সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি
বিষয়: এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন-স্কেল, উচ্চতর স্কেল, পদমর্যাদা ও দায়িত্বের মধ্যে বিদ্যমান অসামঞ্জস্য দূরীকরণের আবেদন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকগণ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, নৈতিক শিক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি দায়িত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেতন-স্কেল, উচ্চতর স্কেল, পদোন্নতির সুযোগ ও কার্যকর পদমর্যাদার দিক থেকে এখনো কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পায়নি।
একজন সহকারী প্রধান শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন, একাডেমিক কার্যক্রম তদারকি, শৃঙ্খলা রক্ষা, পরীক্ষা পরিচালনা, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ প্রতিষ্ঠানের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
অর্থাৎ—
দায়িত্ব আছে, জবাবদিহিতা আছে, কাজ আছে; কিন্তু সেই দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা কোথায়?
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর জন্য যদি পৃথক ও যৌক্তিক বেতন কাঠামো, উচ্চতর স্কেল এবং সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার প্রগ্রেশন না থাকে, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি ধীরে ধীরে আকর্ষণ হারায়।
একই প্রতিষ্ঠানে একজন সহকারী প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়, অথচ তাঁর আর্থিক সুবিধা ও পদমর্যাদা অনেক ক্ষেত্রে এমনভাবে নির্ধারিত থাকে যে দায়িত্বের সঙ্গে প্রাপ্য মর্যাদার সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন।
এটি শুধু একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমরা কোনো অযৌক্তিক সুবিধা চাই না। আমরা চাই—
১. সহকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য দায়িত্ব ও পদমর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পৃথক বেতন গ্রেড নির্ধারণ।
২. নির্দিষ্ট চাকরিকাল পূরণের পর উচ্চতর স্কেল/উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুস্পষ্ট বিধান।
৩. সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ থেকে প্রধান শিক্ষক পদে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও কার্যকর পদোন্নতি কাঠামো।
৪. সহকারী প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা বিধিমালায় স্পষ্টভাবে নির্ধারণ।
৫. সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুরূপ একটি যৌক্তিক ক্যারিয়ার কাঠামো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য প্রবর্তন।
৬. একই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বের স্তর অনুযায়ী বেতন ও পদমর্যাদার যৌক্তিক পার্থক্য নিশ্চিত করা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
একজন শিক্ষক যখন বছরের পর বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তাঁর প্রত্যাশা শুধু বেতন নয়—সম্মান, স্বীকৃতি, পদমর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা।
একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক যদি অনুভব করেন যে পদটি গ্রহণ করার পর দায়িত্ব বহুগুণ বাড়বে, কিন্তু সেই অনুপাতে বেতন, ক্ষমতা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতির সুযোগ বাড়বে না—তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মধ্যে হতাশা তৈরি হবে।
“একরাশ দায়িত্ব আর একরাশ হতাশা”—কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক নেতৃত্বের জন্য এটি কাম্য হতে পারে না।
আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা মানে শুধু শিক্ষকের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করা নয়; বরং তাঁর দায়িত্ব, ক্ষমতা, পদমর্যাদা ও ক্যারিয়ারকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।
তাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থে এবং এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন-স্কেল, উচ্চতর স্কেল, পদমর্যাদা ও পদোন্নতির বিষয়ে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আমরা বৈষম্য চাই না।
আমরা বিশেষ সুবিধা চাই না।
আমরা চাই ন্যায্যতা, মর্যাদা, দায়িত্বের স্বীকৃতি এবং একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হাজারো সহকারী প্রধান শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি আনতে পারে এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
আশা করি, আপনি বিষয়টি মানবিক ও নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
বিনীত,
এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকদের পক্ষে,
মোঃ আমিরুল ইসলাম,
সহকারী প্রধান শিক্ষক,
দেওগাঁ রিয়াজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়,
নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।
৭
৬ মন্তব্য