Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলিতে ৭ নির্দেশনা, যেসব কাগজপত্র লাগবে

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলিতে ৭ নির্দেশনা, যেসব কাগজপত্র লাগবে

 বেসরকারি মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু করতে ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।  সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে হার্ডকপিতে আবেদন নেওয়া হবে।  এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সাতটি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

 মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ নির্ধারিত ফরম্যাটে পূরণ করা আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।  সব কাগজপত্র যথাযথভাবে সত্যায়িত করে নির্ধারিত ক্রমানুসারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

 বদলি আবেদনে যে ৭টি নির্দেশনা মানতে হবে

 ১.  নির্ধারিত ফরমে আবেদন

 কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত ফরম্যাটে ম্যানুয়াল আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে।

 ২.  সর্বশেষ এমপিও শিট ও ইনডেক্সের প্রমাণ

 বর্তমান পদের সর্বশেষ এমপিও শিটের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।  একই সঙ্গে ইনডেক্স নম্বরের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

 ৩.  প্রথম নিয়োগ ও বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগদানের কাগজ

 শিক্ষক হিসেবে প্রথম নিয়োগের নিয়োগপত্রের কপি এবং বর্তমান প্রতিষ্ঠানে যোগদানের মূল কপির সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে।

 ৪.  সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র

 এসএসসি বা সমমান পরীক্ষা থেকে শুরু করে শিক্ষকের অর্জিত সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ও নম্বরপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদনপত্রের সঙ্গে দিতে হবে।

 ৫.  কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদের প্রমাণ

 যে মাদ্রাসায় বদলি হতে ইচ্ছুক, সেখানে সংশ্লিষ্ট পদের শূন্যতা রয়েছে—এমন প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।  প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অনাপত্তি বা সম্মতিপত্রও দিতে হবে।

 ৬.  বর্তমান ও কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের মতামত/এনওসি

 বর্তমান প্রতিষ্ঠান এবং যে প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে চান—উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও গভর্নিং বডির সুনির্দিষ্ট মতামত অথবা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জমা দিতে হবে।

 ৭.  বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র

 বদলি নীতিমালা অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দূরত্ব সনদ, চিকিৎসা সংক্রান্ত সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট) অথবা জনস্বার্থের পক্ষে প্রাসঙ্গিক অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

 ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন পাঠানোর নির্দেশ

 এর আগে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাদ্রাসা শাখা-১-এর উপসচিব মো.  রাহাত মান্নান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনস্বার্থে এবং শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে সফটওয়্যার চালু না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আবেদনকারীদের কাছ থেকে শূন্য পদের বিপরীতে ম্যানুয়াল বা হার্ডকপি আবেদন গ্রহণ করবে।

 এ জন্য মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে শূন্য পদের বিপরীতে ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করে সংযুক্ত ছক অনুযায়ী আগামী ১৫ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

 সফটওয়্যার চালু না হওয়া পর্যন্ত ম্যানুয়াল বদলি

 সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা।  আবেদন গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হবে।  এরপর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

 সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’-এর বিধি ৩.১৯ অনুযায়ী জনস্বার্থে বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

 কেন শুরু হলো মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি

 মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনেকেই পরিবার ও নিজ জেলা থেকে দূরে কর্মরত থাকায় বিভিন্ন ধরনের মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হন।  এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের জন্য সুষম ও স্বচ্ছ বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 এ উদ্দেশ্যে গত ২ জুন ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়।

 নীতিমালা অনুযায়ী বদলি কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরির কাজ করছে।  তবে সফটওয়্যার এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় অনলাইনে বদলি কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে।

 এ কারণে সফটওয়্যার চালু না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন বদলি কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন