যখন চাকরিতে প্রবেশ করেছিলাম, তখন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পেয়েছিলাম জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ স্যারকে। তিনি আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন—একদিন শিক্ষকদের বেতন লাখ টাকা হবে। কালের বিবর্তনে সেই লাখ টাকা আজ বাস্তবে দুই লাখ টাকার সমপরিমাণ।
পরবর্তীতে টানা দুই মেয়াদে, অর্থাৎ প্রায় ১০ বছর শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছিলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই এবং এ নিয়ে তারা কাজ করছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দুই মেয়াদে শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় উল্লেখযোগ্য কোনো বৃদ্ধি আমরা পাইনি।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর জাতীয়তাবাদী বিএনপি সরকার গঠন করেছে। শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জনাব ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন স্যার। তিনি শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র স্কেল দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও চিন্তাভাবনা করছেন। শিক্ষা পরিবারের অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদের কল্যাণে আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া তাঁর স্বাভাবিক দায়িত্ব—এ জন্য আমরা তাঁকে সাধুবাদ জানাই।
তবে মাননীয় অভিভাবক, আমাদের বিনীত অনুরোধ—আমরা স্বতন্ত্র স্কেল চাই না; আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত জাতীয় স্কেলেই থাকতে চাই। আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশীদার হতে চাই।
আমাদের দীর্ঘদিনের তিনটি প্রধান বৈষম্য হলো—

বাড়িভাড়া ভাতা

চিকিৎসা ভাতা

শতভাগ উৎসব ভাতা
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, চলতি বাজেটেই এই তিনটির যেকোনো একটি বৈষম্য দূর করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন। আপনার এই উদ্যোগ লাখো শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের জন্য আশার আলো হয়ে থাকবে।
আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষা পরিবারের অভিভাবক হিসেবে আপনি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
আপনার একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করবে। আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।
৬৫
১০০ মন্তব্য