সহকারী অধ্যাপক
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:১২ পূর্বাহ্ণ
ভালোবাসায় গড়া সংসার-২ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
ভালোবাসায় গড়া সংসার-২
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
সংসার মানে শুধু ঘর নয়,
সংসার মানে মন,
ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা
দুটি হৃদয় আপন।
সুখের দিনে হাসির সাথি,
দুঃখে আপনজন,
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসায়
সুন্দর হয় জীবন।
আল্লাহ যিনি সৃষ্টি করেছেন
এই বিশাল সংসার,
তাঁরই হুকুমে জীবনজুড়ে
জোড়া লাগে মন-প্রাণ।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের
শান্তি, স্নেহ, ছায়া,
ভালোবাসার কোমল পরশে
দূর হয় সব মায়া।
আল্লাহ বলেন—“তাঁর নিদর্শন
তোমাদেরই মাঝে,
তোমাদের জন্য সঙ্গী সৃষ্টি
করেছেন ভালোবাসায়।”
মুমিন হৃদয় বুঝে নেয় যে
এই সম্পর্ক দান,
শুকরিয়াতে পূর্ণ করে তাই
দাম্পত্যের প্রাণ।
**“লিতাসকুনু ইলাইহা”—
শান্তির জন্য সাথি,
“ওয়া জা‘আলা বাইনাকুম
মাওয়াদ্দাতাও ওয়া রহমাহ”—
ভালোবাসা, দয়া, মায়া,
এই তো দাম্পত্যের বাতি।
শুধু প্রেমের মিষ্টি কথা
দাম্পত্যের শেষ নয়,
দায়িত্ববোধ, আমানত রক্ষা,
বিশ্বাসই তার জয়।
একজন যদি ক্লান্ত হয়ে
ফিরে আসে ঘরে,
অন্যজনের মিষ্টি হাসি
শান্তি আনে অন্তরে।
স্বামী হবে স্ত্রীর কাছে
নিরাপদ আশ্রয়,
স্ত্রী হবে স্বামীর পাশে
সান্ত্বনারই পরিচয়।
কথার মাঝে কোমলতা,
আচরণে সম্মান,
এভাবেই তো গড়ে ওঠে
ভালোবাসার প্রাণ।
স্ত্রীর কথায় কান দেবে,
স্বামী হবে ধীর,
স্ত্রীও স্বামীর সম্মান রাখবে—
হৃদয় হবে নীর।
কেউ কাউকে ছোট করবে না,
করবে না অপমান,
সম্মানেরই ভিতের ওপর
গড়বে সুখের ঘর-সংসার।
রাগ যখনই জ্বলে ওঠে
আগুনেরই মতো,
কথার তীরে আঘাত দিয়ে
করো না হৃদয় ক্ষত।
একটু থামো, নীরব থাকো,
শান্ত করো মন,
রাগের বশে বলা কথায়
ভাঙতে পারে জীবন।
ভুল তো মানুষ করবেই কখনো,
এটাই মানবধর্ম,
ক্ষমা যদি থাকে হৃদয়ে
মুছে যায় সব মর্ম।
ছোটখাটো ভুলকে নিয়ে
রাগ জমিও না মনে,
ক্ষমার ফুল ফুটুক সদা
দাম্পত্যেরই বনে।
বিশ্বাস হলো সংসার-ঘরের
সবচেয়ে মজবুত দ্বার,
বিশ্বাস ভাঙলে অন্ধকারে
হারিয়ে যায় অধিকার।
সত্য কথাই বলবে দুজন,
রাখবে না কোনো ছল,
বিশ্বাসেরই আলো জ্বাললে
সুখের হবে ঘর।
গোপন কথা গোপন রাখো,
রাখো সঙ্গীর মান,
পরের কাছে প্রকাশ করে
করো না অপমান।
যে দুঃখটি ঘরের কথা,
ঘরেই করো শেষ,
ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখাই
হোক জীবনের রেশ।
অভাব যদি আসে ঘরে,
ভেঙো না মন-প্রাণ,
অল্পতেই তুষ্ট থাকো,
করো আল্লাহর শোকরান।
আজকে যদি কম থাকে কিছু,
কাল তো হতে পারে,
সবর করে চললে মানুষ
সফল হয় শেষে।
অর্থ নয় যে ভালোবাসার
একমাত্র পরিচয়,
একটি মধুর কথা অনেক
দামি উপহারের চেয়েও মূল্যবান হয়।
ক্লান্ত মুখে একটুখানি
হাসি দিলে প্রাণে,
সারাদিনের দুঃখ যেন
মুছে যায় নিমিষে।
স্বামী যদি স্ত্রীর হাতে
দেয় ভালোবাসার ফুল,
স্ত্রী যদি হাসিমুখে বলে—
“ভুল হলে করো না ভুল,”
ছোট্ট ছোট্ট যত্নগুলো
বড় হয়ে যায় শেষে,
এই তো প্রেমের সত্য রূপ—
জীবন থাকে হেসে।
উপহার মানে শুধু নয় যে
দামি কোনো বস্তু,
সময় দেওয়া, পাশে থাকা—
এও ভালোবাসা সুদৃঢ়।
একটু জিজ্ঞেস—“কেমন আছ?”
একটু মমতার বাণী,
এতেই তো হয় হৃদয়জুড়ে
ভালোবাসার বাগানখানি।
সারাদিনের ব্যস্ততার পর
দুজন বসো পাশে,
দিনের কথা, মনের কথা
বলো ভালোবেসে।
মোবাইল সরিয়ে কিছুক্ষণ
চোখে চোখ রাখো,
ভালোবাসার হারানো সময়
আবার ফিরে ডাকো।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের
বন্ধু হবে আগে,
মনের কথা নির্ভয়ে যেন
বলা যায় অনুরাগে।
যেখানে ভয়, সেখানে প্রেমের
পূর্ণতা আসে না,
যেখানে সম্মান থাকে সদা
সম্পর্ক ভাঙে না।
স্ত্রীর শ্রম অমূল্য অনেক,
ঘরটি তারই হাতে,
স্বামীর শ্রমও কম নয় কোনো
জীবন চালানোর পথে।
দুজনেরই অবদানকে
দাও যথাযথ মান,
“আমি বেশি, তুমি কম”—
এমন যেন না হয় প্রাণ।
স্বামী শুধু উপার্জন করে
দায়িত্ব শেষ নয়,
স্ত্রীর প্রতি কোমল আচরণ
তারও বড় পরিচয়।
স্ত্রী শুধু ঘর সামলাবে—
এমন কথাও নয়,
দুজন মিলে সংসার গড়াই
সুন্দর জীবনের জয়।
সন্তানেরা দেখে ঘরে
মা-বাবার ব্যবহার,
তাদের চোখে শেখে তারা
কেমন হবে সংসার।
মা যদি বাবাকে সম্মান
দেয় ভালোবাসায়,
বাবাও যদি মায়ের মর্যাদা
রাখে আপন ছায়ায়—
সন্তানের হৃদয়েও তখন
শান্তির বীজ রয়,
সুন্দর পরিবার গড়ার শিক্ষা
সেখান থেকেই হয়।
তাই সন্তানের সামনে কখনো
করো না অপমান,
পরস্পরকে হেয় করে
ভেঙো না সম্মান।
বিরোধ যদি হয়ও কোনো
শান্তভাবে মেটাও,
শিশুর কোমল হৃদয়টাকে
কষ্ট থেকে বাঁচাও।
শ্বশুরবাড়ি, বাবার বাড়ি—
দুটিই হোক মান,
পরিবারকে সম্মান দিলে
বাড়ে ভালোবাসার টান।
কেউ কারও আপনজনকে
অবজ্ঞা কোরো না,
সম্পর্কের এই সেতুগুলো
অকারণে ভেঙো না।
স্ত্রীর মা-বাবা যেমন
সম্মানেরই পাত্র,
স্বামীর মা-বাবার প্রতিও
থাকুক ভালোবাসা মাত্র।
পরিবারে যদি সৌহার্দ্য থাকে,
মুছে যায় অভিমান,
দুই পরিবারের মিলনেই তো
পূর্ণ হয় সংসার-জ্ঞান।
তবে অন্যায় হলে অন্যায়
বলে দিতেই হবে,
জুলুমকে কোনো ভালোবাসা
নাম দিয়ে ঢাকবে না রবে।
ইসলাম শিখায় ন্যায় ও দয়া,
সত্যের পথে চলা,
জীবনজুড়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা—
এই হোক মনের বলা।
পরস্পরের অধিকারগুলো
জেনে নাও দুজন,
অধিকার আর দায়িত্ব মিলে
পূর্ণ হয় জীবন।
শুধু পাওয়ার দাবি নয় যে,
দেওয়ারও আছে দায়,
যে দিতে শেখে ভালোবেসে
সুখ তার ঘরে চায়।
স্ত্রী যদি হয় স্বামীর কাছে
আমানত ও সাথি,
স্বামীও তো স্ত্রীর কাছে
দায়িত্বেরই বাতি।
আমানতের হক আদায় করে
চলো রবের পথে,
তবেই শান্তি নেমে আসবে
সংসারেরই রথে।
দাম্পত্যের পথে কখনো
ঝড় আসতেই পারে,
মেঘের আড়াল পেরিয়ে সূর্য
আবার হাসে দ্বারে।
তাই বিপদে হাত ছেড়ো না,
ধরো শক্ত করে হাত,
সবর, দোয়া, ভালোবাসায়
কেটে যাবে রাত।
অসুস্থ হলে পাশে থেকো,
দুঃখে থেকো কাছে,
একটি মমতাময়ী বাক্য
কত শান্তি আনে।
যে মানুষটি বিপদে তোমার
হয়ে দাঁড়ায় ঢাল,
তার প্রতি কৃতজ্ঞ হও—
এটাই প্রেমের চাল।
সুখের দিনে সবাই থাকে,
দুঃখে চেনা যায়,
কে যে সত্য আপন মানুষ
বিপদেই বোঝা যায়।
স্বামী-স্ত্রী যদি পরস্পরের
দুঃখের সাথি হয়,
তাদের ঘরে ভালোবাসার
প্রদীপ নিভে না কভু।
অভিমান হলে কাছে এসো,
দূরে যেও না সরে,
একটি মিষ্টি কথা বলো
নরম মনের স্বরে।
“চলো ভুলে যাই”—এই কথাটি
কত বড় উপহার,
একটি ক্ষমার স্পর্শে মুছে
যায় হৃদয়ের ভার।
রাতের শেষে ফজর যেমন
আলো নিয়ে আসে,
ক্ষমার পরে ভালোবাসা
নতুন করে হাসে।
গতকালের সব কষ্টগুলো
আজকে দিও ছুটি,
নতুন দিনের নতুন আশায়
গড়ো সুখের ভুবনটি।
নামাজে দুজন হাত তুলো
রবের দরবারে,
পরিবারের শান্তি চেয়ে
কাঁদো তাঁরই দ্বারে।
দোয়ার মাঝে স্বামী-স্ত্রী
একে অন্যের নাম,
রবের রহমত পেলে তবে
সার্থক হবে কাম।
কুরআনেরই আলো হাতে
চলো জীবনের পথে,
সুন্নাহরই সুন্দর শিক্ষা
রাখো আপন রথে।
হালাল পথে উপার্জন করো,
হালাল পথে চলো,
রবের দেওয়া সীমার মাঝে
সুখের প্রদীপ জ্বালো।
ভালোবাসা যদি হয় শুধু
দেহের আকর্ষণ,
সময় গেলে ম্লান হয়ে যায়
তারই আয়োজন।
কিন্তু যদি ঈমান থাকে
হৃদয়েরই মাঝে,
তবে প্রেমের শিকড় গাঁথে
আখিরাতের সাজে।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন
একদিন হবে শেষ,
রবের কাছে ফিরতে হবে—
এ সত্যটি অবশেষ।
তাই এমনভাবে সংসার গড়ো
যাতে রব হন খুশি,
স্বামী-স্ত্রী একসাথে চলো
সৎপথে নিরবধি।
ভালোবাসা মানে নয় শুধু
হাসি আর উৎসব,
ভালোবাসা মানে ত্যাগও
দায়িত্বেরই মহত্ত্ব।
নিজের চাওয়া কিছুটা ছেড়ে
সঙ্গীর চাওয়া বোঝা,
এই তো প্রেমের সার্থকতা,
এই তো হৃদয় খোঁজা।
কথায় কথায় “তুমি দোষী”—
এমন কথা নয়,
“আমরা মিলে ঠিক করব”—
এই হোক মনের জয়।
সমস্যাকে শত্রু না ভেবে
দুজন মিলে ধরো,
মানুষ নয়, সমস্যাটাকেই
পরাজিত করে চলো।
স্বামী যদি হয় উদার হৃদয়,
স্ত্রী যদি হয় ধীর,
সংসারজুড়ে শান্তির সুবাস
ছড়িয়ে পড়ে নীরব নীড়।
একজন যদি রাগে জ্বলে,
অন্যজন হোক জল,
দুজন মিলে আগুন নেভাও—
এটাই প্রেমের ফল।
কখনো যদি মতের অমিল
হয় কোনো বিষয়ে,
মত আলাদা হতে পারে—
মন কেন যাবে ভেঙে?
তর্ক নয়, যুক্তি দিয়ে
কথা বলো শান্ত,
ভিন্নমতেও ভালোবাসা
রাখো অটুট, পবিত্র।
কারও দুর্বলতা নিয়ে
হাসাহাসি কোরো না,
গোপন কষ্ট সবার সামনে
প্রকাশ করে দিও না।
যে তোমাকে বিশ্বাস করে
মনের দুয়ার খোলে,
তার আমানত রক্ষা করো
ভালোবাসার বলে।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যেন
একটি সুন্দর বাগান,
যত্ন দিলে ফুল ফুটে যায়,
অযত্নে হয় শূন্যস্থান।
স্নেহ হলো তার জলসিঞ্চন,
বিশ্বাস হলো মাটি,
সম্মান তার আলো হয়ে
জ্বালায় প্রেমের বাতি।
প্রতিদিনই একটু একটু
ভালোবাসা দাও,
সঙ্গীর সুন্দর গুণের কথা
মুখে তুলে গাও।
শুধু দোষের হিসাব কষে
জীবন কোরো না ক্ষয়,
গুণের প্রশংসা মানুষকে
আরও সুন্দর করে নিশ্চয়।
“তুমি পারো”—এই কথাটি
দাও প্রেরণার মতো,
“আমি আছি”—এই কথাটি
হোক আশ্বাস যত।
জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত হলে
হাতটি ধরো হাতে,
একসাথে পথ চলার সুখ
লুকিয়ে আছে তাতে।
বয়স বাড়ুক, চেহারা বদলাক,
কমুক যৌবন-রং,
সত্যিকারের ভালোবাসায়
বাড়ুক হৃদয়ের ঢং।
চুলে যখন রুপালি ছোঁয়া,
চোখে ক্লান্তি আসে,
তবুও যেন দুজন দুজনের
হয়ে থাকে পাশে।
আজ যে হাতটি ধরেছ তুমি
রাখো সেই হাত ধরে,
বার্ধক্যের শেষ বিকেলেও
থাকো পাশাপাশি করে।
জীবনের শেষ প্রহরেও
থাকুক মনের টান,
এই তো প্রেমের পূর্ণতা—
অটুট ভালোবাসার গান।
হে আল্লাহ, দাও সে শক্তি
দাম্পত্য রাখি সুন্দর,
হিংসা, রাগ, অহংকার থেকে
রাখো হৃদয় নির্মল।
ভালোবাসায় ভরাও ঘরটি,
দাও রহমতের ছায়া,
স্বামী-স্ত্রীর জীবনজুড়ে
দাও শান্তি, দাও মায়া।
সন্তানদের করো নেক,
করো আদর্শবান,
ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দাও
ঈমানেরই গান।
মা-বাবার ভালোবাসাতে
শিশুর হৃদয় ভরে,
সুন্দর মানুষ হয়ে তারা
বড় হোক পৃথিবীজুড়ে।
যে ঘরে কুরআনের আলো,
যে ঘরে নামাজ,
যে ঘরে থাকে সত্য, দয়া—
সেই ঘরেই সুখের সাজ।
যে ঘরে থাকে পরস্পরের
সম্মান ও মায়া,
সেই ঘরে তো রহমত নামে
সুবাস হয়ে ছায়া।
স্বামী-স্ত্রী যদি পরস্পরকে
আল্লাহর পথে টানে,
সেই সম্পর্ক সার্থক হবে
দুনিয়া ও পরকালে।
একজন অন্যজনের জন্য
হোক নেকির সাথি,
জীবনজুড়ে পাশাপাশি
জ্বলুক ঈমানের বাতি।
শেষে তাই এই প্রার্থনা—
হে পরওয়ারদিগার,
প্রতিটি ঘরে দাও তুমি
শান্তির অমৃতধার।
ভালোবাসা, দয়া, মমতা
দাও হৃদয়ের মাঝে,
স্বামী-স্ত্রী রাখো একসাথে
তোমার রহমতের ছায়ায়।
যে প্রেমে নেই অহংকার,
নেই কোনো প্রতারণা,
যে প্রেমে আছে সত্য, দয়া,
ক্ষমা ও আত্মত্যাগ—
সেই প্রেম হোক পবিত্র,
সেই প্রেম হোক মহান,
সেই প্রেমেই গড়ে উঠুক
সুখী পরিবার-প্রাণ।
সংসার হোক শান্তির নীড়,
ভালোবাসার ঘর,
স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে
হোক একে অন্যের পরম সহচর।
দুঃখে সাথি, সুখে সাথি,
হৃদয়ে হৃদয় মেল,
দুনিয়ার পথ পেরিয়ে দুজন
জান্নাতের পথে চল।
ভালোবাসা হোক ইবাদত,
সম্মান হোক মান,
দায়িত্ব হোক আমানত,
ক্ষমা হোক প্রাণ।
আল্লাহরই সন্তুষ্টির তরে
গড়ো জীবন-ঘর—
এমন প্রেমেই সুন্দর হোক
দুনিয়া ও পরকাল।
ভালোবাসায় গড়া সংসার
সংসার মানে শুধু ঘর নয়,
সংসার মানে মন,
ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা
দুটি হৃদয় আপন।
সুখের দিনে হাসির সাথি,
দুঃখে আপনজন,
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসায়
সুন্দর হয় জীবন।
আল্লাহ যিনি সৃষ্টি করেছেন
এই বিশাল সংসার,
তাঁরই হুকুমে জীবনজুড়ে
জোড়া লাগে মন-প্রাণ।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের
শান্তি, স্নেহ, ছায়া,
ভালোবাসার কোমল পরশে
দূর হয় সব মায়া।
আল্লাহ বলেন—“তাঁর নিদর্শন
তোমাদেরই মাঝে,
তোমাদের জন্য সঙ্গী সৃষ্টি
করেছেন ভালোবাসায়।”
মুমিন হৃদয় বুঝে নেয় যে
এই সম্পর্ক দান,
শুকরিয়াতে পূর্ণ করে তাই
দাম্পত্যের প্রাণ।
**“লিতাসকুনু ইলাইহা”—
শান্তির জন্য সাথি,
“ওয়া জা‘আলা বাইনাকুম
মাওয়াদ্দাতাও ওয়া রহমাহ”—
ভালোবাসা, দয়া, মায়া,
এই তো দাম্পত্যের বাতি।
শুধু প্রেমের মিষ্টি কথা
দাম্পত্যের শেষ নয়,
দায়িত্ববোধ, আমানত রক্ষা,
বিশ্বাসই তার জয়।
একজন যদি ক্লান্ত হয়ে
ফিরে আসে ঘরে,
অন্যজনের মিষ্টি হাসি
শান্তি আনে অন্তরে।
স্বামী হবে স্ত্রীর কাছে
নিরাপদ আশ্রয়,
স্ত্রী হবে স্বামীর পাশে
সান্ত্বনারই পরিচয়।
কথার মাঝে কোমলতা,
আচরণে সম্মান,
এভাবেই তো গড়ে ওঠে
ভালোবাসার প্রাণ।
স্ত্রীর কথায় কান দেবে,
স্বামী হবে ধীর,
স্ত্রীও স্বামীর সম্মান রাখবে—
হৃদয় হবে নীর।
কেউ কাউকে ছোট করবে না,
করবে না অপমান,
সম্মানেরই ভিতের ওপর
গড়বে সুখের ঘর-সংসার।
রাগ যখনই জ্বলে ওঠে
আগুনেরই মতো,
কথার তীরে আঘাত দিয়ে
করো না হৃদয় ক্ষত।
একটু থামো, নীরব থাকো,
শান্ত করো মন,
রাগের বশে বলা কথায়
ভাঙতে পারে জীবন।
ভুল তো মানুষ করবেই কখনো,
এটাই মানবধর্ম,
ক্ষমা যদি থাকে হৃদয়ে
মুছে যায় সব মর্ম।
ছোটখাটো ভুলকে নিয়ে
রাগ জমিও না মনে,
ক্ষমার ফুল ফুটুক সদা
দাম্পত্যেরই বনে।
বিশ্বাস হলো সংসার-ঘরের
সবচেয়ে মজবুত দ্বার,
বিশ্বাস ভাঙলে অন্ধকারে
হারিয়ে যায় অধিকার।
সত্য কথাই বলবে দুজন,
রাখবে না কোনো ছল,
বিশ্বাসেরই আলো জ্বাললে
সুখের হবে ঘর।
গোপন কথা গোপন রাখো,
রাখো সঙ্গীর মান,
পরের কাছে প্রকাশ করে
করো না অপমান।
যে দুঃখটি ঘরের কথা,
ঘরেই করো শেষ,
ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখাই
হোক জীবনের রেশ।
অভাব যদি আসে ঘরে,
ভেঙো না মন-প্রাণ,
অল্পতেই তুষ্ট থাকো,
করো আল্লাহর শোকরান।
আজকে যদি কম থাকে কিছু,
কাল তো হতে পারে,
সবর করে চললে মানুষ
সফল হয় শেষে।
অর্থ নয় যে ভালোবাসার
একমাত্র পরিচয়,
একটি মধুর কথা অনেক
দামি উপহারের চেয়েও মূল্যবান হয়।
ক্লান্ত মুখে একটুখানি
হাসি দিলে প্রাণে,
সারাদিনের দুঃখ যেন
মুছে যায় নিমিষে।
স্বামী যদি স্ত্রীর হাতে
দেয় ভালোবাসার ফুল,
স্ত্রী যদি হাসিমুখে বলে—
“ভুল হলে করো না ভুল,”
ছোট্ট ছোট্ট যত্নগুলো
বড় হয়ে যায় শেষে,
এই তো প্রেমের সত্য রূপ—
জীবন থাকে হেসে।
উপহার মানে শুধু নয় যে
দামি কোনো বস্তু,
সময় দেওয়া, পাশে থাকা—
এও ভালোবাসা সুদৃঢ়।
একটু জিজ্ঞেস—“কেমন আছ?”
একটু মমতার বাণী,
এতেই তো হয় হৃদয়জুড়ে
ভালোবাসার বাগানখানি।
সারাদিনের ব্যস্ততার পর
দুজন বসো পাশে,
দিনের কথা, মনের কথা
বলো ভালোবেসে।
মোবাইল সরিয়ে কিছুক্ষণ
চোখে চোখ রাখো,
ভালোবাসার হারানো সময়
আবার ফিরে ডাকো।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের
বন্ধু হবে আগে,
মনের কথা নির্ভয়ে যেন
বলা যায় অনুরাগে।
যেখানে ভয়, সেখানে প্রেমের
পূর্ণতা আসে না,
যেখানে সম্মান থাকে সদা
সম্পর্ক ভাঙে না।
স্ত্রীর শ্রম অমূল্য অনেক,
ঘরটি তারই হাতে,
স্বামীর শ্রমও কম নয় কোনো
জীবন চালানোর পথে।
দুজনেরই অবদানকে
দাও যথাযথ মান,
“আমি বেশি, তুমি কম”—
এমন যেন না হয় প্রাণ।
স্বামী শুধু উপার্জন করে
দায়িত্ব শেষ নয়,
স্ত্রীর প্রতি কোমল আচরণ
তারও বড় পরিচয়।
স্ত্রী শুধু ঘর সামলাবে—
এমন কথাও নয়,
দুজন মিলে সংসার গড়াই
সুন্দর জীবনের জয়।
সন্তানেরা দেখে ঘরে
মা-বাবার ব্যবহার,
তাদের চোখে শেখে তারা
কেমন হবে সংসার।
মা যদি বাবাকে সম্মান
দেয় ভালোবাসায়,
বাবাও যদি মায়ের মর্যাদা
রাখে আপন ছায়ায়—
সন্তানের হৃদয়েও তখন
শান্তির বীজ রয়,
সুন্দর পরিবার গড়ার শিক্ষা
সেখান থেকেই হয়।
তাই সন্তানের সামনে কখনো
করো না অপমান,
পরস্পরকে হেয় করে
ভেঙো না সম্মান।
বিরোধ যদি হয়ও কোনো
শান্তভাবে মেটাও,
শিশুর কোমল হৃদয়টাকে
কষ্ট থেকে বাঁচাও।
শ্বশুরবাড়ি, বাবার বাড়ি—
দুটিই হোক মান,
পরিবারকে সম্মান দিলে
বাড়ে ভালোবাসার টান।
কেউ কারও আপনজনকে
অবজ্ঞা কোরো না,
সম্পর্কের এই সেতুগুলো
অকারণে ভেঙো না।
স্ত্রীর মা-বাবা যেমন
সম্মানেরই পাত্র,
স্বামীর মা-বাবার প্রতিও
থাকুক ভালোবাসা মাত্র।
পরিবারে যদি সৌহার্দ্য থাকে,
মুছে যায় অভিমান,
দুই পরিবারের মিলনেই তো
পূর্ণ হয় সংসার-জ্ঞান।
তবে অন্যায় হলে অন্যায়
বলে দিতেই হবে,
জুলুমকে কোনো ভালোবাসা
নাম দিয়ে ঢাকবে না রবে।
ইসলাম শিখায় ন্যায় ও দয়া,
সত্যের পথে চলা,
জীবনজুড়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা—
এই হোক মনের বলা।
পরস্পরের অধিকারগুলো
জেনে নাও দুজন,
অধিকার আর দায়িত্ব মিলে
পূর্ণ হয় জীবন।
শুধু পাওয়ার দাবি নয় যে,
দেওয়ারও আছে দায়,
যে দিতে শেখে ভালোবেসে
সুখ তার ঘরে চায়।
স্ত্রী যদি হয় স্বামীর কাছে
আমানত ও সাথি,
স্বামীও তো স্ত্রীর কাছে
দায়িত্বেরই বাতি।
আমানতের হক আদায় করে
চলো রবের পথে,
তবেই শান্তি নেমে আসবে
সংসারেরই রথে।
দাম্পত্যের পথে কখনো
ঝড় আসতেই পারে,
মেঘের আড়াল পেরিয়ে সূর্য
আবার হাসে দ্বারে।
তাই বিপদে হাত ছেড়ো না,
ধরো শক্ত করে হাত,
সবর, দোয়া, ভালোবাসায়
কেটে যাবে রাত।
অসুস্থ হলে পাশে থেকো,
দুঃখে থেকো কাছে,
একটি মমতাময়ী বাক্য
কত শান্তি আনে।
যে মানুষটি বিপদে তোমার
হয়ে দাঁড়ায় ঢাল,
তার প্রতি কৃতজ্ঞ হও—
এটাই প্রেমের চাল।
সুখের দিনে সবাই থাকে,
দুঃখে চেনা যায়,
কে যে সত্য আপন মানুষ
বিপদেই বোঝা যায়।
স্বামী-স্ত্রী যদি পরস্পরের
দুঃখের সাথি হয়,
তাদের ঘরে ভালোবাসার
প্রদীপ নিভে না কভু।
অভিমান হলে কাছে এসো,
দূরে যেও না সরে,
একটি মিষ্টি কথা বলো
নরম মনের স্বরে।
“চলো ভুলে যাই”—এই কথাটি
কত বড় উপহার,
একটি ক্ষমার স্পর্শে মুছে
যায় হৃদয়ের ভার।
রাতের শেষে ফজর যেমন
আলো নিয়ে আসে,
ক্ষমার পরে ভালোবাসা
নতুন করে হাসে।
গতকালের সব কষ্টগুলো
আজকে দিও ছুটি,
নতুন দিনের নতুন আশায়
গড়ো সুখের ভুবনটি।
নামাজে দুজন হাত তুলো
রবের দরবারে,
পরিবারের শান্তি চেয়ে
কাঁদো তাঁরই দ্বারে।
দোয়ার মাঝে স্বামী-স্ত্রী
একে অন্যের নাম,
রবের রহমত পেলে তবে
সার্থক হবে কাম।
কুরআনেরই আলো হাতে
চলো জীবনের পথে,
সুন্নাহরই সুন্দর শিক্ষা
রাখো আপন রথে।
হালাল পথে উপার্জন করো,
হালাল পথে চলো,
রবের দেওয়া সীমার মাঝে
সুখের প্রদীপ জ্বালো।
ভালোবাসা যদি হয় শুধু
দেহের আকর্ষণ,
সময় গেলে ম্লান হয়ে যায়
তারই আয়োজন।
কিন্তু যদি ঈমান থাকে
হৃদয়েরই মাঝে,
তবে প্রেমের শিকড় গাঁথে
আখিরাতের সাজে।
দুনিয়ার এই ক্ষণিক জীবন
একদিন হবে শেষ,
রবের কাছে ফিরতে হবে—
এ সত্যটি অবশেষ।
তাই এমনভাবে সংসার গড়ো
যাতে রব হন খুশি,
স্বামী-স্ত্রী একসাথে চলো
সৎপথে নিরবধি।
ভালোবাসা মানে নয় শুধু
হাসি আর উৎসব,
ভালোবাসা মানে ত্যাগও
দায়িত্বেরই মহত্ত্ব।
নিজের চাওয়া কিছুটা ছেড়ে
সঙ্গীর চাওয়া বোঝা,
এই তো প্রেমের সার্থকতা,
এই তো হৃদয় খোঁজা।
কথায় কথায় “তুমি দোষী”—
এমন কথা নয়,
“আমরা মিলে ঠিক করব”—
এই হোক মনের জয়।
সমস্যাকে শত্রু না ভেবে
দুজন মিলে ধরো,
মানুষ নয়, সমস্যাটাকেই
পরাজিত করে চলো।
স্বামী যদি হয় উদার হৃদয়,
স্ত্রী যদি হয় ধীর,
সংসারজুড়ে শান্তির সুবাস
ছড়িয়ে পড়ে নীরব নীড়।
একজন যদি রাগে জ্বলে,
অন্যজন হোক জল,
দুজন মিলে আগুন নেভাও—
এটাই প্রেমের ফল।
কখনো যদি মতের অমিল
হয় কোনো বিষয়ে,
মত আলাদা হতে পারে—
মন কেন যাবে ভেঙে?
তর্ক নয়, যুক্তি দিয়ে
কথা বলো শান্ত,
ভিন্নমতেও ভালোবাসা
রাখো অটুট, পবিত্র।
কারও দুর্বলতা নিয়ে
হাসাহাসি কোরো না,
গোপন কষ্ট সবার সামনে
প্রকাশ করে দিও না।
যে তোমাকে বিশ্বাস করে
মনের দুয়ার খোলে,
তার আমানত রক্ষা করো
ভালোবাসার বলে।
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যেন
একটি সুন্দর বাগান,
যত্ন দিলে ফুল ফুটে যায়,
অযত্নে হয় শূন্যস্থান।
স্নেহ হলো তার জলসিঞ্চন,
বিশ্বাস হলো মাটি,
সম্মান তার আলো হয়ে
জ্বালায় প্রেমের বাতি।
প্রতিদিনই একটু একটু
ভালোবাসা দাও,
সঙ্গীর সুন্দর গুণের কথা
মুখে তুলে গাও।
শুধু দোষের হিসাব কষে
জীবন কোরো না ক্ষয়,
গুণের প্রশংসা মানুষকে
আরও সুন্দর করে নিশ্চয়।
“তুমি পারো”—এই কথাটি
দাও প্রেরণার মতো,
“আমি আছি”—এই কথাটি
হোক আশ্বাস যত।
জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত হলে
হাতটি ধরো হাতে,
একসাথে পথ চলার সুখ
লুকিয়ে আছে তাতে।
বয়স বাড়ুক, চেহারা বদলাক,
কমুক যৌবন-রং,
সত্যিকারের ভালোবাসায়
বাড়ুক হৃদয়ের ঢং।
চুলে যখন রুপালি ছোঁয়া,
চোখে ক্লান্তি আসে,
তবুও যেন দুজন দুজনের
হয়ে থাকে পাশে।
আজ যে হাতটি ধরেছ তুমি
রাখো সেই হাত ধরে,
বার্ধক্যের শেষ বিকেলেও
থাকো পাশাপাশি করে।
জীবনের শেষ প্রহরেও
থাকুক মনের টান,
এই তো প্রেমের পূর্ণতা—
অটুট ভালোবাসার গান।
হে আল্লাহ, দাও সে শক্তি
দাম্পত্য রাখি সুন্দর,
হিংসা, রাগ, অহংকার থেকে
রাখো হৃদয় নির্মল।
ভালোবাসায় ভরাও ঘরটি,
দাও রহমতের ছায়া,
স্বামী-স্ত্রীর জীবনজুড়ে
দাও শান্তি, দাও মায়া।
সন্তানদের করো নেক,
করো আদর্শবান,
ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দাও
ঈমানেরই গান।
মা-বাবার ভালোবাসাতে
শিশুর হৃদয় ভরে,
সুন্দর মানুষ হয়ে তারা
বড় হোক পৃথিবীজুড়ে।
যে ঘরে কুরআনের আলো,
যে ঘরে নামাজ,
যে ঘরে থাকে সত্য, দয়া—
সেই ঘরেই সুখের সাজ।
যে ঘরে থাকে পরস্পরের
সম্মান ও মায়া,
সেই ঘরে তো রহমত নামে
সুবাস হয়ে ছায়া।
স্বামী-স্ত্রী যদি পরস্পরকে
আল্লাহর পথে টানে,
সেই সম্পর্ক সার্থক হবে
দুনিয়া ও পরকালে।
একজন অন্যজনের জন্য
হোক নেকির সাথি,
জীবনজুড়ে পাশাপাশি
জ্বলুক ঈমানের বাতি।
শেষে তাই এই প্রার্থনা—
হে পরওয়ারদিগার,
প্রতিটি ঘরে দাও তুমি
শান্তির অমৃতধার।
ভালোবাসা, দয়া, মমতা
দাও হৃদয়ের মাঝে,
স্বামী-স্ত্রী রাখো একসাথে
তোমার রহমতের ছায়ায়।
যে প্রেমে নেই অহংকার,
নেই কোনো প্রতারণা,
যে প্রেমে আছে সত্য, দয়া,
ক্ষমা ও আত্মত্যাগ—
সেই প্রেম হোক পবিত্র,
সেই প্রেম হোক মহান,
সেই প্রেমেই গড়ে উঠুক
সুখী পরিবার-প্রাণ।
সংসার হোক শান্তির নীড়,
ভালোবাসার ঘর,
স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে
হোক একে অন্যের পরম সহচর।
দুঃখে সাথি, সুখে সাথি,
হৃদয়ে হৃদয় মেল,
দুনিয়ার পথ পেরিয়ে দুজন
জান্নাতের পথে চল।
ভালোবাসা হোক ইবাদত,
সম্মান হোক মান,
দায়িত্ব হোক আমানত,
ক্ষমা হোক প্রাণ।
আল্লাহরই সন্তুষ্টির তরে
গড়ো জীবন-ঘর—
এমন প্রেমেই সুন্দর হোক
দুনিয়া ও পরকাল।Bottom
of Form
১৩
১৮ মন্তব্য