Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

যে জিপিএ মেধাকে মাপে না

বাংলাদেশ প্রায়ই মেধা পাচার ঠেকানো এবং বিদেশে শিক্ষিত নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কঠোর শিক্ষক-যোগ্যতার নিয়ম অনেক ক্ষেত্রে সেই লক্ষ্যকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। বিদেশের নামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া একজন যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক তার নিজের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার জন্য বিবেচিত হওয়ার আগেই বাদ পড়ে যেতে পারেন।

বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণে একজন প্রার্থীর শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন স্তরে-এসএসসি বা সমমান, এইচএসসি বা সমমান, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে নির্দিষ্ট ন্যূনতম ফলাফল থাকা আবশ্যক। প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে পদ্ধতিটি সহজ হলেও একাডেমিক বিচারে এটি দুর্বল। কারণ, জিপিএ কোনো সর্বজনীন মাপকাঠি নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩.৫ সিজিপিএকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩.৫ সিজিপিএর সমতুল্য ধরে নেওয়া যায় না। প্রতিষ্ঠানভেদে পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন-পদ্ধতি, একাডেমিক কঠোরতা, গ্রেড দেওয়ার সংস্কৃতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার মানে বড় পার্থক্য থাকে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই ধরা যাক। সেখানে সাধারণত আমেরিকান পদ্ধতির জিপিএ দেওয়া হয় না। দেওয়া হয় ডিগ্রির শ্রেণিবিন্যাস এবং বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার ফল। ফলে অক্সফোর্ডের ফলাফলকে চার-পয়েন্ট জিপিএতে রূপান্তর করাই একটি আনুমানিক প্রক্রিয়া। এমন কঠোর শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে শীর্ষ শ্রেণির ফল অর্জন করতে পারেন খুব সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী। অথচ সেই ফলকে অপেক্ষাকৃত কম কঠোর কোনো প্রতিষ্ঠানের সিজিপিএর সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা একাডেমিকভাবে কতটা যুক্তিসংগত?

মন্তব্য করুন