Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:১৯ অপরাহ্ণ

হলুদ খাওয়ার উপকার নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো কতটা সত্য


হলুদের গুঁড়ো রাখা একটি ছোট গোল পাত্র। এর পাশে একটি কাঠের চামচে অল্প পরিমাণ গুঁড়ো এবং বাম দিকে কাঁচা হলুদের শিকড়ের ছোট ছোট টুকরো রয়েছে।

খাবারকে সুস্বাদু করার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই মসলা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও কি অলৌকিক কিছু করতে পারে?

"আমার পরিবারের শিকড় পাঞ্জাবে, আর হলুদ ছাড়া কোনো খাবারের কথা আমি ভাবতেই পারি না," বিবিসির ফুড চেইন অনুষ্ঠানে বলছিলেন দক্ষিণ এশীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করা খাদ্যবিষয়ক গবেষক ও পডকাস্টার রাগিনি কাশ্যপ।

হলুদের প্রায় ৩০টি জাত রয়েছে, যা এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের সঙ্গে করে এর ব্যবহার পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের বালি ও ফিজি দ্বীপপুঞ্জ থেকে পশ্চিমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।

'জোরালো বার্তা'

কাশ্যপ জানান, আড়াই হাজার বছর আগের বিভিন্ন লেখাতেও হলুদের উল্লেখ পাওয়া গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই মসলার জীবাণুনাশক ও প্রদাহনাশক গুণ রয়েছে বলে বদ্ধমূল বিশ্বাস অঞ্চলগুলোর বাসিন্দাদের।

"আমি অসুস্থ হলে প্রথমেই মনে হওয়া জিনিসগুলোর একটি এই হলুদ। এটা আমাকে খুব স্বস্তি দেয়। এর সাথে মিশে আছে কিছুটা আরাম, কিছুটা ওষুধ, আর কিছুটা নস্টালজিয়া," বলছিলেন বর্তমানে দুবাইয়ে বসবাস করা কাশ্যপ।

ভারতে এটি বিয়ের একটি অনুষ্ঠানেরও অংশ, যেখানে বিয়ের আগে সৌন্দর্য বাড়ানো জন্য বর ও কনের মুখে হলুদের প্রলেপ লাগানোর রীতি রয়েছে।

End of সর্বাধিক পঠিত

ভারতীয় কনের পরিবারের নারী সদস্য ও বান্ধবীরা তাকে ঘিরে ‘হলুদ’ অনুষ্ঠানের সময় গায়ে হলুদের প্রলেপ লাগাচ্ছেন। নারীরা উজ্জ্বল হলুদ রঙের শাড়ি পরে আছেন; তাদের কপালে হলুদ রঙের অলংকার এবং হাতে মেহেদি লাগানো।ছবির উৎস,Getty Images

ছবির ক্যাপশান,হিন্দু সমাজে বিয়েসহ বিভিন্ন উৎসবের অনুষ্ঠানে উর্বরতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে হলুদ ব্যবহার করা হয়

পশ্চিমা বিশ্বের ভোক্তারা হলুদের নানা উপকারিতার বিষয়ে শোনার পর থেকে বিক্রি রকেটের গতিতে বাড়ছে।

হলুদের সাপ্লিমেন্টও বাজারজাত করা হচ্ছে। সাধারণত হলুদে কারকিউমিন নামের একটি যৌগ থাকে এবং স্বাস্থ্যের জন্য এটি উপকারী বলেই মনে করা হয়। হাড় ও জয়েন্ট ভালো রাখা থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো পর্যন্ত নানা উপকারের কথা বলে হলুদের সাপ্লিমেন্ট বিক্রির চেষ্টা করা হয়।

মানুষের হলুদ সেবনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়ার কারণেও আংশিকভাবে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলে মনে করেন কাশ্যপ।

"এক বিলিয়ন মানুষের বড় একটি অংশই যদি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে হলুদ অনেক ধরনের সমস্যা ঠিক করতে পারে, তাহলে সারা বিশ্বেই তা এক জোরালো বার্তা," বলেন তিনি।

"এর সঙ্গে যদি লবিং, সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির মতো বিষয়গুলো যুক্ত করেন, তাহলে সেই বার্তা খুবই শক্তিশালী হয়ে ওঠে।"

'সবচেয়ে খারাপ রাসায়নিক গঠন'

তবে এর উপকারিতা নিয়ে সন্দেহও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

কারকিউমিন নিয়ে ১০০টিরও বেশি গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় কর্মরত রসায়নবিদ ড. ক্যাথরিন নেলসন।

"আমরা দেখেছি, দাবিগুলো এমন যে, এটি সবকিছুই করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, সম্ভবত তেমন কিছুই করে না," বলেন তিনি।

ড. নেলসন ব্যাখ্যা করেন, হলুদের সমস্যা এর রাসায়নিক গঠনের মধ্যেই থাকতে পারে, যার কারণে এটি নিয়ে গবেষণা করা সহজ নয়। এটি অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল এবং পরীক্ষায় হস্তক্ষেপকারী যৌগ হিসেবেও কাজ করতে পারে; যার অর্থ হলো, আদতে কাজ না করলেও পরীক্ষার ফলাফলে এমন মনে হতে পারে যে এটি কাজ করছে।

তিনি জানান, এটি শরীরে খুব ভালোভাবে শোষিত হয় না, আর মুখে খাওয়ার পরও এর খুব সামান্য অংশই রক্তসঞ্চালনে প্রবেশ করে। একে আরও ভালো করার চেষ্টায় অনেকেই কালো মরিচের সঙ্গে হলুদ খান।

মন্তব্য করুন

ব্লগ