Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়: কমিটিরি ক্ষমতার বলয় ভাঙবে কে?

প্রাথমিক বিদ্যালয় কেবল অক্ষর চেনার কেন্দ্র নয়, এটি একটি সামাজিক বুনিয়াদ। গ্রামের প্রতিটি মানুষের সামাজিক জীবনের প্রথম মেলবন্ধন ঘটে এই প্রাঙ্গণেই। ফলে একটি গ্রামের সর্বকনিষ্ঠ কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এই বুনিয়াদ পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (SMC) আজ এক গভীর সংকটে জর্জরিত

আইনত ও নীতিগতভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয় কমিটি একটি সম্পূর্ণ সেবামূলক সংগঠন। এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো রক্ষা এবং একটি সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। গ্রামে এমন অনেক সদ্বিবেচক, সৎ ও শিক্ষানুরাগী মানুষ আছেন, যারা নিঃস্বার্থভাবে এই কাজগুলো করতে চান। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি বেশ করুণ

সংকটের মূল চিত্র

আজকের দিনে গ্রামের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সততা ও জ্ঞানের চেয়ে ক্ষমতা বা পেশিশক্তির দাপট বেশি লক্ষণীয়। পরিচালনা পর্ষদের পদগুলো এখন সমাজসেবার মাধ্যম না হয়ে স্থানীয় ক্ষমতা প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার কিংবা আর্থিক সুবিধার (যেমন—বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ, সংস্কার কাজ বা ক্ষুদ্র কেনাকাটা) হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ফলে এলাকার তথাকথিত প্রভাবশালী ও দুষ্ট চক্রের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েন সৎ মানুষেরা। কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি আর নোংরা রাজনীতির ভয়ে প্রকৃত জ্ঞানী ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিরা এই কমিটিগুলো থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছেন—যার সরাসরি মাশুল গুনছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ

উত্তরণের পথ

১. স্বচ্ছ অভিভাবক প্রতিনিধিত্ব প্রকৃত অভিভাবকদের মধ্য থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে বা যৌক্তিক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করা উচিত, যাতে প্রভাবশালীরা বলপ্রয়োগ বা প্রভাব খাটিয়ে কমিটি দখল করতে না পারে

২. প্রশাসনের কঠোর নজরদারি উপজেলা শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনকে কমিটির অনুমোদন প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন ও কার্যক্রমে সরাসরি তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব কমিটির সিদ্ধান্তে প্রাধান্য না পায়

৩. তথ্য প্রকাশ ও জবাবদিহিতা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ, ব্যয় ও কার্যক্রমের হিসাব নোটিশ বোর্ডে বা অভিভাবক সমাবেশে নিয়মিত প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা থাকলে অনিয়মের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে

৪. সৎ মানুষের একতাবদ্ধ হওয়া গ্রামের শিক্ষিত ও ভদ্র সমাজকে কেবল নীরব দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে সম্মিলিতভাবে কমিটির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে হবে, যাতে সৎ প্রার্থীরা নির্বাচনে বা মনোনয়নে এগিয়ে আসার সাহস পান

একটি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় যখন প্রভাবশালী দুষ্ট চক্রের হাত থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃত শিক্ষানুরাগী ও সৎ মানুষের হাতে আসবে, তখনই কেবল শিক্ষার আসল আলো ছড়িয়ে পড়বে পুরো গ্রামে। শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এই সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি

 

মন্তব্য করুন