবীর চারপাশে এত দ্রুত ঘোরে এবং পৃথিবীর অভিকর্ষের প্রভাবে তাদের ঘড়ি এত সামান্য হলেও ধীর হয় যে, আপেক্ষিকতার সংশোধন ছাড়া GPS-এর নির্ভুলতা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ভুল হয়ে যেত। আজ আমরা মোবাইলে যে মিটার-স্কেলের অবস্থান পাই, তার পেছনে আইনস্টাইনের সমীকরণই কাজ করছে।

একটি তরুণ বিজ্ঞানীর দুইটি গবেষণাপত্র—১৯০৫ ও ১৯১৫—মানুষের চিন্তাধারা, মহাকাশবিজ্ঞান এবং দৈনন্দিন প্রযুক্তি—সবকিছুকেই নতুন করে গড়ে দিয়েছে। স্থান, কাল ও অভিকর্ষ আর আগের মতো নেই। আমরা এখন এক বাঁকানো, প্রসারিত এবং রহস্যময় মহাবিশ্বে বাস করি—যার মানচিত্র আইনস্টাইনই প্রথম এঁকে দিয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন