Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

সাহারা মরুভূমিতে যেভাবে ডাইনোসরের ফসিল খুঁজে পেলাম

জীবাশ্মবিদেরা (জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানী) ৪০ ফুট লম্বা একটি তৃণভোজী ডাইনোসরের জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন। দিনের মরুভূমির প্রচণ্ড গরম এড়াতে তাঁরা রাতে কাজ করেন।

তাপমাত্রা ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চারদিকে খাঁ খাঁ বালুচর। পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ ও ভয়ংকর জায়গা সাহারা মরুভূমি। এমন এক মৃত্যুপুরীতে তুমি কী খুঁজবে? পানি নাকি একটুখানি ছায়া?

আমি ও আমার ২০ জন তরুণ ফসিলশিকারির দল সেখানে গিয়েছিলাম ডাইনোসরের খোঁজে! পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে আমাদের এই অভিযান ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ডাইনোসর শিকার। তিন মাস ধরে আমরা এই রাস্তাঘাটহীন, জ্বলন্ত মরুভূমির তিনটি আলাদা এলাকায় ফসিলের খোঁজ করব বলে ঠিক করি।

আমাদের পরিকল্পনা ছিল বেশ গোছানো। ঠিক করেছিলাম, যেসব ফসিল আমরা খুঁড়ে বের করব, সেগুলো খুব সাবধানে পরিষ্কার ও গবেষণার জন্য ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ফসিল ল্যাবে পাঠাব। এরপর গবেষণা শেষে সেগুলো আবার নাইজারেই ফিরিয়ে আনা হবে, যাতে সেখানকার জাদুঘরে মানুষ এগুলো দেখতে পারে।

সাহারা মরুভূমির একটি পাথুরে শৈলশিরা পেরিয়ে হাঁটছেন জীবাশ্মবিদেরা

এর আগেও আমি নাইজারের এই এলাকাগুলোতে এসেছিলাম। তখন দেখেছিলাম, ধু ধু মরুভূমির মাটি ফুঁড়ে বিশাল সব ডাইনোসরের কঙ্কাল বেরিয়ে আছে! কিন্তু সঙ্গে পর্যাপ্ত লোকজন বা যন্ত্রপাতি না থাকায় তখন শুধু জায়গাগুলোর নাম টুকে রাখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। মনে মনে শুধু এমন একটা অভিযানের স্বপ্ন দেখতাম। এবার আমরা আধুনিক সব সরঞ্জাম নিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত। ফসিল খোঁড়ার কাজটা কিন্তু আগের মতো শুধু হাতুড়ি আর ছেনির ওপর নির্ভরশীল নেই। আমরা এখন পুরোনো আমলের গাঁইতির পাশাপাশি পাললিক শিলা কাটার জন্য ওজনে হালকা কিন্তু ভীষণ শক্তিশালী ইলেকট্রিক জ্যাকহ্যামারও ব্যবহার করি!

মন্তব্য করুন