প্রধান শিক্ষক
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
❤️❤️❤️ আমার শৈশবের এক টুকরো গল্প ❤️❤️❤️
মা নেই—এই কথাটি লিখতে গেলেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন শূন্য হয়ে আসে। মায়ের শূন্যতা পৃথিবীর কোনো ভালোবাসা দিয়েই পূরণ হওয়ার নয়। তবুও আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার জীবনে পাঁচজন খালাম্মা আছেন—যাঁদের স্নেহ, মমতা, শাসন আর দোয়ার মধ্যে আমি আজও মায়ের ছায়া খুঁজে পাই। তাঁদের প্রত্যেকের ভালোবাসা আমার হৃদয়ে অমলিন; তবে সদুখালীর খালাম্মাকে আমি একটু বেশি মিস করি। কারণ তাঁর বাড়ির সঙ্গে যে আমার শৈশবের কত স্মৃতি, কত আবেগ, কত না-বলা গল্প জড়িয়ে আছে!
ছোটবেলায় যে প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করতাম, সেখানে যাওয়ার পথেই ছিল খালাম্মার বাড়ি। তাই ছুটির দিন এলেই যেন মনে হতো—আমি বুঝি নিজের আরেকটি বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি। সারা বছরের যত ছুটি, তার প্রথম দিন খালাম্মার বাড়ি, পরের দিন নিজের বাড়ি। আবার ছুটি শেষে পড়ার জন্য যখন বের হতাম, তার আগের দিনটিও কাটত খালাম্মার বাড়িতে; পরদিন যেতাম লজিং বাড়িতে। সেই আসা-যাওয়ার দিনগুলো আজও আমার চোখের সামনে ভাসে।
খালাম্মার ঘরে ছিল চার খালাতো বোন ও এক ভাই। তাঁদের মধ্যে বড় বোনটি আমাকে অসম্ভব আদর করতেন। শুধু তিনিই নন—খালার বাড়ির সবাই আমাকে এমন ভালোবাসতেন যে, অনেক সময় সেই ভালোবাসার টানে পড়াশোনার কথাই ভুলে যেতাম! কখনো কখনো ইচ্ছে করেই কয়েকদিন লেখাপড়া কামাই করতাম—শুধু খালাম্মার বাড়ির সেই মায়াময় পরিবেশে আরও কিছুদিন থাকার জন্য। আজ বুঝি, শৈশবের সেই দুষ্টুমিগুলো আসলে ছিল ভালোবাসার কাছে নিজেকে হারিয়ে ফেলার গল্প।
আমার খালু সাহেব তখন প্রবাসে থাকতেন। তাঁর একজন বড় ভাই ছিলেন, যিনি আমাকে খুব শাসন করতেন। তখন তাঁর শাসন হয়তো মাঝে মাঝে কঠিন মনে হতো, কিন্তু আজ বুঝি—সেই শাসনের আড়ালেও ছিল গভীর মমতা ও আপন করে নেওয়ার অনুভূতি। দুঃখের বিষয়, তিনি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। হে আল্লাহ, তুমি তাঁর জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দাও, কবরকে নূরে ভরে দাও এবং তোমার অসীম রহমতের চাদরে তাঁকে ঢেকে রাখো। আমিন।🤲
সময়ের স্রোত অনেক কিছুই বদলে দিয়েছে। একসময় যে পথে যাতায়াত ছিল স্মৃতির মতো সুন্দর, সেই পথ আজ তার গতিপথ বদলেছে। বটের খালে পাল তোলা নৌকা এখন আর চোখে পড়ে না। একসময় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারই ছিল আমাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সেই নৌপথ, সেই খাল, সেই বাড়ি, সেই মানুষগুলো—সব মিলিয়ে আমার শৈশব যেন এক হারিয়ে যাওয়া ছবির অ্যালবাম। ছবিগুলো পুরোনো হয়েছে, পথ বদলেছে, মানুষ বদলেছে; কিন্তু স্মৃতিগুলো আজও ঠিক আগের মতোই হৃদয়ে বেঁচে আছে।
আজ আমার খালাম্মা ও খালু সাহেব দুজনেই অনেক অসুস্থ। ইচ্ছে থাকলেও আগের মতো ছুটে গিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো হয়ে ওঠে না; ফোনের ওপাশে তাঁদের কণ্ঠ শোনাই এখন অনেক বড় পাওয়া। কখনো মনে হয়, যদি আবার সেই ছোটবেলার দিনগুলো ফিরে আসত! যদি আবার সেই পথে হাঁটতে পারতাম, খালাম্মার বাড়িতে গিয়ে আগের মতো বসতে পারতাম, আর ভালোবাসায় ভরা সেই দিনগুলোকে একটু ছুঁয়ে দেখতে পারতাম!
হে আরশের মালিক, হে পরম দয়ালু আল্লাহ—আমার পাঁচ খালাম্মা, খালু সাহেব এবং আমাদের আপনজনদের প্রতি তোমার রহমতের দৃষ্টি রাখো। তাঁদের নেক হায়াত দাও, অসুস্থদের পূর্ণ সুস্থতা দাও, জীবনে বরকত দাও এবং তাঁদের প্রতিটি ভালোবাসা, ত্যাগ, স্নেহ ও দোয়ার উত্তম প্রতিদান দাও। যাঁরা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দাও এবং তোমার রহমতের চাদরে তাঁদের আবৃত করে রাখো।
মায়ের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়—কিন্তু খালাম্মাদের ভালোবাসা সেই শূন্য হৃদয়ে যে মায়ার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে, তা আমার জীবনের এক অমূল্য নিয়ামত। আমার পাঁচ খালাম্মার প্রতি রইল অশেষ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ তাঁদের ছায়া আমাদের মাথার ওপর দীর্ঘদিন অটুট রাখুন এবং তাঁদের ভালোবাসা ও দোয়ার বরকত আমাদের জীবনে কবুল করুন।
আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন। 🤲❤️
১৩
১৮ মন্তব্য