সহকারী শিক্ষক
২১ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:১৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বিদ্যালয়ে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটা এখন মূলত ডিজিটাল। তাই নির্দিষ্ট কাগজপত্র ছাড়া আবেদনটাই সম্পূর্ণ হয় না। প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য শ্রেণিভেদে আলাদা আলাদা কাগজ লাগে, বয়সসীমাও একেক শ্রেণিতে একেক রকম। কোন শ্রেণিতে কোন ডকুমেন্ট লাগবে তার তালিকা এবং আবেদনের সময় কোথায় ভুল হতে পারে, সবকিছু এই পোস্টে জানাবো, চলুন শুরু করি।
তালিকার সব কাগজের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন সনদই একমাত্র দলিল যা প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে একাদশ শ্রেণির ভর্তি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে লাগে। বয়স নির্ধারণ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীর নাম ও পিতা-মাতার নামের বানান পর্যন্ত সবকিছুর ভিত্তি ধরা হয় এই সনদটিকেই।
আর এখানেই বেশিরভাগ ভর্তি-জটিলতা তৈরি হয়। স্কুলের রেকর্ডে বা আগের কোনো সনদে যে নাম বা জন্ম তারিখ আছে, জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপির সাথে তা হুবহু না মিললে আবেদন আটকে যায়, এমনকি বাতিলও হয়ে যায়।
তাই ভর্তির আবেদন করার আগে জন্ম সনদের তথ্য অনলাইনে চেক করে সবকিছু মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। নাম, জন্ম তারিখ বা পিতা-মাতার নামে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে সেটা আগেভাগে ধরা পড়লে সংশোধনের জন্য হাতে সময়ও পাওয়া যায়।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স মূলত ৬ বছরের বেশি ধরা হয়। তবে প্রতি শিক্ষাবর্ষে সরকার একটা নির্দিষ্ট জন্মতারিখের সীমা ঠিক করে দেয়। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই সীমা ছিল জন্মতারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২১-এর মধ্যে (অর্থাৎ ন্যূনতম ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর)।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমায় সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত বাড়তি ছাড় দেওয়া হয়। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বয়সসীমা প্রথম শ্রেণির ভিত্তিতেই ধারাবাহিকভাবে হিসাব হয় (প্রতি শ্রেণিতে ১ বছর করে বাড়ে)। এই তারিখ প্রতি বছর সামান্য বদলায়, তাই আবেদনের আগে সেই বছরের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে একবার মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
প্রথম শ্রেণির ভর্তি আবেদনের জন্য যা যা লাগবে:
অনলাইন আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি
জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি (বয়স প্রমাণের প্রধান দলিল)
সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি
অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
ভর্তি ফি জমার প্রমাণ (টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল থেকে এসএমএসের মাধ্যমে দিতে হয়)
সরকারি ও মহানগর এলাকার নির্দিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে হয়। এর বাইরে অন্য কোনো পদ্ধতিতে ভর্তি বৈধ বলে গণ্য হয় না।
মাধ্যমিক পর্যায়ে, বিশেষ করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে (যেখানে পঞ্চম শ্রেণি শেষে নতুন স্কুলে ভর্তি হতে হয়), কাগজপত্রের তালিকাটা কিছুটা বড়:
জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি
পূর্ববর্তী শ্রেণির ফলাফল বা প্রশংসাপত্র
আগের স্কুলের ছাড়পত্র (টিসি), স্কুল পরিবর্তন হলে
অভিভাবকের এনআইডি/ভোটার তথ্য
সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটার সনদ (মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ইত্যাদি)
সপ্তম থেকে নবম শ্রেণিতে সরাসরি ভর্তির ক্ষেত্রেও মূলত একই কাগজপত্র লাগে, সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার প্রমাণ। সারা দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির আবেদন এখন একটিমাত্র সমন্বিত অনলাইন প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়, সাধারণত প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বরে আবেদন শুরু হয়।
কাগজপত্র হাতের কাছে গোছানো থাকলে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটাই অনেক কম চাপের মনে হয়। তাই শেষ মুহূর্তের দৌড়াদৌড়ি এড়াতে আজই তালিকাটা একবার মিলিয়ে নিন।
১৩
১৮ মন্তব্য