প্রধান শিক্ষক
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
যাকে ইচ্ছা তাকেই পদোন্নতি দেবো, বলা মাদ্রাসার সেই ডিডির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
যাকে ইচ্ছা তাকেই পদোন্নতি দেবো, বলা মাদ্রাসার সেই ডিডির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
‘মাদ্রাসা অধিদপ্তরের ডিডি বললেন, যাকে ইচ্ছা তাকেই পদোন্নতি দেবো’ এই শিরোনামে শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র প্রিন্ট জাতীয় পত্রিকা দৈনিক আমাদের বার্তায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর বিতর্কিত এই উপপরিচালক ড. কে এম শফিকুল ইসলামকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত (ওএসডি) করা হয়েছিলো। তবে এমফিল-পিএইচডি ডিগ্রিধারী মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর লোকদের সুবিধা দেয়ার সেই অভিযোগের তদন্ত এবার শুরু হয়েছে। অভিযোগের সুস্পষ্ট তথ্য ও মতামত দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে জমা দিতে হবে।
গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো হয়।চিঠিতে একইসঙ্গে শিক্ষকদের হয়রানি দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও দেয়া হয়েছে নির্দেশনা।
এতে জানা যায়, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ নীতিমালার আলোকে থেকে গত ৩০ মার্চ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অর্থ) ড. কে এম শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপকে পদোন্নতির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয় এবং এমফিল-পিএইচডির সার্টিফিকেট যাচাই করে পদোন্নতি দেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির আলোকে এমফিল-পিএইচডি ডিগ্রিধারী মাদ্রাসা শিক্ষকরা মার্চ, ২০২৬-এ পদোন্নতির জন্য আবেদন করেন।
কে এম শফিকুল ইসলাম নির্দেশিত তারিখে শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে এককভাবে সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারে তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং শিক্ষকদের অর্জিত ডিগ্রিকে তুচ্ছ তাচ্চিল্য করে অফিস থেকে বের করে দেন মর্মে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এছাড়াও, ড. কে এম শফিকুল ইসলাম বিরুদ্ধে আনীত আরো অভিযোগ হলো- সেচ্ছাচারিতা ও সকল স্তরের শিক্ষক ও অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষদের সাথে দূর্ব্যবহার; ক্ষমতার অপব্যবহার, পেশাদারিত্বের চেয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রাধান্য দেয়া; পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা; কোন প্রকার কারণ ছাড়া পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ডিমোশন দেয়া; অশালীন ভাষা ব্যবহার; এমফিল-পিএইচডি ডিগ্রিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা ইত্যাদিসহ পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকদের বিভিন্ন কথাবার্তা বলে বিব্রত, ব্লাকমেইল ও জিম্মিকরে হয়রানি করা হয় মর্মে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমতাবস্থায়, ড. কে এম শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক (অর্থ), মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর-এর মাধ্যমে তদন্তকার্য সম্পাদন করে প্রতিবেদন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।
এছাড়াও 'বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬' এর আলোকে এমফিল-পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিবেচ্যপত্রের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১
১ মন্তব্য