সহকারী শিক্ষক
২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:১৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন প্রক্রিয়ায় পাসপোর্টই প্রথম এবং সবচেয়ে জরুরি কাগজ, কারণ ভিসা আবেদনসহ পরবর্তী প্রায় প্রতিটি ধাপ এটির উপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে এখন সম্পূর্ণ ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু আছে, আবেদন থেকে সংগ্রহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটা অনলাইনভিত্তিক। প্রথমবার পাসপোর্ট করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বয়সভেদে কাগজপত্র ও প্রক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য থাকে, যেগুলো আগে থেকে জানা থাকলে আবেদন আটকে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
পাসপোর্টে যে নাম, জন্ম তারিখ ও ঠিকানা বসবে, সেটা এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সাথে হুবহু মিলতে হয়। এসএসসি বা এইচএসসি সার্টিফিকেটে নামের বানান বা জন্ম তারিখ এর চেয়ে ভিন্ন থাকলে সেটাও সমস্যা তৈরি করতে পারে, কারণ পরবর্তীতে ভিসা আবেদনে সবগুলো ডকুমেন্ট একসাথে যাচাই হয়।
তাই পাসপোর্ট আবেদনের আগে জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডির তথ্য একবার মিলিয়ে দেখে নেওয়া, আর কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে আগেই সংশোধন করিয়ে ফেলা ভালো। জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত সরকারি সেবাগুলোর বিস্তারিত ও ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াগুলো howbd.com থেকে শিখতে পারবেন।
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাধ্যতামূলক। এনআইডি এখনও না থাকলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়েও আবেদন করা যায়। ১৮ বছরের নিচে যারা, তাদের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (BDRIS) বাধ্যতামূলক, সাথে পিতা-মাতার এনআইডি ও ছবির কপি জমা দিতে হয়।
শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করলে পেশার ঘরে "Student" উল্লেখ করতে হয়, সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্টুডেন্ট আইডি কার্ড বা এনরোলমেন্ট সনদের কপি যুক্ত করে রাখা ভালো। সবসময় বাধ্যতামূলক না হলেও যাচাইয়ের সময় কাজে লাগে।
আবেদন শুরু হয় epassport.gov.bd-তে অনলাইন ফরম পূরণের মাধ্যমে, এই ধাপে ডকুমেন্ট আপলোডের প্রয়োজন হয় না। ফরম জমা দেওয়ার পর একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ পাওয়া যায়। সেই তারিখে মূল কাগজপত্রসহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি তোলা, দশ আঙুলের ছাপ ও আইরিশ স্ক্যান, আর স্বাক্ষর দেওয়ার বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমবার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশনের একটা ধাপ থাকে, যেটা প্রক্রিয়ায় বাড়তি কিছুদিন সময় নিতে পারে। তাই ভিসা আবেদনের ডেডলাইনের একদম কাছাকাছি সময়ে না গিয়ে হাতে যথেষ্ট সময় রেখে আবেদন করা নিরাপদ।
ই-পাসপোর্টের মেয়াদ বয়সের উপর নির্ভর করে। ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের জন্য ১০ বছর, আর ১৮ বছরের নিচে হলে ৫ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট পাওয়া যায়। যারা ১৭-১৮ বছর বয়সে পাসপোর্ট করছেন, তাদের জন্য এটা মাথায় রাখার মতো একটা বিষয় হচ্ছেঃ দীর্ঘমেয়াদি প্রোগ্রামে ভর্তি হলে মাঝপথে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যদিও বিদেশে থাকা অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন করা যায়।
পাসপোর্ট প্রক্রিয়াটা এখন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও ঝামেলাবিহীন, তবে ভিসা প্রক্রিয়ার সময়সীমার সাথে তাল মিলিয়ে আগেভাগে শুরু করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১৩
১৮ মন্তব্য