প্রধান শিক্ষক
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০২:৫০ অপরাহ্ণ
শৈশবের গল্প - "পঁচিশ পয়সার চকলেট"
২৫ পয়সার চকলেট
ছোটবেলায় আমি ছিলাম ভীষণ দুষ্ট। স্কুলে যাওয়ার সময় হলেই বই-খাতা হাতে বের হতাম, কিন্তু স্কুলের পথে না গিয়ে সোজা চলে যেতাম পাড়ার ছেলেদের মার্বেলের আসরে। রঙিন কাঁচের মার্বেল গড়িয়ে গড়িয়ে খেলতে খেলতে কখন যে সময় পেরিয়ে যেত, টেরই পেতাম না।
অন্যদিকে মা সব বুঝতেন। কিছুক্ষণ পরই খুঁজতে খুঁজতে ঠিক বটগাছের নিচে এসে হাজির হতেন। বন্ধুদের সামনে কান ধরে বাড়ি নিয়ে যেতেন। তারপর গোসল করিয়ে পরিষ্কার জামা পরিয়ে দিতেন।
সবশেষে আমার হাতে তুলে দিতেন ২৫ পয়সার একটা চকলেট।
মা বলতেন, “এই নাও, এবার কিন্তু সোজা স্কুলে যাবে।”
সেই ২৫ পয়সার চকলেটটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় প্রলোভন। চকলেট মুখে দিয়েই হাসিমুখে স্কুলে চলে যেতাম। তখন বুঝিনি—মা আমাকে চকলেট দিচ্ছিলেন না, শিক্ষার পথে হাঁটার সাহস দিচ্ছিলেন।
আজ মার্বেল নেই, ২৫ পয়সার চকলেটও ইতিহাস। কিন্তু মায়ের সেই ভালোবাসা আর যত্ন—আজও আমার জীবনের সবচেয়ে মিষ্টি স্মৃতি।
“জীবনের সবচেয়ে দামি পুরস্কারগুলো অনেক সময় ২৫ পয়সার চকলেটের মোড়কেই লুকিয়ে থাকে।“
৭
৬ মন্তব্য