টাঙ্গুয়ার হাওর প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বর্ষাকালে এর চারপাশের রূপ সম্পূর্ণ বদলে যায়। দিগন্ত বিস্তৃত নীল জলরাশির মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা হিজল-করচের সারি এবং মেঘালয়ের পাহাড়ের হাতছানি ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এটি ১৯৯৯ সালে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এবং ২০০০ সালে রামসার সাইট হিসেবে ঘোষিত হয়।
নীলাদ্রি লেক: শহীদ সিরাজ লেক নামে পরিচিত এই জায়গাটির পানি অনেক স্বচ্ছ এবং নীল। মেঘালয়ের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই লেকটির সৌন্দর্য যেন কোনো প্রাকৃতিক আয়না।
শিমুল বাগান: যাদুকাটা নদীর তীরে অবস্থিত এই বাগানটি বসন্তকালে লাল ফুলে ভরে ওঠে। শিমুল আর পলাশের রঙে পুরো এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে।
যাদুকাটা নদী: ভারত ও বাংলাদেশের সীমানায় বয়ে চলা এই নদীটির স্বচ্ছ পানি এবং চারপাশের সবুজ পাহাড় দারুণ দেখার মতো।
ওয়াচ টাওয়ার: হাওরের মাঝখানের ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো হাওরের বিশালতা এবং সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা অসাধারণ।
টাঙ্গুয়ার হাওর ঘোরার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় বর্ষাকাল (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর)। এ সময় হাওরে পানি থাকে প্রচুর এবং এর আসল রূপ দেখা যায়। শীতকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) এখানে প্রচুর অতিথি পাখি আসে, তাই পাখিপ্রেমীদের জন্য শীতকাল দারুণ সময়।
প্রথমে ঢাকা বা আপনার শহর থেকে বাসে করে সুনামগঞ্জ যেতে হবে। সুনামগঞ্জের নতুন ব্রিজ বা সুরমা ব্রিজ ঘাট থেকে লোকাল নৌকা বা রিজার্ভ ইঞ্জিনচালিত নৌকা (ট্রলার বা হাউসবোট) নিয়ে তাহিরপুর পৌঁছাতে পারবেন। তাহিরপুর থেকে হাওরে ঘোরার জন্য নৌকা ঠিক করা যায়।
হাওরে ভ্রমণের জন্য স্থানীয় ও অভিজ্ঞ মাঝিদের নৌকা ভাড়া করা উচিত।
বর্ষায় গেলে লাইফ জ্যাকেট অবশ্যই সাথে রাখুন।
হাওরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক বা ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
বর্ষায় খাবারের জন্য নৌকার মাঝিদের সাথে আগে থেকে কথা বলে বাজার করে নেওয়া ভালো।
১৩
১৯ মন্তব্য