Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০৯ পূর্বাহ্ণ

মুসাফিরের মতো জীবন * - মোঃ মুজিবুর রহমান

মুসাফিরের মতো জীবন

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

দুনিয়া যেন পথের ধারে ছায়া,
ক্ষণিক তার সুখের মায়া;
আজ যে হাসি, কাল সে ক্ষয়,
চিরস্থায়ী কিছুই নয়।

জীবন যেন নদীর স্রোত,
বয়ে চলে অবিরত;
কখন যে থামবে গতি,
জানে শুধু মহান সত্তা
পরম দয়াময় আল্লাহ।

রাসুল (সা.)-এর বাণী শোনো,
হৃদয় দিয়ে তা- মানো
দুনিয়াতে এমনভাবে থেকো,
যেন পথিক তুমি একা;
অথবা কোনো মুসাফির,
যার গন্তব্য বহুদূর।

পথিক যখন পথে চলে,
মায়ার বাঁধন যায় সে ভুলে;
পথের ধারে ফুল ফুটলেও
থামে না সে মুগ্ধ হয়ে।
জানে সেপথ শেষ হবে,
গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।

হে মানুষ! তুমি পথের যাত্রী,
দুনিয়া তোমার ক্ষণিকের ছাত্রী;
এখানে তুমি অতিথি মাত্র,
চিরবাসের নয় প্রান্তর।

প্রাসাদ যদি আকাশ ছোঁয়,
একদিন তবু শূন্য হয়;
ধনভাণ্ডার ভরে গেলেও
মৃত্যু এসে সবই নেয়।
সোনা-রূপা, মান-সম্মান,
কিছুই যাবে না সেদিন প্রাণ।

যে সম্পদে অহংকার বাড়ে,
সে সম্পদই বিপদ ডাকে;
যে সম্পদে দান হয়,
সে সম্পদই সওয়াব বয়ে।

সরল জীবন, পবিত্র মন,
তাতেই মেলে শান্তির ক্ষণ;
কমে তুষ্ট, হক আদায়,
আল্লাহর পথে জীবন যায়।

অল্প খাবার, অল্প পোশাক,
অল্প চাহিদানেই তো লজ্জা;
লজ্জা হলো অন্যায় চাওয়া,
হারাম পথে সম্পদ গড়া।

সাদাসিধে জীবন মানে
দুনিয়াকে ত্যাগ করা নয়;
হালাল পথে উপার্জন করে
আল্লাহকে ভুলে যাওয়া নয়।

সম্পদ থাকবে হাতে তোমার,
হৃদয় থাকবে রবের দ্বারে;
ঘরে থাকবে যত সম্পদ,
মনে থাকবে রবের স্মরণ।

নবীজি (সা.) ছিলেন সরল,
জীবন ছিল পবিত্র নির্মল;
ক্ষমতা ছিল, সম্মান ছিল,
তবু অহংকার তাঁর ছিল না।

সাহাবায়ে কেরাম শিখিয়েছেন,
দুনিয়ার মোহ থেকে ফিরিয়েছেন;
দুনিয়া হাতে রাখা যায়,
হৃদয় যেন তাতে না হারায়।

পথিক যেমন বোঝা কমায়,
দীর্ঘ পথে স্বস্তি পায়;
মুমিন তেমনি পাপের বোঝা
তাওবার জলে ধুয়ে ফেলে।

আজই যদি সময় থাকে,
ফিরে এসো রবের ডাকে;
কাল যে আসবেনিশ্চয়তা নেই,
মৃত্যুর আগে সুযোগ সেই।

মৃত্যু কোনো বয়স মানে না,
ধনী-গরিব বিচার করে না;
রাজপ্রাসাদ কিংবা কুটির,
সবাই হবে একদিন পথিক।

যে তরুণ আজ শক্তিমান,
কাল তারও হবে অবসান;
যে বৃদ্ধ আজ লাঠি ধরে,
তারও ডাক আসবে ঘরের পরে।

কবর হবে শেষ ঠিকানা,
সঙ্গে যাবে না কোনো ধনখানা;
সঙ্গে যাবে আমল শুধু,
সৎকর্ম হবে আপন বন্ধু।

সালাত হবে আলো সেদিন,
কুরআন হবে ছায়া সেদিন;
সদকা, দয়া, সৎ আচরণ
হবে নাজাতের সম্ভাবন।

অন্যের হক মেরে যারা
গড়ে ধনের পাহাড় সারা,
মৃত্যু এলে বুঝবে তখন
ধন-সম্পদ সবই ক্ষণ।

অহংকারের মুকুট খুলে
নম্রতারই পথে চলো;
অন্যের প্রতি দয়া রেখে
সত্যের পথে জীবন গড়ো।

কাউকে ছোট কোরো না তুমি,
সবাই তো আল্লাহর সৃষ্টি;
আজ যে দুর্বল, কাল সে পারে
হতে তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

পথের ধারে ক্ষুধার্ত মানুষ,
তারও আছে হৃদয়-কান্না;
একটু দয়া, একটুখানি
হতে পারে রহমতের কারণ।

অসহায়ের চোখের পানি
মুছে দাও সাধ্যমতো;
এমন জীবন গড়ো তুমি,
যাতে রব হন সন্তুষ্ট।

দুনিয়ার সুখ যদি আসে,
শোকর করো রবের আশে;
দুঃখ যদি আসে জীবনে,
সবর রেখো অন্তরজুড়ে।

সম্পদ পেলে দান করো,
বিপদ পেলে রবকে ধরো;
সুখে থেকেও ভুলে যেয়ো না,
দুঃখে তাঁকে দোষ দিয়ো না।

দুনিয়া হলো পরীক্ষাক্ষেত্র,
জীবন হলো অমূল্য পত্র;
প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ
লিখছে তোমার কর্মগণ।

আজকের সূর্য অস্ত গেলে
ফিরবে না আর সেই সকাল;
যে সময়টি চলে গেল,
ফিরবে না তা কোনো কাল।

তাই সময়ের মূল্য বোঝো,
অলসতায় জীবন নষ্ট কোরো না;
জ্ঞান অর্জন, সৎকর্ম, ইবাদত
এসব দিয়ে জীবন গড়ো।

মুসাফির যেমন জানে মনে,
রাত কাটাবে কোনোখানে;
সকাল হলে পথ ধরিবে,
গন্তব্যে সে পৌঁছাবে।

তেমনি মুমিন জানে অন্তর
দুনিয়া নয় শেষের ঘর;
আখিরাতই চির ঠিকানা,
সেখানেই হবে শেষ যাওয়া।

এই দুনিয়ার রঙিন মেলা,
একদিন হবে নিভে একেলা;
হাসির আসর থেমে যাবে,
সবাই আপন ঘরে যাবে।

কেউ যাবে কবরের ঘরে,
কেউ যাবে হাশরের প্রান্তরে;
আমলনামা খুলবে সেদিন,
প্রকাশ পাবে গোপন জীবন।

যে জীবন ছিল রবের তরে,
সে জীবনই সফল হবে;
যে জীবন ছিল পাপের ভারে,
সে জীবন কাঁদবে অন্ধকারে।

তাই হে মানব! এখন জাগো,
তাওবার পথে ফিরে লাগো;
হারাম ছেড়ে হালাল ধরো,
আল্লাহরই বিধান মানো।

অল্পে তুষ্ট হও,
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও;
মিথ্যা ছেড়ে সত্য বলো,
জুলুম ছেড়ে ন্যায় ধরো।

দুনিয়াকে তুমি ব্যবহার করো,
দুনিয়ার দাস হয়ে যেয়ো না;
সম্পদ রাখো প্রয়োজনমতো,
সম্পদের কাছে মাথা নোয়ো না।

ঘর থাকবে, পরিবার থাকবে,
হালাল রুজির প্রয়োজন থাকবে;
কিন্তু হৃদয়ের সিংহাসনে
আল্লাহ ছাড়া কেউ না থাকে।

সরলতার মাঝে যে সুখ,
তা কি পাবে দম্ভের মুখ?
কম চাহিদায় শান্তি মেলে,
অতিরিক্ত চাহিদা জ্বালে।

অহংকারে হৃদয় পুড়ে,
বিনয়ে হৃদয় শান্তিতে ভরে;
ক্ষমা করলে মন হয় নির্মল,
দয়া করলে জীবন হয় সফল।

জীবন যদি হয় আমানত,
রবের কাছে সবই ফিরত;
তবে কেন এত অহংকার?
কেন এত মিথ্যা বাহাদুরি আর?

আজ তুমি বলো—“আমার ঘর,
আমার ধন, “আমার জোর;
মৃত্যু এসে যখন বলবে,
চলো এবার”—কী থাকবে তোমার?

থাকবে শুধু আমলখাতা,
থাকবে তোমার কর্মের কথা;
থাকবে না কোনো বাহ্যিক রূপ,
থাকবে না সম্পদের স্তূপ।

তাই জীবনকে করো সুন্দর,
সত্যে রাখো মনকে অটল;
ইবাদতে রাখো প্রাণ,
মানবসেবায় দাও অবদান।

পথিক হয়ে পথে চলো,
রবের প্রেমে হৃদয় ভরো;
দুনিয়ার মাঝে থেকেও যেন
আখিরাতের কথা স্মরণ করো।

দুনিয়া তোমার কর্মভূমি,
আখিরাতই ফলের ভূমি;
আজকে বুনবে যে বীজ তুমি,
কালকে পাবে তারই ফসল।

সৎকর্ম বুনো প্রতিদিন,
ভালোবাসা দাও প্রতিক্ষণ;
সত্য, ন্যায় আর পরহেজগারি
হোক জীবনের অলংকার ভারী।

শেষে যখন ডাক আসবে,
সব পথ তখন থেমে যাবে;
যদি থাকে রবের সন্তোষ,
সার্থক হবে জীবন-পরিশ্রম।

হে আল্লাহ, দাও এমন জীবন,
যাতে থাকে তোমার স্মরণ;
দাও সরল, পবিত্র মন,
দাও সৎপথে অবিচল গমন।

দুনিয়াতে থাকি মুসাফির হয়ে,
আখিরাতের পাথেয় লয়ে;
হারাম থেকে দূরে রাখো,
হালাল পথে জীবন রাখো।

অহংকার যেন না আসে মনে,
মোহ যেন না বাঁধে ক্ষণে;
তোমার প্রেমে হৃদয় ভরে,
তোমার বিধান মানি জীবনভরে।

দুনিয়া ক্ষণিক, জীবন ক্ষণিক,
মৃত্যুর ডাকও আসবে সুনিশ্চিত;
চিরস্থায়ী যে সেই ঠিকানা
আখিরাতের জান্নাতখানা।

তাই পথিকের মতো চলো,
সত্য-সুন্দরের পথে চলো;
রবের নামে জীবন গড়ো,
আখিরাতের সফলতা ধরো।

দুনিয়া নয় শেষ ঠিকানা,
আখিরাতই চির ঠিকানা;
পথিক আমরাপথের শেষে
রবের কাছেই ফিরব শেষে।

সরল জীবন, নির্মল প্রাণ,
আল্লাহভীতি হোক সম্মান;
হালাল পথে অর্জিত ধন,
সৎকর্মে হোক তার সমাপন।

দুনিয়ার পথে যতই চলি,
রবের স্মরণ যেন না ভুলি;
মুসাফিরের মতো থাকি
আখিরাতের পাথেয় রাখি।

***

মুসাফিরের মতো জীবন

দুনিয়া যেন পথের ধারে
ক্ষণিক ছায়া, ক্ষণিক মায়া,
আজকে যেথায় হাসির মেলা,
কালকে সেথায় নীরব বেলা।
জীবন যেন নদীর স্রোত,
বয়ে চলে অবিরত;
কোন সে ক্ষণে থামবে গতি
জানেন শুধু পরম সত্তা,
মহান রব, দয়াময় আল্লাহ।

রাসুল (সা.)-এর বাণী শোনো,
হৃদয় দিয়ে তা- মানো
দুনিয়ার এই ক্ষণিক ঘরে
থেকো যেন পথিক হয়ে।
মুসাফির যেমন পথে চলে,
গন্তব্যের আশায় দোলে,
তেমনি মুমিন এই জীবনে
আখিরাতের পাথেয় গড়ে।

পথিক যখন পথে নামে,
মায়া বাঁধে না কোনো ধামে;
পথের ধারে ফুল ফুটলেও
থামে না সে মুগ্ধ হয়ে।
জানে সে যে পথের শেষে
পৌঁছাতে হবে আপন দেশে;
তেমনি মুমিন জানে মনে
দুনিয়া নয় চির ঠিকানা,
আখিরাতই আসল ঠিকানা।

প্রাসাদ যত আকাশ ছোঁয়,
একদিন তা শূন্য হয়;
ধনভাণ্ডার পূর্ণ হলেও
মৃত্যু এসে সবই নেয়।
সোনা-রূপা, ধন-সম্পদ,
ক্ষমতা আর মান-সম্মান
কিছুই যাবে না সঙ্গে,
সঙ্গে যাবে কর্মের দান।

তাই সরল জীবন গড়ো,
অহংকারের পথটি ছাড়ো;
অল্পে তুষ্ট, সত্যনিষ্ঠ,
হও বিনয়ী, হও পবিত্র।
সাদাসিধে জীবন মানে
দুনিয়া ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া নয়;
হালাল পথে রুজি খুঁজে
রবকে কখনো ভুলে যাওয়া নয়।

সম্পদ থাকবে হাতে তোমার,
হৃদয় থাকবে রবের দ্বারে;
ঘর থাকবে, পরিবার থাকবে,
হালাল রুজির প্রয়োজন থাকবে;
কিন্তু মনের সিংহাসনে
রবের স্থানই সবার আগে।
দুনিয়া থাকবে প্রয়োজনমতো,
দুনিয়া যেন হৃদয় না হয়।

অল্প চাওয়া, অল্প পাওয়া,
তাতেই যদি সুখের ছায়া;
অতিরিক্ত লোভের আগুন
জ্বালায় শুধু অন্তরখানি।
লোভ মানুষকে অন্ধ করে,
মোহ মানুষকে দূরে সরায়;
রবের স্মরণ হারিয়ে গেলে
ধনও তখন বোঝা হয়।

যে সম্পদে অহংকার বাড়ে,
সে সম্পদই বিপদ ডাকে;
যে সম্পদে ক্ষুধার্ত হাসে,
যে সম্পদে অসহায় বাঁচে,
যে সম্পদে দান করা হয়,
সে সম্পদই কল্যাণময়।
হালাল ধন, সৎ উপার্জন,
হোক জীবনের পাথেয় তখন।

নম্র হও, হে মানব তুমি,
অহংকারে কী লাভ বলো?
আজ যে তুমি শক্তিমান,
কালকে হতে পারো দুর্বল।
আজ যে তুমি ধনের মালিক,
কালকে হবে কবরবাসী;
আজ যে তুমি সম্মানিত,
কালকে হবে মাটির সাথী।

কাউকে তুমি ছোট কোরো না,
অসহায়কে দূরে সরিও না;
ক্ষুধার্তের মুখে হাসি ফোটাও,
দুঃখীর পাশে গিয়ে দাঁড়াও।
অন্যের চোখের অশ্রু মুছে
দাও ভালোবাসার হাত;
হয়তো সেই সামান্য দয়া
রবের কাছে হবে নাজাত।

পথের ধারে ক্লান্ত পথিক,
তৃষ্ণায় যদি কাতর হয়,
একটু পানি এগিয়ে দিলে
তোমার মনও নির্মল হয়।
একটি ভালো কথা বলো,
একটি দুঃখের কথা শোনো;
মানবতার এই ছোট কাজ
রবের কাছে মূল্যবান।

মুমিন মানে শুধু নিজের
সুখের কথা ভাববে না;
নিজে খেয়ে অন্যের ক্ষুধা
দেখেও চোখ ফিরাবে না।
নিজের জন্য যা চাও তুমি,
অন্যের জন্য চাও তা-;
ভালোবাসা, দয়া, ক্ষমা
মুমিনেরই ভূষণ ভাই।

জীবন তো এক আমানত,
রবের দেওয়া মহাদান;
শ্বাসে শ্বাসে সময় কমে,
ফুরিয়ে আসে জীবনকাল।
আজ যে সকাল হাতে আছে,
কাল সে সকাল নাও তো আসতে পারে;
আজ যে সুযোগ পেয়েছ তুমি,
কাল সে সুযোগ নাও তো মেলে।

তাই সময়ের মূল্য বোঝো,
অলসতায় জীবন নষ্ট কোরো না;
জ্ঞান অর্জন, সৎকর্ম, ইবাদত
এসব দিয়ে জীবন গড়ো।
সালাত কায়েম, সত্য কথা,
হালাল রুজি, ন্যায় আচরণ,
সদকা, দয়া, ক্ষমা, আমল
হোক জীবনের অলংকার।

মৃত্যু কোনো বয়স মানে না,
ধনী-গরিব ভেদ জানে না;
রাজপ্রাসাদ, মাটির কুটির
সবার পথই একই দিকে।
তরুণ, বৃদ্ধ, শিশু, নারী
ডাক যখনই আসবে তারই,
ফিরতে হবে রবের কাছে,
থামবে দুনিয়ার সবই কাজে।

কবর হবে প্রথম গন্তব্য,
নিভবে তখন দুনিয়ার রং;
থাকবে না আর ধনের গর্ব,
থাকবে না কোনো বাহ্যিক ঢং।
থাকবে শুধু কর্মের হিসাব,
থাকবে জীবনের আমলনামা;
কী করেছি, কী বলেছি
সবই হবে স্পষ্ট সেখানে।

অন্যের হক যারা মারে,
মিথ্যা দিয়ে ধন যে গড়ে,
জুলুম করে দুর্বল জনে,
অহংকারে চলে ভুবনে
মৃত্যু যখন দ্বারে আসবে,
সব হিসাবই সামনে আসবে;
তখন বুঝবে ধন-সম্পদ
চিরস্থায়ী ছিল না কখনো।

তাই এখনই তাওবা করো,
রবের পথে ফিরে চলো;
হারাম ছেড়ে হালাল ধরো,
সত্য-ন্যায়ের পথে চলো।
কারও হক যদি নিয়ে থাকো,
সাধ্যমতো ফিরিয়ে দাও;
কারও মনে কষ্ট দিলে
ক্ষমা চেয়ে ভুলটি শুধরাও।

দুঃখ এলে সবর ধরো,
সুখ এলে শোকর করো;
বিপদে রবকে স্মরণ করো,
নিয়ামতে কৃতজ্ঞ হও।
সুখের দিনে রবকে ভুলো না,
দুঃখে তাঁকে দোষ দিও না;
সব অবস্থায় তাঁর ওপর
রাখো ভরসা, রাখো আশা।

দুনিয়া হলো পরীক্ষাক্ষেত্র,
জীবন হলো কর্মের ক্ষেত্র;
আজকে তুমি বীজ বুনবে,
কালকে তারই ফল পাবে।
সৎকর্মের বীজ যদি বোনো,
কল্যাণেরই ফল তা হবে;
পাপের বীজ বুনলে শেষে
অনুতাপের ফলই রবে।

মুসাফির যেমন বোঝা কমায়,
দীর্ঘ পথে স্বস্তি পায়,
তেমনি মুমিন পাপের বোঝা
তাওবার জলে ধুয়ে ফেলে।
মায়ার জাল ছিন্ন করে
রবের দিকে ফিরে চলে;
দুনিয়ার মাঝে থেকেও সে
আখিরাতকে ভুলে না।

দুনিয়াকে তুমি ব্যবহার করো,
দুনিয়ার দাস হয়ে যেয়ো না;
সম্পদ রাখো প্রয়োজনমতো,
সম্পদের কাছে মাথা নোয়ো না।
ঘর সাজাও, পরিবার দেখো,
সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ো;
হালাল পথে জীবন চালিয়ে
রবের সন্তুষ্টি অর্জন করো।

সরলতা মানে দারিদ্র্য নয়,
সরলতা মানে হৃদয়ময়;
অল্পে তুষ্ট, বেশি দানে
মুমিন থাকে শান্তিপ্রাণে।
বাহ্যিক চাকচিক্য নয়,
মূল্যবান তার অন্তর হয়;
পোশাক যতই সুন্দর হোক,
চরিত্র ছাড়া সৌন্দর্য ক্ষয়।

অহংকারে হৃদয় পুড়ে,
বিনয় হৃদয় শান্তিতে ভরে;
ক্ষমা করলে মন নির্মল,
দয়া করলে জীবন সফল।
সত্য কথা মুখে বলো,
মিথ্যা থেকে দূরে চলো;
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকো,
জুলুম থেকে নিজেকে রাখো।

এই দুনিয়ার রঙিন মেলা
একদিন হবে নিভে একেলা;
হাসির আসর থেমে যাবে,
পরিচিত মুখ হারিয়ে যাবে।
যে ঘরে ছিল কোলাহল,
সেই ঘর হবে নীরব-নিশ্চল;
যে মানুষ ছিল পাশে পাশে,
সবাই যাবে আপন আশে।

হাশরের সেই বিশাল মাঠে
মানুষ দাঁড়াবে একসাথে;
কেউ খুঁজবে একটু ছায়া,
কেউ করবে মুক্তির আশা।
আমলনামা খুলবে সেদিন,
প্রকাশ পাবে গোপন জীবন;
কথা, কাজ আর মনের খবর
কিছুই থাকবে না যে গোপন।

যে জীবন ছিল রবের তরে,
সে জীবনই সফল হবে;
যে হৃদয়ে ছিল ঈমানের আলো,
সে হৃদয়ই পাবে রবের ভালো।
যে মানুষটি সত্য ধরেছে,
অন্যায়ের পথ ছেড়ে দিয়েছে,
দয়া, সালাত, সৎকর্ম নিয়ে
জীবনটাকে গড়ে নিয়েছে

তার জন্যই আশা জাগে,
রহমতের দ্বার খুলে যাবে;
রবের দয়া যার সঙ্গী হয়,
তার জীবনই সফল হয়।
তাই হে মানুষ, সময় থাকতে
নিজেকে আজ সংশোধন করো;
মুসাফিরের মতো চলো,
আখিরাতের পাথেয় গড়ো।

অল্পে তুষ্ট হও তুমি,
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও;
মিথ্যা ছেড়ে সত্য বলো,
জুলুম ছেড়ে ন্যায় ধরো।
হিংসা ছেড়ে ভালোবাসো,
বিদ্বেষ ছেড়ে ক্ষমা করো;
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে
মানবতার দীপ জ্বালাও।

দুনিয়া যদি দেয় সম্মান,
শোকর করো পরম দয়াময়;
দুনিয়া যদি দেয় পরীক্ষা,
সবর করো নির্ভয়।
ধন দিলে দান করো,
জ্ঞান দিলে শিক্ষা দাও;
ক্ষমতা দিলে ন্যায় করো,
সুযোগ পেলে উপকার করো।

জীবন যখন সন্ধ্যা হবে,
দিনের আলো ম্লান হয়ে যাবে;
শেষ প্রহরের ডাকটি যখন
নিভৃত হৃদয়ে এসে বাজবে,
তখন যেন অন্তর বলে
হে রব, আমি ফিরছি তোমারই কাছে;
যতটুকু পারি সৎপথে চলেছি,
তোমার দয়া চাই আজ শেষে।

হে আল্লাহ, দাও এমন জীবন,
যাতে থাকে তোমার স্মরণ;
দাও সরল, পবিত্র মন,
দাও সৎপথে অবিচ গমন।
হারাম থেকে দূরে রাখো,
হালাল পথে জীবন রাখো;
অহংকার যেন না আসে মনে,
তোমার প্রেম দাও অন্তরজুড়ে।

দুনিয়ার মোহ যেন না বাঁধে,
লোভ যেন না হৃদয় কাড়ে;
ধন-সম্পদ থাকুক হাতে,
তোমার স্মরণ থাকুক সাথে।
মান-সম্মান, সুখ-সুবিধা
সবই তোমার দেওয়া দান;
দান পেলে যেন না ভুলি
তুমিই আমার পরম মহান।

দুনিয়া নয় শেষ ঠিকানা,
আখিরাতই চির ঠিকানা;
পথিক আমরা, ক্ষণিক যাত্রী,
রবের কাছেই শেষ প্রত্যাবর্তন।

দুনিয়ার পথে যতই চলি,
রবের স্মরণ যেন না ভুলি;
সরল জীবন, নির্মল প্রাণ
হোক আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্মান।

অল্পে তুষ্ট, সত্যনিষ্ঠ,
দয়ালু মন, চরিত্র পবিত্র;
হালাল রুজি, সৎকর্মসাথি
এই হোক জীবনের পাথেয়-পুঁথি।

পথিকের মতো চলব সবাই,
দুনিয়ার মোহে হারাব না ভাই;
আখিরাতের পাথেয় গড়ি,
রবের সন্তুষ্টি হৃদয়ে ধরি।

দুনিয়া ক্ষণিক, জীবন ক্ষণিক,
মৃত্যুর ডাক অবধারিত;
চিরস্থায়ী সেই ঠিকানা
রবের রহমত, আখিরাতের সফলতা।

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ