Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ

ফকির লালন শাহ (১৭৭৪–১৮৯০)
ফকির লালন শাহ (১৭৭৪–১৮৯০) বাংলার মরমী সাধনা, বাউল গান এবং মানবতাবাদী দর্শনের এক শ্রেষ্ঠ পুরুষ। তিনি লালন সাঁই বা লালন ফকির নামেও পরিচিত। জাতপাত, ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানবপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী প্রচার করে তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত উইকিপিডিয়ার লালন জীবনী পাতায় পাওয়া যায়। 
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন
জন্ম তারিখ: ১৭৭৪ সালের ২৪ অক্টোবর (মতান্তরে ১৭৭২)
জন্মস্থান: কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ভাড়ারা গ্রাম বা ঝিনাইদহের কোনো এক অঞ্চলে তাঁর জন্ম বলে প্রচলিত আছে।
শৈশব: লালনের জন্মপরিচয় ও ধর্মবিশ্বাস নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক দলিল বা সর্বসম্মত তথ্য নেই। লোকমুখে শোনা যায়, তীর্থে যাওয়ার পথে বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে সঙ্গীরা তাঁকে ফেলে যায়। 
আধ্যাত্মিক সাধনা ও আখড়া প্রতিষ্ঠা
সিরাজ সাঁইয়ের সান্নিধ্য: রোগমুক্তির পর মল্লিকা নামক এক দম্পতি ও সিরাজ সাঁই নামের এক মরমী সাধক তাঁকে আশ্রয় ও দীক্ষা দেন।
ছেঁউড়িয়া আখড়া: কুষ্টিয়ার কালী নদীর তীরে ছেঁউড়িয়া গ্রামে তিনি একটি আখড়া স্থাপন করেন। এখানে বসেই তিনি সাধনা ও বাউল তত্ত্ব প্রচার শুরু করেন।
দর্শন: তাঁর দর্শনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গভিত্তিক কোনো ভেদাভেদ ছিল না। মানবদেহকেই তিনি ঈশ্বর বা মনের মানুষের বাসভূমি মনে করতেন।
সৃষ্টি ও উত্তরাধিকার

গান: তিনি প্রায় দুই হাজারেরও বেশি গান রচনা করেছেন। তাঁর গানে সুর ও বাণীর গভীরতা অনন্য। "সব লোকে কয় লালন কী জাত ಸಂಸারে", "মিলবে তার দেখা অটল শেলের কূলে"-এর মতো বিখ্যাত গান আজও অমর। 
প্রভাব: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বহু মনিষী তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর অনেক গান সংগ্রহ ও প্রচার করেছিলেন। 
মৃত্যু: ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর ১১৬ বছর বয়সে তিনি কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ইন্তেকাল করেন। প্রতি বছর তাঁর প্রয়াণ ও জন্মতিথিতে মাজার প্রাঙ্গণে বিশাল বাউল মেলা ও উৎসব বসে। 
মন্তব্য করুন