সহকারী অধ্যাপক
২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
বিবাহে কফু, পিতা-মাতার অধিকার ও ইসলামের ভারসাম্য - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
বিবাহে কুফু, পিতা-মাতার অধিকার ও ইসলামের ভারসাম্য
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বিবাহ শুধু দুটি প্রাণের মিলন নয়,
দুটি পরিবারেরও নতুন পরিচয়।
দুটি হৃদয় বাঁধে যখন পবিত্র বন্ধনে,
ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে ভালোবাসার স্পন্দনে।
এ বন্ধন আমানত, এ বন্ধন পবিত্র,
এ বন্ধনে চাই জীবন হোক সুন্দর ও চরিত্র।
চাই ঈমান, চাই তাকওয়া, চাই মধুর ব্যবহার,
চাই দায়িত্ব, বিশ্বস্ততা, ভালোবাসার অঙ্গীকার।
চাই না শুধু রূপের মোহ, ধন-সম্পদের ভার,
চাই না বংশের অহংকার, ক্ষমতার অহংকার।
চাই এমন জীবনসাথি, যার হৃদয়ে দ্বীন,
সত্য যার পথের সাথি, চরিত্র যার ঋণ।
কুফু মানে উপযুক্ততা
বিবাহে ‘কুফু’ মানে উপযুক্ততার নাম,
দাম্পত্যে সামঞ্জস্যের সুন্দর এক বিধান।
দ্বীন ও চরিত্র, দায়িত্ব আর মান,
পারিবারিক বাস্তবতা—সবই পায় স্থান।
কুফু মানে নয় কেবল ধনীর সঙ্গে ধনী,
নয় শুধু বংশের গৌরব, বাহ্যিক রূপখানি।
কুফু মানে এমন মিল, যাতে সংসার চলে,
পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকে ভালোবাসার তলে।
যেখানে দুজন দুজনকে সম্মান দিতে জানে,
বিপদ এলে পাশাপাশি দাঁড়ায় একই প্রাণে;
সুখে-দুঃখে হাতটি ধরে, রাখে আস্থার মান—
সেই তো দাম্পত্যজীবনের সত্যিকারের প্রাণ।
ধন-সম্পদ আজ আছে, কাল হয়তো ক্ষয়,
রূপের জৌলুস সময় গেলে ম্লান হয়ে যায়।
বংশের গর্ব, সামাজিক মান—সবই ক্ষণস্থায়ী,
তাকওয়া ও উত্তম চরিত্র—সত্য মর্যাদা তাই।
আল্লাহর কাছে মর্যাদা পায় যে তাকওয়াবান,
তাঁর কাছে নয় বংশগৌরব, নয় ধনীর সম্মান।
হুজুরাতের বাণী দেয় মানুষকে এ জ্ঞান—
তাকওয়াতেই মর্যাদা, এ সত্য চির অম্লান।
কুফু না থাকলেই কি বিয়ে বাতিল?
কুফুর কোনো ঘাটতি হলেই—শুনে রেখো ভাই,
বিবাহ বাতিল হয়ে যায়—এ কথা ঠিক নয় তাই।
বিবাহের বৈধতা নির্ভর করে শর্তের বিধানে,
শরিয়তের নিয়ম মানতে হবে জ্ঞান ও প্রজ্ঞানে।
কুফুর আলোচনা আছে অধিকার ও স্বার্থে,
ফিকহের বিভিন্ন মত আছে তারই ব্যাখ্যাতে।
একটি মত শুনে যেন চূড়ান্ত কথা না কও,
জটিল মাসআলায় বিজ্ঞ আলেমের শরণ লও।
কেউ যদি বলে—“কফু নেই, বিয়ে বাতিল আজ”,
সর্বক্ষেত্রে এমন কথা নয় শরিয়তের সাজ।
আবার কেউ যদি বলে—“কিছুই দেখার নেই”,
সেটিও নয় ভারসাম্যের ইসলামী সেই পথটি।
বিবাহের আগে যাচাই করো দ্বীন ও চরিত্র,
দায়িত্ববোধ, সততা, ব্যবহার ও পবিত্র।
জীবনের লক্ষ্য, মানসিকতা, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা,
এসব ভেবে নিতে হবে বিবাহের সিদ্ধান্তখানা।
পিতা-মাতার মর্যাদা
পিতা-মাতা জীবনের অমূল্য দুটি দান,
তাঁদের সেবায় মেলে দুনিয়া-আখিরাতের সম্মান।
আল্লাহর ইবাদতের পর তাঁদের প্রতি সদাচার,
কোমল ভাষায় কথা বলা—সন্তানের অঙ্গীকার।
“উফ” শব্দটিও নয়, কষ্ট দেওয়া নয়,
বৃদ্ধ বয়সে অবহেলা করা কোনোভাবেই নয়।
তাঁদের জন্য দোয়া করো, সেবা করো প্রাণে,
ভালোবাসা ঢেলে দাও তাঁদের শেষ জীবনে।
যাঁদের হাতে শৈশব কেটেছে, মুছে গেছে ঘাম,
তাঁদের প্রতি সন্তানের কি শেষ হতে পারে দাম?
মায়ের বুকে আশ্রয় ছিল, বাবার ছিল ছায়া,
তাঁদের ঋণ শোধ করা কি সহজ কোনো মায়া?
তবু ইসলাম শেখায়—আনুগত্যেরও সীমা আছে,
আল্লাহর অবাধ্যতায় আনুগত্য নেই কারও কাছে।
হারাম কাজে বললে কেউ—“এ কাজটি করো”,
ভদ্রতা রেখে বলবে তুমি—“এটি আমি পারব না।”
অমান্য করলেও নয় যেন অসম্মানের ভাষা,
সদাচরণ থাকবে তবু, থাকবে হৃদয়ভরা আশা।
পিতা-মাতার অধিকার রাখবে সদা মনে,
আল্লাহর বিধান রাখবে জীবনেরই সিংহাসনে।
পিতা-মাতার অমতে বিবাহ
পিতা-মাতা রাজি নন—এতেই কি সব শেষ?
প্রতিটি ক্ষেত্রে বিবাহ অবৈধ—এ কথা নয় বিশেষ।
আবার তাঁদের অমতকে তুচ্ছ করা ঠিক নয়,
শরিয়তের বিধান বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
নারীর বিবাহে ওলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ,
ফিকহের আলোচনায় বিষয়টি বিস্তৃত ও গুরুতর।
মাযহাবভেদে রয়েছে বিধানের কিছু পার্থক্য,
তাই না জেনে চূড়ান্ত কথা বলা অনর্থক।
হানাফি ফিকহে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর বিষয়ে
আছে বিস্তারিত বিধান নিজস্ব আলোচনায়;
কুফু, ওলি, অধিকার—সবই বিবেচ্য হয়,
একটি বাক্যে সব বিধান বলা সম্ভব নয়।
তাই কোনো বাস্তব ঘটনায় আবেগে নয় ভাই,
যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম তাই।
নিজের মাযহাব, পরিস্থিতি, বিবাহের শর্ত জেনে,
মাসআলা বুঝে নাও নির্ভরযোগ্য জ্ঞানীর কাছে গিয়ে।
পিতা-মাতার আপত্তি কেন—শুনে দেখো আগে
“আমার পছন্দ”—বললেই শেষ নয় সিদ্ধান্ত,
বিবাহ মানে দীর্ঘ জীবন, দায়িত্ব অসীম অন্ত।
পিতা-মাতার কথাতেও থাকতে পারে জ্ঞান,
অভিজ্ঞতার আলোয় তাঁরা দেখেন বহু অজানা স্থান।
চরিত্র যদি কলুষিত, দ্বীন যদি দুর্বল,
নেশা, প্রতারণা, হিংস্রতা—যদি থাকে প্রবল;
দায়িত্বহীন জীবনযাপন, মিথ্যা আর প্রবঞ্চনা,
তবে তাঁদের আপত্তিতে থাকতে পারে সতর্কবাণীখানা।
রাগী যদি হয়, অত্যাচারী, মিথ্যাবাদী মন,
বিয়ের পরে কেমন হবে—ভাবো এখনই ক্ষণ।
গোপন কোনো গুরুতর দোষ থাকলে তার মাঝে,
যাচাই না করে বিয়ে কোরো না আবেগের সাজে।
অর্থনৈতিক দায়িত্ব যদি একেবারেই অক্ষম,
সংসার চালানোর বিষয়ে যদি থাকে না সংযম;
ভবিষ্যতের সন্তান, বাসস্থান, জীবনযাত্রার ভার—
এসব নিয়ে ভাবা চাই, এ তো জীবনের ব্যাপার।
তবে আপত্তি যদি অহংকারে
পিতা-মাতার সম্মান যেমন রাখতে হবে ভাই,
অযৌক্তিক আপত্তিকেও সত্য ভাবা নয় তাই।
শুধু বংশ, সম্পদ, রং কিংবা সামাজিক মান,
এসব দিয়ে বিচার করলে হারায় ন্যায়ের জ্ঞান।
“আমরা বড় ঘরের”, “তারা ছোট”—এ অহংকার,
ইসলামের সাম্যের শিক্ষা করে না তার সমর্থন আর।
গায়ের রং, ভাষা, অঞ্চল, পেশা কিংবা ধন,
এসব দিয়ে ছোট করা নয় কোনো মানুষের মন।
যদি দ্বীন ও চরিত্র ভালো, দায়িত্ববোধে ভরা,
সততা ও তাকওয়ার আলো হৃদয়ের মাঝে ধরা;
শরিয়তের শর্ত পূর্ণ, উপযুক্ততার বিচারও হয়—
তবে কেবল অহংকারে বাধা দেওয়া ন্যায় নয়।
মর্যাদার আসল মাপকাঠি আল্লাহই জানেন ভালো,
তাকওয়ার মানুষই পায় সম্মানের আলো।
বংশের গৌরব ক্ষণিক, ধনও ক্ষণস্থায়ী,
তাকওয়া ও সৎ চরিত্র—মর্যাদার মূল তাই।
ভালোবাসার সঠিক ঠিকানা
ভালোবাসা ইসলাম কোনোদিন করেনি অস্বীকার,
হালাল পথে ভালোবাসাই পবিত্র অঙ্গীকার।
চোখের মোহ, ক্ষণিক আবেগ, গোপন সম্পর্ক নয়,
বিবাহের পবিত্র বন্ধনে ভালোবাসার জয়।
আল্লাহ দিয়েছেন দাম্পত্যে শান্তির সুন্দর ঘর,
মমতা ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে অন্তর।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের পোশাক—রক্ষার প্রতীক,
ভালোবাসা, গোপনীয়তা, মমতায় সম্পর্ক ঠিক।
রূমের আয়াত স্মরণ করো—কী অপূর্ব সে বাণী,
জীবনসাথির মাঝে শান্তি—আল্লাহর দানখানি।
মহান রব স্থাপন করেন ভালোবাসা, দয়া,
দাম্পত্য তখন হয়ে ওঠে শান্তিরই ছায়া।
তাই ভালোবাসা হোক পবিত্র, হোক দায়িত্বময়,
হোক না শুধু আবেগ, হোক নৈতিকতার জয়।
প্রেম যদি সত্য হয়, হালাল পথে আনো,
আল্লাহর সন্তুষ্টির মাঝে তার পূর্ণতা জানো।
বিয়ের আগে সাতটি ভাবনা
এক—দ্বীনদারি দেখো, চরিত্র দেখো আগে,
দুই—সত্যবাদিতা আছে কি না দেখো ভালোভাবে।
তিন—দায়িত্ববোধ কেমন, রাগ কেমন তার,
চার—পরিবার সম্পর্কে জানো সত্যিকার।
পাঁচ—জীবনযাত্রা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জেনে,
ছয়—অর্থনৈতিক বাস্তবতা দেখো বিবেচনে।
সাত—দুই পরিবারের প্রত্যাশা স্পষ্ট করে নাও,
ইস্তিখারা ও দোয়ার পথে আল্লাহকে ডাকো।
মানুষের বাহ্যিক রূপে যেন মন না যায় ভেসে,
ভবিষ্যতের জীবন দেখো বাস্তবতার দেশে।
আজ যে মিষ্টি কথা বলে, কালও কি থাকবে?
বিপদ এলে তোমার পাশে সত্যিই কি দাঁড়াবে?
অহংকার নয়, কফু হোক প্রজ্ঞা
কুফুর নামে কাউকে যেন করা না হয় হেয়,
কাউকে নিচু দেখানো ইসলাম কখনো নয়।
উপযুক্ততা মানে নয় শ্রেণির অহংকার,
এটি মূলত শান্তির পথে বিচক্ষণতার দ্বার।
ধনী-দরিদ্র ভিন্ন হলেও মিলতে পারে মন,
সৎ চরিত্র থাকলে গড়ে শান্তির নিকেতন।
আবার ধন-সম্পদ মিললেই সুখী হবে—নয়,
চরিত্র যদি নষ্ট হয়, সংসারে নামে ক্ষয়।
বংশের মিল থাকলেও যদি না থাকে মায়া,
সম্পদের পাহাড় থাকলেও না থাকে হৃদয়ছায়া;
তবে বাহ্যিক সামঞ্জস্য কী দেবে শান্তি?
ভালো চরিত্র ছাড়া সুখ থাকে না অটুটই।
জেদ নয়, পরামর্শ
“আমি যা চাই, তাই হবে”—এমন জেদ নয়,
বিবাহ জীবনের পথে একার সিদ্ধান্ত নয়।
পিতা-মাতা শুনবে সন্তানের হৃদয়ের কথা,
সন্তানও শুনবে তাঁদের অভিজ্ঞতার ব্যথা।
মতভেদ হলে কেউ যেন অপমান না করে,
রাগের আগুন জ্বালিয়ে সম্পর্ক না ঝরে।
বসো সবাই শান্ত মনে, শুনো সবার বাণী,
সত্য যেখানে স্পষ্ট হবে, মানো সেইখানি।
প্রশ্ন হোক না—“কে জিতবে?”—কে হারবে আজ,
প্রশ্ন হোক—“কীভাবে মেলে ন্যায়ের সুন্দর সাজ?”
কীভাবে শরিয়ত মানি, কীভাবে শান্তি পাই,
কীভাবে দুই পরিবারের ভালো চাই—সেই চাই।
প্রয়োজনে বিশ্বস্তজন, আলেম বা মধ্যস্থ,
তাঁর পরামর্শ নাও, যদি হয় মতবিরোধ প্রবল।
আবেগের ঝড়ে সিদ্ধান্ত কোরো না ত্বরায়,
প্রজ্ঞার আলো জ্বালো জীবনের এই দ্বারায়।
বিবাহের পরে দায়িত্ব
বিবাহ হলো শুরু, শেষ নয় কোনো কথা,
এরপর শুরু হয় দায়িত্ব, মায়া ও ব্যথা।
স্বামী হবে সহচর, স্ত্রী হবে সাথি,
দুজন মিলে গড়বে ঘর, হবে ভালোবাসার বাতি।
অধিকার আদায় করবে, দায়িত্বও নেবে,
ভুল হলে ক্ষমা করে হৃদয়ের কাছে রবে।
কঠিন কথা এলে যেন কোমল ভাষা হয়,
দাম্পত্যের ছোট ভুলে যেন বড় ভাঙন নয়।
গোপন কথা বাইরে বলে সম্মান নষ্ট নয়,
পরস্পরের দুর্বলতা নিয়ে উপহাসও নয়।
সন্তানের সামনে যেন কলহ না বাড়ে,
মায়ের চোখে অশ্রু আর বাবার রাগ না ঝরে।
যে ঘরে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে মানে,
সেই ঘরে শিশুরা শেখে ভালোবাসার টানে।
সন্তানের চরিত্র গড়ে পিতা-মাতার আচরণে,
পরিবারের শিক্ষা থাকে প্রতিদিনের জীবনে।
পিতা-মাতার প্রতি শেষ আহ্বান
হে পিতা, হে মাতা, সন্তানের কথা শোনো,
তার ভবিষ্যৎ সুখের কথাও হৃদয়ে রেখো।
শুধু বংশের অহংকারে সিদ্ধান্ত নিও না,
শুধু মানুষের কথায় সন্তানের জীবন ভেঙো না।
দ্বীন ও চরিত্র দেখো, দায়িত্বের শক্তি দেখো,
সত্যতা ও তাকওয়ার দীপ্তি হৃদয়ে রেখো।
সন্তানের পছন্দ যদি হয় শরিয়তসম্মত,
বিচক্ষণতার সঙ্গে হও তার সহযাত্রী সত্য।
আর যদি গুরুতর দোষ দেখো পাত্র-পাত্রীর মাঝে,
সন্তানের কল্যাণ ভেবে বলো সত্য কথাটি সাজে।
প্রমাণ ছাড়া অপবাদ নয়, মিথ্যা নয় কোনো কথা,
ন্যায় ও মমতায় বোঝাও তোমার হৃদয়ের ব্যথা।
সন্তানের প্রতি আহ্বান
হে সন্তান, পিতা-মাতার হৃদয় ভেঙো না,
নিজের পছন্দ বলে তাঁদের অবহেলা কোরো না।
তাঁদের অভিজ্ঞতা শুনো, যুক্তি দিয়ে ভাবো,
সত্য যদি তাঁদের কথায় থাকে—সেটি মানো।
কিন্তু যদি আপত্তি হয় অহংকারের দেয়াল,
শুধু বংশ-সম্পদ নিয়ে চলে বৈষম্যের জাল;
তবে রাগ নয়, জেদ নয়, শান্ত ভাষায় বলো—
“দ্বীন ও চরিত্র দেখেই সিদ্ধান্ত নেব চলো।”
শরিয়তের বিধান জেনে নাও জ্ঞানীর কাছে,
অন্ধ আবেগ যেন তোমার জীবন নষ্ট না করে।
পিতা-মাতার সম্মান রেখো হৃদয়ের ভেতর,
আল্লাহর বিধান রেখো জীবনের ওপর।
ভারসাম্যের শিক্ষা
এক হাতে পিতা-মাতার সম্মান,
অন্য হাতে শরিয়তের বিধান;
এক পাশে সন্তানের বৈধ অধিকার,
অন্য পাশে পরিবারের মমতার ভার।
একদিকে ভালোবাসা, অন্যদিকে বিবেক,
একদিকে আবেগ, অন্যদিকে নৈতিকতার রেখা।
এই দুইয়ের সমন্বয়েই সুন্দর পথ হয়,
ভারসাম্যের শিক্ষাতেই ইসলামের সৌন্দর্য রয়।
কুফু হবে প্রজ্ঞা, অহংকার নয়,
বিবাহ হবে শান্তির, অশান্তির নয়।
পিতা-মাতা হবেন দয়ার ছায়া,
সন্তান হবে শ্রদ্ধাশীল—এটাই কামনা মায়া।
দ্বীন হবে আলো, চরিত্র হবে মান,
সততা হবে সংসারের প্রধান ভিত্তিপ্রাণ।
মমতা হবে ভাষা, ক্ষমা হবে গান,
দায়িত্ব হবে বন্ধন, তাকওয়া হবে প্রাণ।
শেষ প্রার্থনা
হে আল্লাহ, দাও আমাদের সঠিক জ্ঞান,
হককে হক বুঝে মানার শক্তি মহান।
বাতিলকে বাতিল জেনে দূরে থাকার তাওফিক,
জীবনের প্রতিটি পথে দাও সত্যের দিশা ঠিক।
পিতা-মাতার অধিকার যেন ভুলে না যাই,
তাঁদের কষ্ট দিয়ে যেন সুখের ঘর না চাই।
সন্তানের বৈধ অধিকারও যেন নষ্ট না করি,
অন্যায় সামাজিক গর্বে যেন জীবন না ভরি।
বিবাহে দাও দ্বীন, দাও চরিত্রের আলো,
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয়ে দাও ভালোবাসা ভালো।
অহংকার দূর করে দাও তাকওয়ারই মান,
সত্য ও ন্যায়ের পথে রাখো অবিচল প্রাণ।
যে ঘরে দয়া থাকে, সে ঘর করো পূর্ণ,
যে ঘরে দ্বীন থাকে, সে ঘর করো সুন্দর।
সন্তানদের দাও সৎ পথে চলার শিক্ষা,
পরিবারে দাও ঈমান, মমতা ও দীক্ষা।
বিবাহ হোক আমানত, হোক ইবাদতের পথ,
ভালোবাসায় ভরে উঠুক প্রতিটি হৃদয়রত্ন।
কুফু হোক বিচক্ষণতা, নয় অহংকারের দেয়াল,
পিতা-মাতার সম্মান হোক নৈতিকতার ঢাল।
দ্বীন ও চরিত্র হোক সিদ্ধান্তের মূল,
তাকওয়ার সুবাসে ফুটুক সংসারের ফুল।
সমঝোতার সেতু গড়ে মুছে যাক সব ক্ষত,
ভালোবাসায় গড়ে উঠুক পরিবার শান্তিময়, পবিত্র।
তখন বিবাহ হবে শুধু দুটি হৃদয়ের মিলন নয়,
হবে সৎ প্রজন্ম গড়ার পবিত্র এক জয়।
হবে শান্তির নীড়, হবে মমতার ঘর,
হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সুন্দর এক সফর।
কুফু হোক প্রজ্ঞার আলো—অহংকারের নয়,
পিতা-মাতার সম্মান হোক হৃদয়ের পরিচয়।
দ্বীন হোক পথপ্রদর্শক, চরিত্র হোক মান,
তাকওয়ার আলোয় গড়ে উঠুক সুখী পরিবার-প্রাণ।
ভালোবাসা হোক হালাল, দায়িত্ব হোক সাথি,
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয়ে জ্বলুক ঈমানের বাতি।
সন্তানের হাসিতে ফুটুক সুন্দর ভবিষ্যতের ভোর,
ইসলামের ভারসাম্যে গড়ে উঠুক শান্তির ঘর।
৬৪
১০০ মন্তব্য