প্রভাষক
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৭ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
য়লা ধুলে ময়লা যায় না” বলে একটা কথা প্রচলিত আছে। স্পষ্টতই কয়লাকে চরম অবজ্ঞা করে ময়লার সাথে তুলনা করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হল এই যে পানির তো কয়লাকে ধোয়ার কোন যোগ্যতা নেইই বরং কয়লা যে পানি দিয়ে ধোয়া হয় সেই পানিটাই পরিস্কার হয়ে যায়!
খুব অদ্ভুত মনে হচ্ছে কি কথাটাকে? ভাবছেন পুরোপুরি উল্টো কথা বলছি? মোটেই না। কাঠকয়লা নিয়ে আজ কিছু কথা বলব। কথাগুলো বলা শেষ হলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন এতদিন যা শুনেছেন সেটাই বরং উল্টো। সম্প্রতি সারা বিশ্বে কাঠকয়লা নিয়ে এমন আলোড়ন উঠছে যে কাঠকয়লাই হতে পারে মানুষের ভারে ভারাক্রান্ত পৃথিবীর জন্য পরিত্রানের হাতিয়ার।
কাঠকয়লা বহু গুণে গুনান্বিত। তবে এর গুণাগুণ বুঝতে হলে এর গঠন সম্পর্কে কিছুটা অবগত হওয়া জরুরী। আমরা সবাই জানি কাঠকয়লা পাওয়া যায় কাঠ থেকে। কাঠ পোড়ালে কয়লা হয়ে যায়। কয়লাকে পোড়ানো হলে সেটা ছাইয়ে পরিণত হয়। অর্থাৎ কাঠের অসম্পূর্ণ দহনে কয়লা পাওয়া যেতে পারে। কাঠ মূলত সেলুলোজ। সেলুলোজ হল কার্বন, অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেনের সংযোগে তৈরি একধরনের লম্বা চেইন বিশিষ্ট পলিমার। কয়লা মূলত কার্বন। সেলুলোজকে যখন বাতাসে পোড়ানো হয় তখন সেলুলোজের কার্বন ও হাইড্রোজেন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন-ডাই অক্সাইড ও পানি তৈরি করে উড়ে চলে যায়। সেলুলোজকে পুরোপুরি পুড়তে দেয়া না হলে তার বেশ খানিকটা কার্বন রয়ে যায় এবং সেটাই আমরা কয়লা হিসেবে পাই। কাঠ এমনিতেই বেশ ফাঁপা। কাঠের ফাঁক-ফোকর গুলো এত ছোট যে সেগুলোকে আলাদাভাবে বোঝা যায় না। সেটাকে পুড়িয়ে কয়লায় পরিণত করা হলে আরো ফাঁপা হয়ে যায়। খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা এবং কাঠকয়লার মধ্যে এটা একটা উল্ল্যেখযোগ্য পার্থক্য। খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা ফাঁপা হয়না। আর ফাঁপা হওয়ার কারনেই কাঠকয়লা অর্জন করেছে কিছু মনিমান্বিত গুণ।
৪
৪ মন্তব্য