Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায় দুই লক্ষ কোটি (২ ট্রিলিয়ন) গ্যালাক্সি রয়েছে

মহাবিশ্বের অসীম বিস্তৃতিতে আমাদের সূর্য এক বিশাল পরিবারের সামান্য একটি সদস্য মাত্র। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায় দুই লক্ষ কোটি (২ ট্রিলিয়ন) গ্যালাক্সি রয়েছে এবং প্রতিটি গ্যালাক্সিতে অবস্থান করছে গড়ে হাজার কোটি থেকে লাখ কোটি নক্ষত্র। এই অগণিত নক্ষত্রের ভিড়ে আমাদের সূর্যের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নক্ষত্রকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় ‘জি-টাইপ প্রধান ধারার নক্ষত্র’ (G-type Main-Sequence Star) বা ‘হলুদ বামন’ (Yellow Dwarf) বলা হয়। এগুলো কেবল ভর বা আকারের দিক থেকেই সূর্যের কাছাকাছি নয়, বরঞ্চ এদের তাপমাত্রা, উজ্জ্বলতা এবং রাসায়নিক গঠনও আমাদের সূর্যের অত্যন্ত কাছাকাছি।


আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ মিল্কিওয়েতেই প্রায় ১০ হাজার কোটি থেকে ৪০ হাজার কোটি নক্ষত্র রয়েছে, যার মধ্যে আনুমানিক ৭ থেকে ১০ শতাংশ নক্ষত্রই পুরোপুরি সূর্যের সমকক্ষ। এর অর্থ হলো, কেবল আমাদের ছায়াপথেই কয়েকশো কোটি সূর্যসদৃশ নক্ষত্র ছড়িয়ে রয়েছে। এই নক্ষত্রগুলোর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা সাধারণত ৫,৩০০ থেকে ৬,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্ব। লাল বামন নক্ষত্রের মতো এদের মারাত্মক বিকিরণ থাকে না, আবার বিশাল নীল নক্ষত্রের মতো এরা দ্রুত জ্বালানি জ্বালিয়ে ধ্বংসও হয়ে যায় না। এগুলো প্রায় ১,০০০ কোটি বছর ধরে অত্যন্ত সুষম ও স্থিরভাবে আলো ও উত্তাপ দিয়ে যায়, যা কোনো নক্ষত্রমণ্ডলীতে প্রাণের উন্মেষ ও টেকসই বিবর্তনের জন্য সবচেয়ে আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।


আমাদের সৌরজগতের নিকটবর্তী মহাজাগতিক পরিমণ্ডলে এমন বেশ কিছু সূর্যসদৃশ নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেমন—পৃথিবী থেকে মাত্র ৪.৩৭ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘আলফা সেন্টোরি এ’ (Alpha Centauri A) নক্ষত্রটি ভর ও উজ্জ্বলতায় প্রায় আমাদের সূর্যের হুবহু প্রতিরূপ। আবার ১২ আলোকবর্ষ দূরের ‘টাউ সেটি’ (Tau Ceti) নক্ষত্রটি একটি একক জি-টাইপ নক্ষত্র, যাকে কেন্দ্র করে একাধিক সৌরবহির্ভূত গ্রহ আবর্তিত হচ্ছে। এছাড়া ৫০ আলোকবর্ষ দূরের ‘৫১ পেগাসি’ (51 Pegasi) নক্ষত্রটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত স্মরণীয়, কারণ ১৯৯৫ সালে এই নক্ষত্রটিকে ঘিরেই প্রথম কোনো বহির্গ্রহের (Exoplanet) উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল।


জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে সূর্যের মতো নক্ষত্রগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ প্রাণের অনুসন্ধানে এরাই সবচেয়ে বড় আশার আলো। একটি নক্ষত্র যখন অতিরিক্ত উত্তপ্ত বা অতিমাত্রায় প্রকাণ্ড না হয়ে মাঝারি আকারের হয়, তখন তার চারপাশে একটি সুনির্দিষ্ট অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, যাকে ‘গোল্ডিলক্স জোন’ (Goldilocks Zone) বা বাসযোগ্য অঞ্চল বলা হয়। এই অঞ্চলে অবস্থিত গ্রহগুলোতে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায় না কিংবা জমাট বেঁধে বরফও হয় না, বরং তরল অবস্থায় বিরাজ করতে পারে। বর্তমানে কেপলার, টেস এবং জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এই নক্ষত্রগুলোর কক্ষপথে পৃথিবীর মতো শিলাঘন গ্রহ ও পানির উপস্থিতির সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন