সহকারী শিক্ষক
১৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু। লন্ডনের রয়্যাল ইনস্টিটিউশনে মাইকেল ফ্যারাডে নামের এক সাধারণ কারিগরের ছেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখালেন—চৌম্বকক্ষেত্র পরিবর্তন করলে তার মধ্যে রাখা তারের কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎপ্রবাহ তৈরি হয়। এই আবিষ্কারই হলো তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশ। ফ্যারাডের হাত ধরেই জন্ম নিল ডাইনামো ও ইলেকট্রিক মোটর। বিদ্যুৎ আর কেবল ল্যাবরেটরির খেলনা রইল না—এটি হয়ে উঠল শক্তির নতুন উৎস।
এরপর মঞ্চে এলেন জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। তিনি ফ্যারাডের পর্যবেক্ষণকে গাণিতিক ভাষায় বাঁধলেন। ম্যাক্সওয়েলের চারটি সমীকরণ প্রমাণ করল যে বিদ্যুৎ ও চৌম্বকত্ব আসলে একই বলের দুই রূপ—তড়িৎ-চৌম্বকীয় বল। আরও বিস্ময়কর কথা—এই বল আলোর গতিতে তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ আলো নিজেই একটি তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ। ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বই পরবর্তীতে হেইনরিশ হার্টজকে রেডিও তরঙ্গ আবিষ্কারে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
এই দুই মনীষীর আবিষ্কার ছাড়া আজকের পৃথিবী কল্পনাই করা যায় না। বিদ্যুৎকেন্দ্রে টারবাইন ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় ফ্যারাডের নীতির ওপর ভিত্তি করে। ইলেকট্রিক মোটর চালায় আমাদের পাখা, লিফট, ট্রেন ও কারখানা। আর ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গই বয়ে নিয়ে যায় রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, ওয়াই-ফাই এবং উপগ্রহ যোগাযোগের সংকেত। আধুনিক ওয়্যারলেস প্রযুক্তির প্রতিটি বিট ও বাইট এই অদৃশ্য তরঙ্গের ওপর নির্ভরশীল।
ফ্যারাডে ও ম্যাক্সওয়েল মিলে প্রকৃতির একটি মৌলিক বলকে মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছিলেন। তাঁদের আবিষ্কার শুধু বিজ্ঞানের অগ্রগতি নয়—এটি মানবসভ্যতাকে অন্ধকার থেকে আলোয়, বিচ্ছিন্নতা থেকে সংযোগে নিয়ে এসেছে। আজ আমরা যে মুহূর্তে মোবাইলে কথা বলি বা ওয়াই-ফাইয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করি, তখনও তাঁদের দেখানো পথেই তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ ছুটে চলেছে।
৭
৬ মন্তব্য