সহকারী শিক্ষক
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
১৯৫৩ সালের ২৫ এপ্রিল। কেমব্রিজের ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবরেটরিতে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক নেচার জার্নালে একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণাপত্র প্রকাশ করলেন। তাতে তাঁরা ঘোষণা করলেন—ডিএনএ একটি ডাবল হেলিক্স, দুটি সূক্ষ্ম শিকল একে অপরের সঙ্গে পেঁচিয়ে আছে, আর সেই শিকলের ভেতরে অ্যাডেনিন-থাইমিন ও গুয়ানিন-সাইটোসিন জোড়া বেঁধে জীবনের সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত।
তবে এই আবিষ্কারের পেছনে অদৃশ্য কিন্তু অপরিহার্য অবদান ছিল রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিনের। তাঁর তোলা এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন ছবি ‘Photograph 51’ ছাড়া ওয়াটসন-ক্রিকের মডেল সম্ভব হতো না। ফ্র্যাঙ্কলিন ডিএনএর আর্দ্র ও শুষ্ক রূপের পার্থক্য বুঝেছিলেন এবং হেলিক্স গঠনের শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত তাঁর জীবদ্দশায় পূর্ণ স্বীকৃতি মেলেনি, কিন্তু আজ বিজ্ঞানীরা তাঁকে এই আবিষ্কারের সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই মনে করেন।
এই ডাবল হেলিক্স আবিষ্কার জীববিজ্ঞানকে এক নতুন যুগে নিয়ে গেল। বংশগতির রহস্য উন্মোচিত হলো—কীভাবে বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য সন্তানের মধ্যে যায়, কীভাবে কোষ বিভাজনের সময় জিন কপি হয়। এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে আধুনিক জিনতত্ত্ব। অপরাধ তদন্তে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং আজ সাধারণ ব্যাপার। জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর মাধ্যমে আমরা মানুষের সম্পূর্ণ জেনেটিক মানচিত্র তৈরি করতে পেরেছি। আর সবচেয়ে বিপ্লবী প্রযুক্তি CRISPR-Cas9—যার মাধ্যমে এখন নির্দিষ্ট জিন কেটে mon বা সংশোধন করা যায়—এর মূল ভিত্তিও সেই ১৯৫৩ সালের ডাবল হেলিক্স।
একটি অণুর গঠন উন্মোচন করে মানবজাতি জীবনের ভাষা পড়তে শিখেছে। আমরা এখন জিনগত ব্যাধি নিরাময়ের পথে এগোচ্ছি, ক্যান্সারের জেনেটিক কারণ খুঁজে পাচ্ছি, এমনকি ভবিষ্যতে বংশগত রোগ প্রতিরোধের স্বপ্ন দেখছি। ওয়াটসন, ক্রিক ও ফ্র্যাঙ্কলিনের সেই আবিষ্কার শুধু একটি বৈজ্ঞানিক মডেল নয়—এটি জীবনের গোপন নকশা পাঠ করার চাবিকাঠি।
১৩
১৮ মন্তব্য