Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ণ

প্যারেন্টিং বলতে কী বুঝি?

                            প্যারেন্টিং বলতে কী বুঝি?

 

Parenting ইংরেজি শব্দ। এর প্রতিশব্দ Child-rearing; Upbringing; Parenthood; Nurturing; Parenting শব্দের বাংলা অর্থ হলো সন্তান লালন-পালন, অভিভাবকত্ব বা সন্তান প্রতিপালন বাবা-মার জন্য সন্তান হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার বিরাট এক নিয়ামত জন্মদাতা পিতামাতা হলেন মূলত প্যারেন্টস এটি বাবা-মা ও সন্তান উভয়ের জন্যই একটি গাইডলাইন। ভালো প্যারেন্টিংয়ের ফল হলো সুসন্তান, সুখি পরিবার, সুনাগরিক, সুস্থ সমাজ এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র, সুশৃঙ্খল জাতি। আবার, প্যারেন্টিং ব্যর্থতার ফল হলো চরিত্রহীন সন্তান, নৈতিক অবক্ষয়, আদর্শহীনতা, সামাজিক অবক্ষয়, পাপাচার বৃদ্ধি, হতাশা, অশান্ত পরিবার, বিশৃঙ্খল রাষ্ট্র এবং বিপর্যস্ত বিশ্ব। তাই ভালো প্যারেন্টিংয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম প্যারেন্টিং শব্দটি উন্নত বিশ্বে খুবই আলোচিত বিষয় হলেও আমাদের দেশের অধিকাংশ পিতা-মাতাই এ বিষয়ে প্রায় অজ্ঞ। তারা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়দের অনুশীলন করা রীতি এবং নিজেদের সাধারণ বুদ্ধি বা কমন সেন্সের উপর যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেকেলে, সময় অনুপযোগী, অবৈজ্ঞানিক এবং গবেষণাভিত্তিক নয় আমাদের অনেকে প্যারেন্টিং বলতে সন্তানের জন্য নামী-দামি খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা এবং তাদের নাদুস-নুদুস স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা বোঝেন। কেউ শুধু সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত। তারা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সন্তানকে বিভিন্ন কোচিং ও প্রাইভেট টিউটরের পেছনে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ান। সন্তানের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মোটেই খেয়াল করেন না। কিছু প্যারেন্ট সন্তানের কোনো বিষয়েই খবর রাখেন না। কিন্তু পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ হলেই শুরু করেন বকাঝকা, মারধর, ভাত বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিসহ নানা শাস্তি। কিছু প্যারেন্ট সন্তানকে নামী-দামি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েই নিজেকে দায়মুক্ত মনে করেন। এরপর তারা শুধু সন্তানের চাহিদা মতো টাকার জোগানই দেন। এ টাকা কোথায় ব্যয় হয় তারা কিছুই জানেন না। কিছু প্যারেন্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সন্তানের পেছনে ছায়ার মতো লেগে থাকেন; কিন্তু এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ রাখেন না কিছু প্যারেন্টের সন্তানের উপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সে কারণে খুব সহজেই পিতা-মাতাকে জিম্মি করে নামী-দামি মোবাইল, ক্যামেরা, ট্যাব, মোটরসাইকেলের সাথে ওয়াইফাই সংযোগ এবং হাজার হাজার নগদ টাকা বাগিয়ে নিচ্ছে সন্তানরা। আবার সংখ্যায় কম হলেও কিছু প্যারেন্ট তাদের সন্তানের সুষ্ঠু গঠন, বিকাশ ও প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দেন। তারা সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে খুবই যত্নবান। এরা সন্তানের সব প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার দিকে লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি স্নেহের শাসনও করেন। তারা সন্তানকে মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসেন; কিন্তু কোনো অন্যায় কর্ম ও আবদারকে প্রশ্রয় দেন না। এরাই যথার্থ প্যারেন্টস নিজের পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। মাঝেমধ্যে আত্মীয়দের বাসায় সন্তানদের বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে। পরিবারে লৌকিকতামুক্ত ধর্ম চর্চার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ ধর্মহীন মানুষ পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট। সামাজিক কাজে ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে হবে। এতে থিউরি শিক্ষাদানের পাশাপাশি প্রাকটিক্যালও হয়ে যাবে মিডিয়া ও প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে ইউটিউব থেকে ভালো ভালো, শিক্ষণীয় জিনিস ডাউনলোড করে রাখতে হবে। পরে সময়-সুযোগ মতো সেগুলো দেখানো যেতে পারে সন্তানের এইচএসসি পাসের আগে তাকে পারসোনাল এনড্রয়েড ফোন অথবা মোটরসাইকেল দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সন্তানকে ছোট, নির্বোধ বা অবুঝ ভাবা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো ভুলের কারণে বকা দেয়া বা প্রহার করা, অতিরিক্ত শাসন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মানসিক পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবারের উপার্জন সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। অতিরিক্ত নগদ অর্থ তার হাতে দেয়া উচিত নয়। সন্তানের খরচের খাত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। সন্তানের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হবে। শত ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। মনে রাখতে হবে- বাবা-মার আসল কাজ বা দায়িত্ব শুরুই হয় তাদের বাসায় ফেরার পর। কৌশলে হলেও সন্তানের মনের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ভালোবাসা, আদর আর কাউন্সিলিংয়ের সাথে সাথে স্নেহ মিশ্রিত শাসনও করতে হবে সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে।

 

মন্তব্য করুন