Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:১২ পূর্বাহ্ণ

পেনিসিলিন ও অ্যান্টিবায়োটিক (১৯২৮)

১৯২৮ সালের এক শরতের সকাল। লন্ডনের সেন্ট মেরি’স হাসপাতালের পরীক্ষাগারে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ছুটি কাটিয়ে ফিরে এসে দেখলেন, তাঁর স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার পেট্রি ডিশগুলোর একটিতে একধরনের নীলাভ-সবুজ ছত্রাক জন্মেছে। আশ্চর্যের বিষয়—ছত্রাকের চারপাশে ব্যাকটেরিয়াগুলো মরে গেছে বা বৃদ্ধি থেমে গেছে। সেই দুর্ঘটনাবশত জন্ম নেওয়া ছত্রাকটির নাম ছিল Penicillium notatum। ফ্লেমিং বুঝতে পারলেন, এই ছত্রাক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করছে যা ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। তিনি সেই পদার্থের নাম দিলেন পেনিসিলিন


এটি ছিল মানবজাতির প্রথম সত্যিকারের অ্যান্টিবায়োটিক। এর আগে সাধারণ ক্ষত, নিউমোনিয়া, সেপ্টিসেমিয়া, যক্ষ্মা বা প্রসবকালীন সংক্রমণে মানুষ অকালে মারা যেত। যুদ্ধক্ষেত্রে সামান্য গুলির ক্ষতও প্রাণঘাতী হয়ে উঠত। পেনিসিলিন এসে সেই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে দিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হলে লক্ষ লক্ষ সৈন্যের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়। যুদ্ধ শেষে এটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছালে নিউমোনিয়া, স্কারলেট ফিভার, গনোরিয়া এবং আরও অনেক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে মৃত্যুহার নাটকীয়ভাবে কমে যায়।


পেনিসিলিন শুধু একটি ওষুধ নয়—এটি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করেছিল। এর পর থেকে স্ট্রেপ্টোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন, সেফালোস্পোরিনসহ শত শত অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়েছে। অস্ত্রোপচার নিরাপদ হয়েছে, অঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছে, ক্যান্সার চিকিৎসায় সংক্রমণের ঝুঁকি কমেছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির পেছনে পেনিসিলিন ও তার উত্তরসূরিদের অবদান অপরিসীম।

তবু ফ্লেমিংয়ের সেই দুর্ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—বিজ্ঞানের অনেক বড় আবিষ্কারই কখনো কখনো ভাগ্য ও পর্যবেক্ষণের সমন্বয়ে জন্ম নেয়। একটি অবহেলিত পেট্রি ডিশ মানবসভ্যতাকে ব্যাকটেরিয়ার মৃত্যুফাঁদ থেকে মুক্ত করেছিল এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।

মন্তব্য করুন