Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ণ

মশা: ক্ষুদ্র প্রাণীর বৃহৎ হুমকি


​মশা দেখতে ছোট্ট এক ক্ষুদ্র কীট, কিন্তু মানবজাতির ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি ক্ষতিকর ও মারাত্মক প্রাণী দ্বিতীয়টি নেই। পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা এই ক্ষুদ্র পতঙ্গটি প্রতিনিয়ত আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট ঝুঁকি তৈরি করে চলেছে। আজ ২০ আগস্ট, বিশ্ব মশা দিবস। এ দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কীভাবে একটি ছোট্ট পতঙ্গ আমাদের জনস্বাস্থ্যকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে পারে এবং কেন এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

​১৮৯৭ সালের আজকের দিনে ব্রিটিশ চিকিৎসক স্যার রোনাল্ড রস আবিষ্কার করেছিলেন যে স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা মানুষের দেহে ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে। তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং মানুষকে মশার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার পথ দেখায়। তাঁর এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারকে সম্মান জানাতে এবং মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গণসচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়।

​প্রতি বছর ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়া ও ফাইলেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। বিশেষ করে আমাদের মতো ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশে বর্ষাকালে ও তার পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। প্রতিটি ঘরে ঘরে যখন জ্বর ও নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়, তখন আমরা বুঝতে পারি মশা নিধন ও এর বংশবৃদ্ধি রোধ করা কতটা অপরিহার্য।

​মশাবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আমাদের চারপাশ সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা বারান্দায় ফুলের টব, ডাবের খোসা, অব্যবহৃত টায়ার বা প্লাস্টিকের পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি, কারণ জমা পানিই হলো এডিস মশার প্রজননের মূল ক্ষেত্র। তাই অন্তত তিন দিন পর পর জমা পানি ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

​কেবল কীটনাশক ছিটিয়ে বা সাময়িকভাবে মশা তাড়িয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে অভ্যাসের পরিবর্তন। রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা, শরীরের উন্মুক্ত অংশ ঢেকে রাখা কাপড় পরা এবং শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি নজর দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সাথে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবেশীদের মাঝেও এই সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।

​বিশ্ব মশা দিবসে আমাদের সকলের অঙ্গীকার হওয়া উচিত পরিচ্ছন্ন ও মশামুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা। আমাদের সামান্য সচেতনতা, খানিকটা ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রয়াসই পারে আমাদের ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও রোগমুক্ত জীবন উপহার দিতে।

মন্তব্য করুন