Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০১:৫১ অপরাহ্ণ

মানবতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি প্রাণ


​বিশ্বজুড়ে সংকটাপন্ন মানুষের সেবা ও সহায়তায় নিয়োজিত বীরদের শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার এক অনন্য দিন হলো বিশ্ব মানবিক দিবস। প্রতি বছর ১৯ আগস্ট অত্যন্ত সম্মান ও কৃতজ্ঞতার সাথে দিনটি পালিত হয়। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোটি কোটি মানুষ যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন যারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান, সেইসব সম্মুখ সারির মানবিক কর্মীদের আত্মত্যাগ ও সাহসকে স্বাতন্ত্র্য দেয় এই বিশেষ দিনটি।

​শিক্ষাঙ্গন হলো প্রকৃত মূল্যবোধ তৈরির প্রধান ক্ষেত্র। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশ্ব মানবিক দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। কেবল পাঠ্যবইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন করে একজন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে পারে না; তার ভেতরে সহমর্মিতা, পরোপকার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা আবশ্যক। দূরবর্তী কোনো দুর্যোগকবলিত এলাকায় কীভাবে মানবিক কর্মীরা নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে অন্যের জীবন রক্ষা করছেন, তা জানার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভেতরে মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।

​দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট মানবিক অভ্যাসের অনুশীলনের মাধ্যমেই বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়। সহপাঠীর বিপদে হাত বাড়ানো, সমাজের অসচ্ছল মানুষদের সাহায্য করা, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা কিংবা দুর্যোগের সময়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা প্রতিটি তরুণের জন্য জরুরি। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজ ও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তাদের হৃদয়ে যদি স্বার্থপরতার পরিবর্তে জনসেবা ও সহযোগিতার মানসিকতা পুষ্ট হয়, তবেই একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পৃথিবী উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

​বিশ্ব মানবিক দিবস আমাদের এই চিরন্তন সত্যটিই মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের চেয়ে বড় কোনো পরিচয় নেই এবং মানবসেবার চেয়ে মহৎ কোনো ব্রত হতে পারে না। আসুন, আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিই, পরম মমতায় একে অপরের পাশে দাঁড়াতে শিখি এবং একটি সুন্দর, সহানুভূতিশীল ও বিশ্বভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার সংকল্প গ্রহণ করি।

মন্তব্য করুন