Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:২৬ অপরাহ্ণ

ড.কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন

১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হিসেবে ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠিত হয় এবং ১৯৭৪ সালের ৩০ মে কমিশন তাদের ঐতিহাসিক চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে ৩৬ সদস্যের এই কমিশন গঠন করেছিল। পাকিস্তান আমলের ঔপনিবেশিক ও বৈষম্যমূলক শিক্ষা কাঠামোর বদলে একটি অসাম্প্রদায়িক, সার্বজনীন, বিজ্ঞানমনস্ক ও উৎপাদনমুখী জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল এই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য।

কমিশনের মূল সুপারিশসমূহ:

 প্রাথমিক শিক্ষা: ১ম থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা নির্ধারণ করা এবং এটিকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

 মাতৃভাষায় শিক্ষাদান: প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা—সব স্তরে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং বাংলায় মানসম্মত উচ্চশিক্ষার বই রচনার সুপারিশ করা হয়।

 বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি প্রাক-বৃত্তিমূলক, কারিগরি ও কৃষি শিক্ষার বিস্তার ঘটানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

 ধর্মনিরপেক্ষ ও নৈতিক শিক্ষা: শিক্ষায় ধর্মীয় গোঁড়ামি বাদ দিয়ে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার পাশাপাশি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

 শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা: শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি, সন্তোষজনক বেতন কাঠামো এবং মানসম্মত শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

 নিরক্ষরতা দূরীকরণ: দেশের নিরক্ষরতা দূর করতে ব্যাপকভিত্তিক বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়।

কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশসমূহ স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষার সবচেয়ে আধুনিক ও প্রগতিশীল মাস্টারপ্ল্যান হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে কমিশনটির সুপারিশগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য করুন

ব্লগ