প্রতি মাসে সাড়ে ৫ লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর মূল বেতন থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে ১০% চাঁদা। এই কর্তনের মোট পরিমাণ মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২১০ কোটি টাকা।
শিক্ষক সমাজের রক্তপানি করা এই কষ্টের টাকার হিসাব কোথায়? আসুন গাণিতিক ও যৌক্তিক নিরিখে বাস্তব চিত্রটি বিশ্লেষণ করি:
১. প্রতি মাসে এই টাকায় কতজনের পাওনা পরিশোধ সম্ভব?
একজন শিক্ষকের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্ট বাবদ গড় পাওনা যদি সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকাও ধরা হয়, তবে—
শুধু প্রতি মাসের আদায়কৃত ২১০ কোটি টাকা দিয়ে অনায়াসেই প্রতি মাসে ১,০৫০ থেকে ১,৪০০ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের সমুদয় পাওনা এককালীন পরিশোধ করা সম্ভব!
২. ৬ মাসের জমানো টাকার সুদের পরিমাণ কত?
যেহেতু প্রতি মাসে পাওনা পরিশোধ করা হয় না, তাই যদি ৬ মাসের সংগৃহীত টাকা (প্রায় ১,২৬০ কোটি টাকা) ব্যাংকে ৯% থেকে ১০% সাধারণ সুদেও রাখা হয়:
৬ মাসে শুধু সুদই আসে প্রায় ৫৬ থেকে ৬৩ কোটি টাকা! প্রশ্ন হলো—এই বিপুল পরিমাণ সুদের টাকা কোথায় জমা হচ্ছে? আর কারাই বা এর সুবিধা ভোগ করছে?
৩. ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী ২৪ মাসের ৫০৪০ কোটি টাকা কোথায়?
গত ২৪ মাসে (২ বছরে) শিক্ষকদের বেতন থেকে আনুমানিক ৫,০৪০ কোটি টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।
এত বিশাল অংকের টাকা তোলার পরও শিক্ষক-কর্মচারীদের কেন বছরের পর বছর অবসরের টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়?
কেন সামান্য কিছু অংশ "আংশিক পরিশোধ" করে বাকিটা ঝুলিয়ে রাখা হয়?
৪. আংশিক পরিশোধের এই প্রহসন কেন?
নিজের কষ্টের উপার্জিত টাকা অবসর গ্রহণের পর এককালীন না পেয়ে কেন কিস্তিতে বা আংশিক পেতে হবে? যেখানে প্রতি মাসে নতুন করে কোটি কোটি টাকা তহবিলে জমা হচ্ছে, সেখানে ঘাটতি থাকার যৌক্তিক কোনো কারণ থাকতে পারে না।
উত্তর কার কাছে চাইবো? কে দেবে এই উত্তর?
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি): এই বিপুল অর্থ তহবিলে জমা হওয়ার পর কীভাবে বণ্টন হচ্ছে, তার শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট: ২৪ মাসের ৫,০৪০ কোটি টাকা এবং তার অর্জিত সুদের হিসাব আমানতকারী শিক্ষকদের সামনে স্পষ্ট করুন।
শিক্ষকদের বেতন থেকে প্রতি মাসে নিয়ম মেনে টাকা ঠিকই কাটা হচ্ছে, কিন্তু অবসরে গেলে মিলছে কেবল আশ্বাস আর দীর্ঘ অপেক্ষা। এই অনিয়ম ও অনিশ্চয়তার অবসান হওয়া জরুরি।
তহবিলের পূর্ণাঙ্গ অডিট এবং বকেয়া পাওনা অবিলম্বে এককালীন পরিশোধের জোর দাবি জানাচ্ছি।
৬৪
১০০ মন্তব্য