Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

সংসারের শান্তি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম-১ -মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                 সংসারের শান্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম-১

(স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা, আস্থা বিশ্বাসের মহিমা)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

সংসার শুধু ইট-পাথরের ঘর নয়,
সংসার মানে ভালোবাসার আপন পরিচয়।
সংসার মানে দুটি হৃদয়ের মিলন,
দুঃখে-সুখে পাশাপাশি চলার বন্ধন।

স্বামী-স্ত্রী সংসারের প্রধান দুই প্রাণ,
তাঁদের সম্পর্কেই গড়ে পরিবারের মান।
আন্তরিকতা, আস্থা, বিশ্বাসের আলো,
তাঁদের হৃদয়ে জাগুক ভালোবাসা ভালো।

বন্ধুত্ব থাকুক তাঁদের মধুর সম্পর্কে,
সহমর্মিতা থাকুক প্রতিটি অনুভবে।
কথায় থাকুক কোমলতা, আচরণে সম্মান,
দুজনের মিলনে হোক শান্তির গৃহস্থান।

একজন যখন ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে ঘরে,
অন্যজন হাসিমুখে দাঁড়াক তার পাশে দাঁড়ে।
দুঃখ যদি আসে, ভাগ করে নিক দুজন,
একজনের ব্যথায় কাঁদুক অন্যজন।

সুখ এলে দুজন মিলে করুক শুকরিয়া,
দুঃখ এলে বলুক—“আল্লাহ আছেন, ভয় কী বা!
বিপদ যত বড় হোক, ভেঙে না যাক মন,
তাওয়াক্কুলে শক্ত হোক পারিবারিক বন্ধন।

স্বামী যেন স্ত্রীর প্রতি রাখে সম্মান,
স্ত্রীও স্বামীর প্রতি রাখে মর্যাদার জ্ঞান।
কেউ যেন কাউকে কখনো তুচ্ছ না করে,
কোমল কথার ফুল ফুটুক হৃদয়ের ঘরে।

অহংকার এসে যদি দেয় সম্পর্কে ফাটল,
মধুর সংসারেও নামে অশান্তির কালো ছায়াপট।
সন্দেহের আগুন যদি জ্বলে মনে মনে,
ভালোবাসার বাগান শুকিয়ে যায় ক্ষণে ক্ষণে।

অবিশ্বাসের বিষ যখন হৃদয়ে ঢোকে,
আপন মানুষও তখন পর হয়ে যায় চোখে।
অবহেলার কাঁটা যখন বিঁধে হৃদয়জুড়ে,
হাসির সংসার ডুবে যায় কান্নার সুরে।

তাই ভুল হলে ক্ষমা চাও, ক্ষমা করে দাও,
রাগের আগুন নিভিয়ে দিয়ে শান্তির প্রদীপ জ্বালাও।
বিরোধ হলে কথা বলো, নীরব ঘৃণা নয়,
মীমাংসার পথ খুঁজে নাওএতেই কল্যাণময়।

কথা বলার আগে ভাবোকথাটি কি ভালো?
তোমার কথায় ভাঙবে কি কোনো হৃদয়-দ্বার তালা?
জিহ্বার আঘাত অনেক গভীর ক্ষত করে,
একটি কঠিন বাক্যও কান্না আনে ঘরে।

তাই কথা হোক মধুর, ব্যবহার হোক সুন্দর,
ভালোবাসার স্পর্শে হোক জীবন মনোহর।
পরস্পরের গোপন কথা রাখো গোপনে,
বিশ্বাসের আমানত রেখো যতনে।

সংসারে থাকবে না সবসময় হাসি,
কখনো আসবে দুঃখ, কখনো চোখে ভাসবে পানি।
জীবনের পথ কখনো মসৃণ, কখনো বন্ধুর,
তবু দুজন থাকলে পথ হয় অনেক সুন্দর।

স্বামী হবে স্ত্রীর বন্ধু, স্ত্রী হবে স্বামীর সাথি,
দুজন মিলে চলবে সত্য ন্যায়ের পথে বাতি।
একজন যদি পড়ে যায় জীবনের কোনো বাঁকে,
অন্যজন হাত বাড়িয়ে বলবে—“আমি আছি তোমার পাশে।

সন্তান তখন দেখে বাবা-মায়ের আচরণ,
সেখান থেকেই শেখে জীবনের প্রথম পাঠের ধরণ।
বইয়ের আগে সন্তান পড়ে বাবা-মায়ের জীবন,
তাঁদের আচরণেই গড়ে তার চরিত্রের ভিত্তি মন।

বাবা যদি মাকে সম্মান করে ভালোবেসে,
সন্তান শেখে সম্মানভালোবাসা হৃদয়ে নিয়ে হাসে।
মা যদি বাবার মর্যাদা রাখে আন্তরিকতায়,
সন্তান শেখে সৌজন্য, দায়িত্ব শালীনতায়।

ঘরে যদি ঝগড়া, বিদ্বেষ, অপমানের ধ্বনি,
শিশুর কোমল মনে জমে অশান্তির বাণী।
নিরাপদ ঘর না পেলে শিশু হারায় শান্তি,
বিষণ্ন হয়ে পড়ে তার হাসি প্রাণের দীপ্তি।

তাই সন্তানকে ভালো মানুষ করতে চাইলে,
শুধু উপদেশ নয়নিজেরা ভালো হয়ে চললে।
সন্তানকে বলো না শুধু—“ভালো মানুষ হও,
নিজেদের জীবন দিয়ে তার সামনে উদাহরণ দাও।

শিক্ষার প্রথম বিদ্যালয় হলো পরিবারের ঘর,
সেখানেই গড়ে ওঠে মানুষের চরিত্রের ভোর।
মায়ের কোলে শিশুর প্রথম নৈতিক শিক্ষা,
বাবার আচরণে পায় দায়িত্ববোধের দীক্ষা।

পরিবার যদি হয় ভালোবাসার বিদ্যালয়,
সন্তানের জীবনেও ফুটবে কল্যাণের পরিচয়।
সততা, শিষ্টতা, দয়া সহমর্মিতা,
সেখানেই পাবে শিশুর জীবনের ভিত্তি পূর্ণতা।

ইসলাম দিয়েছে পরিবারকে সম্মানের স্থান,
দাম্পত্যে রেখেছে ভালোবাসা, দায়িত্ব মমতার বিধান।
স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের জন্য শান্তির কারণ,
মমতা রহমতে পূর্ণ হোক তাঁদের জীবন।

আল্লাহর স্মরণে জেগে উঠুক প্রতিটি ঘর,
সালাতের আলোয় হোক অন্ধকার দূর।
হালাল রুজি, পবিত্র জীবন, সত্যের সাধনা,
এসবেই গড়ে ওঠে সুখী পরিবারের ঠিকানা।

পরিবারে থাকুক কুরআনের সুমধুর বাণী,
সুন্নাহর আলোয় দূর হোক জীবনের অন্ধকারখানি।
সন্তানের কানে পৌঁছাক তাওহিদের ডাক,
সত্য ন্যায়ের পথে থাকুক তাদের পায়ের পাক।

শুধু দুনিয়ার সফলতা নয়আখিরাতের জয়,
মুমিন পরিবারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিশ্চয়।
সন্তান হোক সৎ, আল্লাহভীরু, ন্যায়পরায়ণ,
মানবসেবায় হোক তাদের জীবন সমর্পণ।

স্বামী যদি হয় দায়িত্বশীল, স্নেহশীল, ন্যায়বান,
স্ত্রী যদি হন বিশ্বস্ত, সহনশীল, সম্মানদাত্রী প্রাণ,
দুজন মিলে গড়তে পারেন শান্তির নীড়,
যেখানে ভালোবাসা হবে সবচেয়ে বড় তীর।

অর্থ কম হলেও যদি থাকে হৃদয়ের মিল,
ছোট ঘরও হয়ে ওঠে জান্নাতের মতো নীল।
সম্পদ বেশি হলেও যদি না থাকে ভালোবাসা,
প্রাসাদও তখন হয়ে যায় নিঃসঙ্গতার বাসা।

সুখের মাপকাঠি শুধু ধন-সম্পদ নয়,
সুখের আসল সম্পদ হৃদয়ের নির্মল পরিচয়।
একটু হাসি, একটু মায়া, একটু মধুর কথা,
দুঃখের দিনে পাশে থাকাএটাই বড় ব্যথার ঔষধতা।

সংসার মানে দায়িত্ব, সংসার মানে ত্যাগ,
সংসার মানে ভালোবাসায় দূর করা সব রাগ।
সংসার মানে দুজন মিলে স্বপ্ন বোনা,
ভাঙা দিনে পাশে থেকে নতুন আশা জাগানো।

কেউ যেন না ভাবে—“আমি একাই সব করি,
দুজনের শ্রমেই সংসার হয় সুন্দর ভরি।
একজনের অবদান অন্যজন করুক স্বীকার,
কৃতজ্ঞতার ফুলে ভরে উঠুক সংসার।

স্ত্রীর শ্রমকে কখনো করো না অবহেলা,
স্বামীর পরিশ্রমকেও ভেবো না অবহেলা।
দুজনের ত্যাগেই সংসারের দীপ জ্বলে,
দুজনের সহযোগিতায় জীবন সুন্দর চলে।

পরস্পরের দুর্বলতা ঢেকে রাখো সযতনে,
গুণগুলো দেখো ভালোবাসার নয়নে।
মানুষ মাত্রই ভুল করে সত্য মনে রেখো,
ভুলের হিসাব নয়, সংশোধনের পথ দেখো।

আজ যে ভুল করেছে, কাল সে বদলাতে পারে,
একটু ভালোবাসা মানুষকে ভালো পথে আনে।
অপমান নয়, প্রয়োজন হলে দাও সুন্দর পরামর্শ,
স্নেহের ভাষায় বলা কথা হৃদয়ে করে স্পর্শ।

সন্তানের সামনে কখনো করো না বিবাদ,
তাতে কোমল হৃদয়ে জন্ম নেয় বিষাদ।
বাবা-মায়ের বিরোধ শিশুর মনে আনে ভয়,
শৈশবের সেই ক্ষত অনেক দূর পর্যন্ত রয়।

তাই মতভেদ হলে একান্তে কথা বলো,
রাগের ভাষা ছেড়ে শান্তির পথ চলো।
দুজনের সমস্যা দুজন মিলে করো সমাধান,
সন্তানের সামনে রক্ষা করো পারিবারিক সম্মান।

যে ঘরে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে মানে,
সে ঘরে শিশুর মুখে হাসি ফুটে প্রাণে।
যে ঘরে বাবা-মা পরস্পরকে দেয় সম্মান,
সেই ঘরে সন্তান শেখে সুন্দর জীবনজ্ঞান।

পরবর্তী প্রজন্ম শুধু উত্তরাধিকার পায় না ধন,
পায় পরিবারের আচরণ, মূল্যবোধ জীবনদর্শন।
আজকের বাবা-মায়ের প্রতিটি আচরণ,
আগামীর সন্তানের জীবনে রাখে গভীর প্রভাবন।

তাই আমরা চাই যদি সুন্দর আগামীকাল,
আজ থেকেই ঘরে জ্বালাতে হবে নৈতিকতার মশাল।
ভালোবাসা, সত্য, ন্যায়, ক্ষমা সংযম,
এসব গুণে গড়তে হবে পরিবারের মর্ম।

পরিবার ভালো হলে সমাজ হবে সুন্দর,
সুন্দর সমাজে দেশ হবে আরও সমৃদ্ধ দৃঢ়তর।
সুন্দর মানুষ গড়লে সুন্দর হবে দেশ,
নৈতিকতার আলোয় দূর হবে অন্ধকারের রেশ।

একটি সুখী পরিবার একেকটি আলোর ঘর,
তার আলো ছড়িয়ে পড়ে সমাজের প্রান্তর।
একটি সৎ সন্তান একেকটি আশার দীপ,
তার চরিত্রে উজ্জ্বল হয় ভবিষ্যতের রূপ।

তাই হে স্বামী, স্ত্রীকে ভালোবাসো প্রাণ দিয়ে,
তার সম্মান রেখো হৃদয়ের গভীরতা দিয়ে।
হে স্ত্রী, স্বামীর প্রতি রাখো বিশ্বস্ততা,
দুজন মিলে গড়ে তোলো ভালোবাসার পবিত্রতা।

কথায় নয়, কাজে হোক ভালোবাসার প্রকাশ,
দুঃখের দিনে থেকো পাশেএটাই ভালোবাসার আশ্বাস।
সুখের দিনে সবাই থাকে, দুঃখে থাকে যে জন,
সেই তো সত্যিকারের আপন, সেই তো প্রিয়জন।

আল্লাহর কাছে দুজন মিলে করো দোয়া,
সন্তান যেন হয় সৎ, পবিত্র আলোকময় ছোঁয়া।
ঘর যেন হয় ঈমানের শান্তিময় নীড়,
সন্তান যেন চলে সত্যের পথে নির্ভীক, স্থির।

হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী সন্তানদের
আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন”—এই হোক প্রার্থনা,
সৎ পরিবার গড়ার পথে থাকুক অবিচল সাধনা।

দাম্পত্য যদি হয় ঈমানের বন্ধনে গাঁথা,
দুঃখের মাঝেও থাকে আশার সোনালি কথা।
ঝড় এলেও ভাঙবে না ভালোবাসার ঘর,
আল্লাহর ওপর ভরসায় হবে হৃদয় দৃঢ়তর।

মনে রেখোসম্পর্ক বাঁচে যত্নে,
বিশ্বাস বাঁচে সত্যে, ভালোবাসা বাঁচে সম্মানে।
বন্ধুত্ব বাঁচে পাশে থাকার অঙ্গীকারে,
সংসার বাঁচে ক্ষমা, ধৈর্য সহযোগিতার দ্বারে।

অন্যথায় অবিশ্বাসে ভাঙে হৃদয়ের সেতু,
অহংকারে শুকিয়ে যায় ভালোবাসার ঋতু।
অবহেলায় দূরে সরে যায় আপন প্রাণ,
কলহে অশান্ত হয় সন্তানের কোমল প্রাণ।

তারপর সেই অশান্তির ছায়া পড়ে প্রজন্মে,
ভুলের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে জীবনের অঙ্গনে।
যে আচরণ শিশুরা দেখে প্রতিদিন ঘরে,
অনেক সময় তারাই তা বহন করে ভবিষ্যতের ভোরে।

তাই আজই বদলাও ঘরের ভাষা,
আজই জাগাও হৃদয়ে ভালোবাসার আশা।
আজই ভাঙো অভিমান, মুছে দাও ক্ষত,
আজই গড়ো বিশ্বাসের সেতু অবিরত।

স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে প্রতিজ্ঞা করো আজ
সত্যের পথে চলব, রাখব না কোনো লাজ।
অন্যায় হলে ফিরব, ভুল হলে ক্ষমা চাইব,
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসব।

আমাদের ঘর হোক শান্তির উদ্যান,
সন্তান হোক নৈতিকতায় উজ্জ্বল প্রাণ।
আমাদের জীবন হোক সুন্নাহর আলোয় ভরা,
আমাদের পরিবার হোক কল্যাণের ঠিকানা গড়া।

আজকের ভালোবাসা আগামী দিনের বীজ,
আজকের চরিত্রেই ভবিষ্যতের রূপ নিখুঁত সাজে।
আজকের পরিবার যদি হয় শান্তি ঈমানের ঘর,
আগামী প্রজন্ম হবে তবেই আলোকিত, সুন্দরতর।

তাই পরিবারকে ভালোবাসো, সম্পর্ককে দাও মান,
পরস্পরের হৃদয়ে রেখো বিশ্বাসের সম্মান।
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয় যদি থাকে একসাথে,
সন্তানও বেড়ে উঠবে আলোরই পথে।

হে আল্লাহ, আমাদের ঘর করো শান্তিময়,
হৃদয়ে দাও ঈমান, চরিত্রে দাও পবিত্র পরিচয়।
দাম্পত্যে দাও মায়া, মমতা, ভালোবাসার দান,
সন্তানদের করো সৎ, আদর্শবান ন্যায়বান।

আমাদের পরিবার হোক তোমার সন্তুষ্টির ঘর,
সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমায় হোক সে ভরপুর।
দুনিয়ায় দাও শান্তি, আখিরাতে দাও নাজাত,
পরিবারের প্রতিটি প্রাণে দাও ঈমানের আলো বরকত।

স্বামী-স্ত্রীর হৃদয় যখন ভালোবাসায় এক হয়,
সেই ঘরেই শান্তির ফুল নীরবে ফুটে রয়।
সেই ঘরের সন্তান পায় আদর্শ জীবনের দিশা,
সেই পরিবার থেকেই গড়ে ওঠে সুন্দর ভবিষ্যতের আশা।

তাই আজকের পরিবার গড়ুক আগামী দিনের প্রাণ
ভালোবাসা, বিশ্বাস, ঈমান, ন্যায় মানবিকতার মহান গান।

***

সংসারের শান্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা, আস্থা বিশ্বাসের মহিমা

সংসার শুধু ইট-পাথরের ঘর নয়,
সংসার মানে ভালোবাসার আপন পরিচয়।
সংসার মানে দুটি হৃদয়ের মিলন,
দুঃখে-সুখে পাশাপাশি চলার বন্ধন।

স্বামী-স্ত্রী সংসারের প্রধান দুই প্রাণ,
তাঁদের সম্পর্কেই গড়ে পরিবারের মান।
আন্তরিকতা, আস্থা, বিশ্বাসের আলো,
তাঁদের হৃদয়ে জাগুক ভালোবাসা ভালো।

বন্ধুত্ব থাকুক তাঁদের মধুর সম্পর্কে,
সহমর্মিতা থাকুক প্রতিটি অনুভবে।
কথায় থাকুক কোমলতা, আচরণে সম্মান,
দুজনের মিলনে হোক শান্তির গৃহস্থান।

একজন যখন ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে ঘরে,
অন্যজন হাসিমুখে দাঁড়াক তার পাশে দাঁড়ে।
দুঃখ যদি আসে, ভাগ করে নিক দুজন,
একজনের ব্যথায় কাঁদুক অন্যজন।

সুখ এলে দুজন মিলে করুক শুকরিয়া,
দুঃখ এলে বলুক—“আল্লাহ আছেন, ভয় কী বা!
বিপদ যত বড় হোক, ভেঙে না যাক মন,
তাওয়াক্কুলে শক্ত হোক পারিবারিক বন্ধন।

স্বামী যেন স্ত্রীর প্রতি রাখে সম্মান,
স্ত্রীও স্বামীর প্রতি রাখে মর্যাদার জ্ঞান।
কেউ যেন কাউকে কখনো তুচ্ছ না করে,
কোমল কথার ফুল ফুটুক হৃদয়ের ঘরে।

অহংকার এসে যদি দেয় সম্পর্কে ফাটল,
মধুর সংসারেও নামে অশান্তির কালো ছায়াপট।
সন্দেহের আগুন যদি জ্বলে মনে মনে,
ভালোবাসার বাগান শুকিয়ে যায় ক্ষণে ক্ষণে।

অবিশ্বাসের বিষ যখন হৃদয়ে ঢোকে,
আপন মানুষও তখন পর হয়ে যায় চোখে।
অবহেলার কাঁটা যখন বিঁধে হৃদয়জুড়ে,
হাসির সংসার ডুবে যায় কান্নার সুরে।

তাই ভুল হলে ক্ষমা চাও, ক্ষমা করে দাও,
রাগের আগুন নিভিয়ে দিয়ে শান্তির প্রদীপ জ্বালাও।
বিরোধ হলে কথা বলো, নীরব ঘৃণা নয়,
মীমাংসার পথ খুঁজে নাওএতেই কল্যাণময়।

কথা বলার আগে ভাবোকথাটি কি ভালো?
তোমার কথায় ভাঙবে কি কোনো হৃদয়-দ্বার তালা?
জিহ্বার আঘাত অনেক গভীর ক্ষত করে,
একটি কঠিন বাক্যও কান্না আনে ঘরে।

তাই কথা হোক মধুর, ব্যবহার হোক সুন্দর,
ভালোবাসার স্পর্শে হোক জীবন মনোহর।
পরস্পরের গোপন কথা রাখো গোপনে,
বিশ্বাসের আমানত রেখো যতনে।

সংসারে থাকবে না সবসময় হাসি,
কখনো আসবে দুঃখ, কখনো চোখে ভাসবে পানি।
জীবনের পথ কখনো মসৃণ, কখনো বন্ধুর,
তবু দুজন থাকলে পথ হয় অনেক সুন্দর।

স্বামী হবে স্ত্রীর বন্ধু, স্ত্রী হবে স্বামীর সাথি,
দুজন মিলে চলবে সত্য ন্যায়ের পথে বাতি।
একজন যদি পড়ে যায় জীবনের কোনো বাঁকে,
অন্যজন হাত বাড়িয়ে বলবে—“আমি আছি তোমার পাশে।

সন্তান তখন দেখে বাবা-মায়ের আচরণ,
সেখান থেকেই শেখে জীবনের প্রথম পাঠের ধরণ।
বইয়ের আগে সন্তান পড়ে বাবা-মায়ের জীবন,
তাঁদের আচরণেই গড়ে তার চরিত্রের ভিত্তি মন।

বাবা যদি মাকে সম্মান করে ভালোবেসে,
সন্তান শেখে সম্মানভালোবাসা হৃদয়ে নিয়ে হাসে।
মা যদি বাবার মর্যাদা রাখে আন্তরিকতায়,
সন্তান শেখে সৌজন্য, দায়িত্ব শালীনতায়।

ঘরে যদি ঝগড়া, বিদ্বেষ, অপমানের ধ্বনি,
শিশুর কোমল মনে জমে অশান্তির বাণী।
নিরাপদ ঘর না পেলে শিশু হারায় শান্তি,
বিষণ্ন হয়ে পড়ে তার হাসি প্রাণের দীপ্তি।

তাই সন্তানকে ভালো মানুষ করতে চাইলে,
শুধু উপদেশ নয়নিজেরা ভালো হয়ে চললে।
সন্তানকে বলো না শুধু—“ভালো মানুষ হও,
নিজেদের জীবন দিয়ে তার সামনে উদাহরণ দাও।

শিক্ষার প্রথম বিদ্যালয় হলো পরিবারের ঘর,
সেখানেই গড়ে ওঠে মানুষের চরিত্রের ভোর।
মায়ের কোলে শিশুর প্রথম নৈতিক শিক্ষা,
বাবার আচরণে পায় দায়িত্ববোধের দীক্ষা।

পরিবার যদি হয় ভালোবাসার বিদ্যালয়,
সন্তানের জীবনেও ফুটবে কল্যাণের পরিচয়।
সততা, শিষ্টতা, দয়া সহমর্মিতা,
সেখানেই পাবে শিশুর জীবনের ভিত্তি পূর্ণতা।

ইসলাম দিয়েছে পরিবারকে সম্মানের স্থান,
দাম্পত্যে রেখেছে ভালোবাসা, দায়িত্ব মমতার বিধান।
স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের জন্য শান্তির কারণ,
মমতা রহমতে পূর্ণ হোক তাঁদের জীবন।

আল্লাহর স্মরণে জেগে উঠুক প্রতিটি ঘর,
সালাতের আলোয় হোক অন্ধকার দূর।
হালাল রুজি, পবিত্র জীবন, সত্যের সাধনা,
এসবেই গড়ে ওঠে সুখী পরিবারের ঠিকানা।

পরিবারে থাকুক কুরআনের সুমধুর বাণী,
সুন্নাহর আলোয় দূর হোক জীবনের অন্ধকারখানি।
সন্তানের কানে পৌঁছাক তাওহিদের ডাক,
সত্য ন্যায়ের পথে থাকুক তাদের পায়ের পাক।

শুধু দুনিয়ার সফলতা নয়আখিরাতের জয়,
মুমিন পরিবারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিশ্চয়।
সন্তান হোক সৎ, আল্লাহভীরু, ন্যায়পরায়ণ,
মানবসেবায় হোক তাদের জীবন সমর্পণ।

স্বামী যদি হয় দায়িত্বশীল, স্নেহশীল, ন্যায়বান,
স্ত্রী যদি হন বিশ্বস্ত, সহনশীল, সম্মানদাত্রী প্রাণ,
দুজন মিলে গড়তে পারেন শান্তির নীড়,
যেখানে ভালোবাসা হবে সবচেয়ে বড় তীর।

অর্থ কম হলেও যদি থাকে হৃদয়ের মিল,
ছোট ঘরও হয়ে ওঠে জান্নাতের মতো নীল।
সম্পদ বেশি হলেও যদি না থাকে ভালোবাসা,
প্রাসাদও তখন হয়ে যায় নিঃসঙ্গতার বাসা।

সুখের মাপকাঠি শুধু ধন-সম্পদ নয়,
সুখের আসল সম্পদ হৃদয়ের নির্মল পরিচয়।
একটু হাসি, একটু মায়া, একটু মধুর কথা,
দুঃখের দিনে পাশে থাকাএটাই বড় ব্যথার ঔষধতা।

সংসার মানে দায়িত্ব, সংসার মানে ত্যাগ,
সংসার মানে ভালোবাসায় দূর করা সব রাগ।
সংসার মানে দুজন মিলে স্বপ্ন বোনা,
ভাঙা দিনে পাশে থেকে নতুন আশা জাগানো।

কেউ যেন না ভাবে—“আমি একাই সব করি,
দুজনের শ্রমেই সংসার হয় সুন্দর ভরি।
একজনের অবদান অন্যজন করুক স্বীকার,
কৃতজ্ঞতার ফুলে ভরে উঠুক সংসার।

স্ত্রীর শ্রমকে কখনো করো না অবহেলা,
স্বামীর পরিশ্রমকেও ভেবো না অবহেলা।
দুজনের ত্যাগেই সংসারের দীপ জ্বলে,
দুজনের সহযোগিতায় জীবন সুন্দর চলে।

পরস্পরের দুর্বলতা ঢেকে রাখো সযতনে,
গুণগুলো দেখো ভালোবাসার নয়নে।
মানুষ মাত্রই ভুল করে সত্য মনে রেখো,
ভুলের হিসাব নয়, সংশোধনের পথ দেখো।

আজ যে ভুল করেছে, কাল সে বদলাতে পারে,
একটু ভালোবাসা মানুষকে ভালো পথে আনে।
অপমান নয়, প্রয়োজন হলে দাও সুন্দর পরামর্শ,
স্নেহের ভাষায় বলা কথা হৃদয়ে করে স্পর্শ।

সন্তানের সামনে কখনো করো না বিবাদ,
তাতে কোমল হৃদয়ে জন্ম নেয় বিষাদ।
বাবা-মায়ের বিরোধ শিশুর মনে আনে ভয়,
শৈশবের সেই ক্ষত অনেক দূর পর্যন্ত রয়।

তাই মতভেদ হলে একান্তে কথা বলো,
রাগের ভাষা ছেড়ে শান্তির পথ চলো।
দুজনের সমস্যা দুজন মিলে করো সমাধান,
সন্তানের সামনে রক্ষা করো পারিবারিক সম্মান।

যে ঘরে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে মানে,
সে ঘরে শিশুর মুখে হাসি ফুটে প্রাণে।
যে ঘরে বাবা-মা পরস্পরকে দেয় সম্মান,
সেই ঘরে সন্তান শেখে সুন্দর জীবনজ্ঞান।

পরবর্তী প্রজন্ম শুধু উত্তরাধিকার পায় না ধন,
পায় পরিবারের আচরণ, মূল্যবোধ জীবনদর্শন।
আজকের বাবা-মায়ের প্রতিটি আচরণ,
আগামীর সন্তানের জীবনে রাখে গভীর প্রভাবন।

তাই আমরা চাই যদি সুন্দর আগামীকাল,
আজ থেকেই ঘরে জ্বালাতে হবে নৈতিকতার মশাল।
ভালোবাসা, সত্য, ন্যায়, ক্ষমা সংযম,
এসব গুণে গড়তে হবে পরিবারের মর্ম।

পরিবার ভালো হলে সমাজ হবে সুন্দর,
সুন্দর সমাজে দেশ হবে আরও সমৃদ্ধ দৃঢ়তর।
সুন্দর মানুষ গড়লে সুন্দর হবে দেশ,
নৈতিকতার আলোয় দূর হবে অন্ধকারের রেশ।

একটি সুখী পরিবার একেকটি আলোর ঘর,
তার আলো ছড়িয়ে পড়ে সমাজের প্রান্তর।
একটি সৎ সন্তান একেকটি আশার দীপ,
তার চরিত্রে উজ্জ্বল হয় ভবিষ্যতের রূপ।

তাই হে স্বামী, স্ত্রীকে ভালোবাসো প্রাণ দিয়ে,
তার সম্মান রেখো হৃদয়ের গভীরতা দিয়ে।
হে স্ত্রী, স্বামীর প্রতি রাখো বিশ্বস্ততা,
দুজন মিলে গড়ে তোলো ভালোবাসার পবিত্রতা।

কথায় নয়, কাজে হোক ভালোবাসার প্রকাশ,
দুঃখের দিনে থেকো পাশেএটাই ভালোবাসার আশ্বাস।
সুখের দিনে সবাই থাকে, দুঃখে থাকে যে জন,
সেই তো সত্যিকারের আপন, সেই তো প্রিয়জন।

আল্লাহর কাছে দুজন মিলে করো দোয়া,
সন্তান যেন হয় সৎ, পবিত্র আলোকময় ছোঁয়া।
ঘর যেন হয় ঈমানের শান্তিময় নীড়,
সন্তান যেন চলে সত্যের পথে নির্ভীক, স্থির।

হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী সন্তানদের
আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন”—এই হোক প্রার্থনা,
সৎ পরিবার গড়ার পথে থাকুক অবিচল সাধনা।

দাম্পত্য যদি হয় ঈমানের বন্ধনে গাঁথা,
দুঃখের মাঝেও থাকে আশার সোনালি কথা।
ঝড় এলেও ভাঙবে না ভালোবাসার ঘর,
আল্লাহর ওপর ভরসায় হবে হৃদয় দৃঢ়তর।

মনে রেখোসম্পর্ক বাঁচে যত্নে,
বিশ্বাস বাঁচে সত্যে, ভালোবাসা বাঁচে সম্মানে।
বন্ধুত্ব বাঁচে পাশে থাকার অঙ্গীকারে,
সংসার বাঁচে ক্ষমা, ধৈর্য সহযোগিতার দ্বারে।

অন্যথায় অবিশ্বাসে ভাঙে হৃদয়ের সেতু,
অহংকারে শুকিয়ে যায় ভালোবাসার ঋতু।
অবহেলায় দূরে সরে যায় আপন প্রাণ,
কলহে অশান্ত হয় সন্তানের কোমল প্রাণ।

তারপর সেই অশান্তির ছায়া পড়ে প্রজন্মে,
ভুলের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে জীবনের অঙ্গনে।
যে আচরণ শিশুরা দেখে প্রতিদিন ঘরে,
অনেক সময় তারাই তা বহন করে ভবিষ্যতের ভোরে।

তাই আজই বদলাও ঘরের ভাষা,
আজই জাগাও হৃদয়ে ভালোবাসার আশা।
আজই ভাঙো অভিমান, মুছে দাও ক্ষত,
আজই গড়ো বিশ্বাসের সেতু অবিরত।

স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে প্রতিজ্ঞা করো আজ
সত্যের পথে চলব, রাখব না কোনো লাজ।
অন্যায় হলে ফিরব, ভুল হলে ক্ষমা চাইব,
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসব।

আমাদের ঘর হোক শান্তির উদ্যান,
সন্তান হোক নৈতিকতায় উজ্জ্বল প্রাণ।
আমাদের জীবন হোক সুন্নাহর আলোয় ভরা,
আমাদের পরিবার হোক কল্যাণের ঠিকানা গড়া।

আজকের ভালোবাসা আগামী দিনের বীজ,
আজকের চরিত্রেই ভবিষ্যতের রূপ নিখুঁত সাজে।
আজকের পরিবার যদি হয় শান্তি ঈমানের ঘর,
আগামী প্রজন্ম হবে তবেই আলোকিত, সুন্দরতর।

তাই পরিবারকে ভালোবাসো, সম্পর্ককে দাও মান,
পরস্পরের হৃদয়ে রেখো বিশ্বাসের সম্মান।
স্বামী-স্ত্রীর হৃদয় যদি থাকে একসাথে,
সন্তানও বেড়ে উঠবে আলোরই পথে।

হে আল্লাহ, আমাদের ঘর করো শান্তিময়,
হৃদয়ে দাও ঈমান, চরিত্রে দাও পবিত্র পরিচয়।
দাম্পত্যে দাও মায়া, মমতা, ভালোবাসার দান,
সন্তানদের করো সৎ, আদর্শবান ন্যায়বান।

আমাদের পরিবার হোক তোমার সন্তুষ্টির ঘর,
সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমায় হোক সে ভরপুর।
দুনিয়ায় দাও শান্তি, আখিরাতে দাও নাজাত,
পরিবারের প্রতিটি প্রাণে দাও ঈমানের আলো বরকত।

স্বামী-স্ত্রীর হৃদয় যখন ভালোবাসায় এক হয়,
সেই ঘরেই শান্তির ফুল নীরবে ফুটে রয়।
সেই ঘরের সন্তান পায় আদর্শ জীবনের দিশা,
সেই পরিবার থেকেই গড়ে ওঠে সুন্দর ভবিষ্যতের আশা।

তাই আজকের পরিবার গড়ুক আগামী দিনের প্রাণ
ভালোবাসা, বিশ্বাস, ঈমান, ন্যায় মানবিকতার মহান গান।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শুধু দুটি মানুষের সম্পর্ক নয়;
এর মধ্যে গড়ে ওঠে একটি পরিবারের সংস্কৃতি,
আর সেই পরিবারের সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই
গড়ে ওঠে পরবর্তী প্রজন্মের চরিত্র জীবনদৃষ্টি।
তাই দাম্পত্যে ভালোবাসা থাকলে পরিবারে শান্তি বাড়ে,
বিশ্বাস থাকলে সন্তান নিরাপদ বোধ করে,
সম্মান থাকলে সন্তান সম্মান করতে শেখে,
আর ঈমান নৈতিকতা থাকলে সেই পরিবার
সমাজের জন্যও কল্যাণের উৎ হয়ে ওঠে।

আর এর বিপরীত চিত্রটি

অন্যথায় অবিশ্বাস জন্ম দেয় দূরত্ব,
অহংকার বাড়ায় বিরোধ,
অবহেলা শুকিয়ে দেয় ভালোবাসা,
ক্রোধ নষ্ট করে শান্তি,
আর দীর্ঘস্থায়ী কলহের ছায়া
সন্তানের কোমল মনে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।
ফলে আজকের দাম্পত্যের অশান্তি
কখনো কখনো আগামী প্রজন্মের জীবনেও
আচরণ মূল্যবোধের সমস্যা হিসেবে ফিরে আসতে পারে।

মন্তব্য করুন