Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ আগস্ট, ২০২৬ ০১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

শ্রদ্ধা ফিরিয়ে দেওয়ার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত



আজ ভাটেরা ডিগ্রি কলেজের হলরুমে অনুষ্ঠিত হলো ভাটেরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি ব্যাচ–২০১৭-এর উদ্যোগে তাঁদের চারজন শ্রদ্ধেয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সংবর্ধনা। বর্তমানে ভাটেরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠান—ভাটেরা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভাটেরা ডিগ্রি কলেজ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কাঠামো বদলালেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, স্মৃতি ও ভালোবাসার বন্ধন যে কখনো বিভক্ত হয় না এসএসসি ব্যাচ–২০১৭-এর আজকের আয়োজন তারই এক সুন্দর প্রমাণ।

আজকের এই আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পেরে এবং ভাটেরা ডিগ্রি কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে কিছু কথা বলার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। আরও আবেগের বিষয় হলো যাঁদের আজ সংবর্ধনা দেওয়া হলো তাঁরা আমারও শিক্ষক। পরবর্তীতে তাঁদের সঙ্গে সহকর্মী হিসেবেও কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আর আজকের আয়োজক এসএসসি ব্যাচ–২০১৭-এর শিক্ষার্থীরা আমারই প্রিয় ছাত্র।

একসময় তাঁরা ছিলেন তাঁদের শিক্ষকদের সামনে বসা শিক্ষার্থী। আজ তাঁরা নিজেদের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও ফিরে এসেছেন তাঁদের শিকড়ের কাছে।শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে।

এই সুন্দর উদ্যোগের পেছনে বাশার,আবু সাইদ, আজির, মামুন, আতিক, শরীফ, পাপন, বিকাশ,নোমান, আরিফসহ ব্যাচ–২০১৭-এর প্রত্যেকের আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। এটি কোনো একজনের উদ্যোগ নয় বরং একটি ব্যাচের সম্মিলিত ভালোবাসা, স্মৃতিচারণ ও দায়িত্ববোধের প্রকাশ।

আমার কাছে এটাই আজকের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে সুন্দর দিক।

শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া স্বাভাবিক কিন্তু শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার বহু বছর পর সেই শিক্ষকের অবদানকে স্মরণ করে তাঁকে সম্মান জানাতে ফিরে আসা এটি একটি উন্নত মনন, সুন্দর সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয়।

এসএসসি ব্যাচ–২০১৭ আজ শুধু চারজন শিক্ষককে সম্মানিত করেনি বরং তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা দেখিয়েছে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকাও একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক দায়িত্ব। আজকের এই আয়োজন ছিল ০৩ ঘন্টার উপরে কিন্ত গোছানো ও শ্রোতাদের মনোযোগ ছিল প্রশংসনীয় ।

প্রিয় বাশার, আবু সাইদ, আজির, মামুন, আতিক, শরীফ, পাপন, বিকাশ, আরিফ, নোমান এবং এসএসসি ব্যাচ–২০১৭-এর সকল শিক্ষার্থী, তোমাদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তোমরা আজ তোমাদের শিক্ষকদের যে সম্মান ও ভালোবাসা ফিরিয়ে দিয়েছ তা তোমাদের নিজেদের জীবনেও একদিন অমূল্য স্মৃতি হয়ে ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি। এই সুন্দর উদ্যোগ ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ্বাস করি। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা যেন শুধু বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থাকে জীবনের পথচলায়ও তা বহমান থাকে। আমার চারজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আর এসএসসি ব্যাচ–২০১৭-এর প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও ভালোবাসা এমন একটি সুন্দর, মর্যাদাপূর্ণ ও অনুকরণীয় আয়োজনের জন্য। পরিশেষে বলতে চাই, শ্রদ্ধা যখন শিকড়ে ফিরে আসে তখন একটি প্রজন্ম শুধু তার শিক্ষকদের সম্মানিত করে না নিজেকেও আরও সমৃদ্ধ করে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ