নব্বই দশকের শুরুর দিকে প্রথম ঢাকা গিয়েছিলাম। সবে ক্লাস নাইন-কি টেনে পড়ি। আমাদের যাত্রা ছিল ট্রেনে। দিনাজপুর থেকে প্রথম সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু। পার্বতীপুর গিয়ে ইন্টারসিটি ট্রেনে ওঠালাম। অবাক বিস্ময়ে ইন্টারসিটি ট্রেনের ঝকঝকে বসার সিট আর ফেনগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলাম ট্রেনও এত বিলাসবহুল হয়! তখন পর্যন্ত শুধু লোকাল ট্রেনের অভিজ্ঞতাই ছিল তাই ট্রেন বলতে আবর্জনা ও দুর্গন্ধময় একটা কামরাকেই বুঝতাম। গভীর রাতে আমরা পৌছালাম ফুলছড়ি ঘাটে, ফেরিতে যমুনা পাড়ি দিয়ে বাহাদুরাবাদ ঘাটে পৌঁছে ঐদিকে আবার ঢাকার ট্রেন। সেই আমার প্রথম ঢাকা দেখা। সবকিছুই বিস্ময় লাগছিলো। এত বড় শহর! এত উচু উচু ভবন! কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। বাসের জানালার ফাঁক দিয়ে মেজদা (গফ্ফার ভাই) দর্শনীয় জায়গায়গুলো দেখিয়ে দিতেন। সংসদ ভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাইকোর্ট, বায়তুল মোকাররম, জাতীয় ঈদগাহ মাঠ প্রভৃতি।
ঐ সময় খেয়াল করেছি, মেজদা কোন লোকের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হলে নিজ জেলার ( Home District) নাম দিনাজপুর বলতেন। সুযোগ বুঝে একদিন মেজদাকে জিজ্ঞেস করলাম-
"আচ্ছা দাদা, তুমি আমাদের জেলার নাম দিনাজপুর বলো কেন? আমাদের জেলা তো ঠাকুরগাঁও। " মেজদা গম্ভীর স্বরে বললেন, "এদিকে ঠাকুরগাঁও বললে কেউ চিনবে না।" ঢাকা শহরে ঠাকুরগাঁও জেলাকে কেউ চিনবে না জেনে আমাদের জেলাকে খুব নগন্য মনে হলো। আর ঠাকুরগাঁও জেলার একজন নগন্য অধিবাসী হিসেবে নিজেকেও মনে হলো খুব তুচ্ছ। এরপর দীর্ঘদিন যাবত আমাদের জেলার পরিচয়ের অবস্থান প্রায় এমনই দেখে এসেছি।
পরবর্তীতে আলমগীর স্যারের জাতীয় রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ইমেজ, সুন্দর বাচনভঙ্গি, সৎচিন্তা বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেন ঠাকুরগাঁও-এর পরিচয়ও বিকশিত হলো। আজ ঠাকুরগাঁও-কে আর আলাদা ভাবে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। শুধু ফকরুল ইসলাম আলমগীরের জেলা বললেই হয়। এ পরিচয় যেন আরও বিস্তৃত হয়েছে তৎকালীন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিখ্যাত উক্তিতে," পালবো না........প্রয়োজনে ফখরুল সাহেবের বাসায় গিয়ে উঠবো....... ঠাকুরগয়ের বাড়ি আছে না।"
স্যারের পরিচয় আজ শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সারাবিশ্বে যত বাংলা-ভাষি মানুষ আছেন সবাই আলমগীর স্যারকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে জানেন সেই সঙ্গে চিনেন ঠাকুরগাঁও জেলাকে। ঠাকুরগাঁওবাসীর একজন হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্যারকে জানাই শুভকামনা ও অভিনন্দন একই সঙ্গে স্যারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
১৩
১৮ মন্তব্য