সহকারী অধ্যাপক
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
রহমতের নবী - মোঃ মুজিবুর রহমান
রহমতের নবী
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
রূপে ছিলেন সবার সেরা,
চরিত্রে নির্মল ধারা,
চলনে ছিল দৃপ্ত গতি,
কথায় ঝরত জ্ঞানের জ্যোতি।
দান-দয়ায় ছিলেন সাগর,
মমতায় ভরা নবীর অন্তর।
মানবতার শ্রেষ্ঠ আলো—
মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ভালো।
আবু হুরাইরা (রা.) বলেন,
যাঁকে দেখে মুগ্ধ নয়ন—
তাঁর চেয়ে সুন্দর কোনো
মানুষ দেখিনি জীবনে যেন।
মুখমণ্ডলে নূরের আভা,
হৃদয়জুড়ে মমতার দাবি,
দেখলে তাঁকে প্রশান্ত হতো
বিষণ্ন হৃদয়, ক্লান্ত প্রাণও।
চাঁদের আলো ম্লান যে রূপে,
সূর্যও যেন নত হয় চুপে,
তবু সে রূপ অহংকার নয়,
সৌন্দর্যে ছিল বিনয়ের জয়।
চোখে ছিল করুণার ভাষা,
মুখে ছিল সত্যের আশা,
রূপের সাথে চরিত্র মিলে
মানবতার পথটি খুলে।
চলনে ছিল দৃঢ়তা তাঁর,
কর্মে ছিল গতি অপার;
দ্রুত চলতেন প্রয়োজনমতো,
অলসতা ছিল না তাঁর মতো।
আবু হুরাইরা (রা.)-এর বাণী—
এ শিক্ষা আজও অম্লানখানি;
কাজের বেলায় কর্মঠ হও,
সময়কে আর বৃথা না দাও।
কিন্তু গতি মানে নয় অস্থিরতা,
শক্তি মানে নয় কঠোরতা;
প্রয়োজনে দ্রুত, ধীরও যথা,
এটাই ছিল নবীর প্রজ্ঞা।
চলনে ছিল ভারসাম্য তাঁর,
আচরণে সৌন্দর্য অপার;
প্রতিটি পদে শিক্ষা ছিল—
সুন্নাহর পথে জীবন চলুক।
কেউ যদি কিছু চাইতে আসত,
আশার আলো নিয়ে দাঁড়াত,
নবীর দুয়ার শূন্য ফিরত—
এমন দৃষ্টান্ত ছিল না কখনো।
জাবির (রা.)-এর বর্ণনায় তাই
উদারতার শিক্ষা পাই;
দানশীল হৃদয় কৃপণ নয়,
মুমিনের প্রাণ সংকীর্ণ নয়।
কখনো যদি না-ও দিতে হয়,
সৌজন্য যেন তবু না ক্ষয়;
নবীর শিক্ষা—মানুষের মনে
আঘাত দিও না কঠিন বচনে।
দিতে পারলে দাও সানন্দে,
না পারলেও বলো কোমল ছন্দে;
মানুষের প্রতি মমতা রাখো,
উত্তম আচরণে হৃদয় জাগাও।
রোগীর শয্যায় যেতেন তিনি,
দুঃখীর পাশে দাঁড়াতেন তিনি;
অসুস্থ মানুষ একা নয়—
নবীর হৃদয় তারই সঙ্গী হয়।
মানবসেবায় ছিল না ভেদ,
ছিল না ধনী-দরিদ্রের ছেদ;
অসহায়ের অশ্রু মুছাতে
ছুটে যেতেন স্নেহ বিলাতে।
মৃতের জানাজা, দাফনের পথে
যেতেন তিনি আপন হাতে;
জীবন যেমন আপন সবার,
মৃত্যুতেও সম্পর্ক তাঁর।
মানুষের দুঃখ নিজের করে
দাঁড়াতেন তিনি পাশে ধরে;
এই তো মানবতার শিক্ষা—
পরের ব্যথায় জাগুক দীক্ষা।
আজও যদি সমাজজুড়ে
মানুষ মানুষকে যায় ভুলে,
নবীর সেই আদর্শ নিয়ে
চলো সবাই হৃদয় দিয়ে।
রোগীর পাশে দাঁড়াই এসে,
দুঃখীর চোখের জল মুছে হেসে;
মৃতের প্রতি সম্মান রাখি,
মানবতার দীপ জ্বালাই।
নীরবতাও ছিল তাঁর গুণ,
অর্থহীন কথা নয় কোনোক্ষণ;
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন,
দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন।
নীরবতা যে জ্ঞানের দ্বার,
বিচক্ষণতার সুন্দর ভার;
সব কথা বলা জ্ঞান নয়—
কখন থামতে হয়, তাও শিক্ষা হয়।
কথা বলতেন স্পষ্ট করে,
অর্থপূর্ণ প্রতিটি স্বরে;
আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় পাই,
শব্দগুলো গোনা যেত তাই।
তাড়াহুড়ো করে কথা নয়,
অস্পষ্ট বচন তাঁর নয়;
পরিষ্কার ভাষা, সংযত বাণী—
এ শিক্ষা হোক জীবনের খানি।
থেমে থেমে বলতেন কথা,
প্রতিটি শব্দে থাকত ব্যাখ্যা;
শ্রোতার মনে পৌঁছাত বাণী,
সহজ হতো বোঝার পথখানি।
চিৎকার নয়, কটু নয় স্বর,
কথায় ফুটত জ্ঞানের ভোর;
শ্রদ্ধা রেখে বলতেন কথা,
সত্যে ছিল তাঁর দৃঢ়তা।
হে মানুষ, শিখো নবীর ভাষা—
কথায় রেখো সত্যের আশা;
অকারণে কথা বাড়িও না,
কারও হৃদয় ভেঙে দিও না।
একটি কথা হতে পারে ফুল,
একটি কথা হতে পারে শূল;
তাই তো জবান রাখো সংযত,
সত্য, সুন্দর, কোমল, পবিত্র।
রূপ যদি থাকে, বিনয় চাই,
জ্ঞান যদি থাকে, অহংকার নাই;
শক্তি যদি থাকে, সেবা করো,
সম্পদ পেলে দান করো।
দ্রুত চলায় কর্মঠ হও,
নীরবতায় সংযম বও;
কথার মাঝে সত্য বলো,
মানুষের পাশে সদা চলো।
মহানবী ছিলেন আদর্শ মহান,
তাঁর জীবন কুরআনের জ্ঞান;
সৌন্দর্যে তিনি অনুপম,
চরিত্রে ছিলেন অতুলনীয়তম।
দয়া, ক্ষমা, শিষ্টতা, দান—
তাঁর জীবনেই পূর্ণ জ্ঞান;
মানবতার উজ্জ্বল দীপ
তাঁর সুন্নাহয় জ্বলে অনন্ত।
হে আল্লাহ, দাও সেই গুণ,
হৃদয় করো পবিত্র, নির্মল, সুনির্মল;
কথায় দাও সত্যের আলো,
আচরণে করো মানুষ ভালো।
রোগীর সেবায় মন দাও মোর,
দুঃখীর পাশে দাঁড়ানোর জোর;
দানশীল করো আমার প্রাণ,
সুন্নাহয় ভরুক জীবন-প্রাণ।
নীরবতার শিক্ষা দাও,
অর্থপূর্ণ কথা বলতে শেখাও;
অন্যের মনে আঘাত না দিয়ে
সত্য বলতে দাও হাসিমুখে।
চলাফেরায় শালীনতা দাও,
কর্মে দাও নিষ্ঠা-প্রভা;
নবীর আদর্শ হৃদয়ে ধরে
জীবন কাটুক তাঁর পথ ধরে।
রূপ নয় শুধু—চরিত্র চাই,
কথা নয় শুধু—কর্ম চাই;
জ্ঞান নয় শুধু—সেবা চাই,
ভালোবাসায় মানবতা চাই।
মুহাম্মদের (সা.) সুন্নাহ ধরে
চলো সবাই সত্যের পথে;
তাঁর আদর্শ হোক জীবনের আলো,
তবেই মানুষ হবে সত্যিই ভালো।
দরুদ ঝরে প্রিয় নবীর নামে,
শান্তি নামে মুমিনের প্রাণে;
মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শধারা
হোক আমাদের জীবনের তারা।
সৌন্দর্য, দয়া, শিষ্টতা, দান—
হোক জীবনের মহৎ গান;
মানবসেবায় কাটুক জীবন,
সুন্নাহয় হোক হৃদয় পবিত্র।
হে রব, প্রিয় নবীর প্রেমে
রাখো আমাদের অন্তর ভরে;
তাঁর সুন্নাহর পথে চলার
তাওফিক দাও জীবনভর।
শেষ নিশ্বাসে ঈমান দিও,
নবীর শাফাআত নসিব করিও;
দরুদে ভরে উঠুক প্রাণ—
এই হোক মুমিনের শ্রেষ্ঠ গান।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
রহমতের নবী
রূপে ছিলেন সবার সেরা,
চরিত্রে নির্মল ধারা,
চলনে ছিল দৃপ্ত গতি,
কথায় ঝরত জ্ঞানের জ্যোতি।
দান-দয়ায় ছিলেন সাগর,
মমতায় ভরা নবীর অন্তর।
মানবতার শ্রেষ্ঠ আলো—
মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ভালো।
আবু হুরাইরা (রা.) বলেন,
যাঁকে দেখে মুগ্ধ নয়ন—
তাঁর চেয়ে সুন্দর কোনো
মানুষ দেখিনি জীবনে যেন।
মুখমণ্ডলে নূরের আভা,
হৃদয়জুড়ে মমতার দাবি,
দেখলে তাঁকে প্রশান্ত হতো
বিষণ্ন হৃদয়, ক্লান্ত প্রাণও।
চাঁদের আলো ম্লান যে রূপে,
সূর্যও যেন নত হয় চুপে,
তবু সে রূপ অহংকার নয়,
সৌন্দর্যে ছিল বিনয়ের জয়।
চোখে ছিল করুণার ভাষা,
মুখে ছিল সত্যের আশা,
রূপের সাথে চরিত্র মিলে
মানবতার পথটি খুলে।
চলনে ছিল দৃঢ়তা তাঁর,
কর্মে ছিল গতি অপার;
দ্রুত চলতেন প্রয়োজনমতো,
অলসতা ছিল না তাঁর মতো।
আবু হুরাইরা (রা.)-এর বাণী—
এ শিক্ষা আজও অম্লানখানি;
কাজের বেলায় কর্মঠ হও,
সময়কে আর বৃথা না দাও।
কিন্তু গতি মানে নয় অস্থিরতা,
শক্তি মানে নয় কঠোরতা;
প্রয়োজনে দ্রুত, ধীরও যথা,
এটাই ছিল নবীর প্রজ্ঞা।
চলনে ছিল ভারসাম্য তাঁর,
আচরণে সৌন্দর্য অপার;
প্রতিটি পদে শিক্ষা ছিল—
সুন্নাহর পথে জীবন চলুক।
কেউ যদি কিছু চাইতে আসত,
আশার আলো নিয়ে দাঁড়াত,
নবীর দুয়ার শূন্য ফিরত—
এমন দৃষ্টান্ত ছিল না কখনো।
জাবির (রা.)-এর বর্ণনায় তাই
উদারতার শিক্ষা পাই;
দানশীল হৃদয় কৃপণ নয়,
মুমিনের প্রাণ সংকীর্ণ নয়।
কখনো যদি না-ও দিতে হয়,
সৌজন্য যেন তবু না ক্ষয়;
নবীর শিক্ষা—মানুষের মনে
আঘাত দিও না কঠিন বচনে।
দিতে পারলে দাও সানন্দে,
না পারলেও বলো কোমল ছন্দে;
মানুষের প্রতি মমতা রাখো,
উত্তম আচরণে হৃদয় জাগাও।
রোগীর শয্যায় যেতেন তিনি,
দুঃখীর পাশে দাঁড়াতেন তিনি;
অসুস্থ মানুষ একা নয়—
নবীর হৃদয় তারই সঙ্গী হয়।
মানবসেবায় ছিল না ভেদ,
ছিল না ধনী-দরিদ্রের ছেদ;
অসহায়ের অশ্রু মুছাতে
ছুটে যেতেন স্নেহ বিলাতে।
মৃতের জানাজা, দাফনের পথে
যেতেন তিনি আপন হাতে;
জীবন যেমন আপন সবার,
মৃত্যুতেও সম্পর্ক তাঁর।
মানুষের দুঃখ নিজের করে
দাঁড়াতেন তিনি পাশে ধরে;
এই তো মানবতার শিক্ষা—
পরের ব্যথায় জাগুক দীক্ষা।
আজও যদি সমাজজুড়ে
মানুষ মানুষকে যায় ভুলে,
নবীর সেই আদর্শ নিয়ে
চলো সবাই হৃদয় দিয়ে।
রোগীর পাশে দাঁড়াই এসে,
দুঃখীর চোখের জল মুছে হেসে;
মৃতের প্রতি সম্মান রাখি,
মানবতার দীপ জ্বালাই।
নীরবতাও ছিল তাঁর গুণ,
অর্থহীন কথা নয় কোনোক্ষণ;
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন,
দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন।
নীরবতা যে জ্ঞানের দ্বার,
বিচক্ষণতার সুন্দর ভার;
সব কথা বলা জ্ঞান নয়—
কখন থামতে হয়, তাও শিক্ষা হয়।
কথা বলতেন স্পষ্ট করে,
অর্থপূর্ণ প্রতিটি স্বরে;
আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় পাই,
শব্দগুলো গোনা যেত তাই।
তাড়াহুড়ো করে কথা নয়,
অস্পষ্ট বচন তাঁর নয়;
পরিষ্কার ভাষা, সংযত বাণী—
এ শিক্ষা হোক জীবনের খানি।
থেমে থেমে বলতেন কথা,
প্রতিটি শব্দে থাকত ব্যাখ্যা;
শ্রোতার মনে পৌঁছাত বাণী,
সহজ হতো বোঝার পথখানি।
চিৎকার নয়, কটু নয় স্বর,
কথায় ফুটত জ্ঞানের ভোর;
শ্রদ্ধা রেখে বলতেন কথা,
সত্যে ছিল তাঁর দৃঢ়তা।
হে মানুষ, শিখো নবীর ভাষা—
কথায় রেখো সত্যের আশা;
অকারণে কথা বাড়িও না,
কারও হৃদয় ভেঙে দিও না।
একটি কথা হতে পারে ফুল,
একটি কথা হতে পারে শূল;
তাই তো জবান রাখো সংযত,
সত্য, সুন্দর, কোমল, পবিত্র।
রূপ যদি থাকে, বিনয় চাই,
জ্ঞান যদি থাকে, অহংকার নাই;
শক্তি যদি থাকে, সেবা করো,
সম্পদ পেলে দান করো।
দ্রুত চলায় কর্মঠ হও,
নীরবতায় সংযম বও;
কথার মাঝে সত্য বলো,
মানুষের পাশে সদা চলো।
মহানবী ছিলেন আদর্শ মহান,
তাঁর জীবন কুরআনের জ্ঞান;
সৌন্দর্যে তিনি অনুপম,
চরিত্রে ছিলেন অতুলনীয়তম।
দয়া, ক্ষমা, শিষ্টতা, দান—
তাঁর জীবনেই পূর্ণ জ্ঞান;
মানবতার উজ্জ্বল দীপ
তাঁর সুন্নাহয় জ্বলে অনন্ত।
হে আল্লাহ, দাও সেই গুণ,
হৃদয় করো পবিত্র, নির্মল, সুনির্মল;
কথায় দাও সত্যের আলো,
আচরণে করো মানুষ ভালো।
রোগীর সেবায় মন দাও মোর,
দুঃখীর পাশে দাঁড়ানোর জোর;
দানশীল করো আমার প্রাণ,
সুন্নাহয় ভরুক জীবন-প্রাণ।
নীরবতার শিক্ষা দাও,
অর্থপূর্ণ কথা বলতে শেখাও;
অন্যের মনে আঘাত না দিয়ে
সত্য বলতে দাও হাসিমুখে।
চলাফেরায় শালীনতা দাও,
কর্মে দাও নিষ্ঠা-প্রভা;
নবীর আদর্শ হৃদয়ে ধরে
জীবন কাটুক তাঁর পথ ধরে।
রূপ নয় শুধু—চরিত্র চাই,
কথা নয় শুধু—কর্ম চাই;
জ্ঞান নয় শুধু—সেবা চাই,
ভালোবাসায় মানবতা চাই।
মুহাম্মদের (সা.) সুন্নাহ ধরে
চলো সবাই সত্যের পথে;
তাঁর আদর্শ হোক জীবনের আলো,
তবেই মানুষ হবে সত্যিই ভালো।
দরুদ ঝরে প্রিয় নবীর নামে,
শান্তি নামে মুমিনের প্রাণে;
মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শধারা
হোক আমাদের জীবনের তারা।
সৌন্দর্য, দয়া, শিষ্টতা, দান—
হোক জীবনের মহৎ গান;
মানবসেবায় কাটুক জীবন,
সুন্নাহয় হোক হৃদয় পবিত্র।
হে রব, প্রিয় নবীর প্রেমে
রাখো আমাদের অন্তর ভরে;
তাঁর সুন্নাহর পথে চলার
তাওফিক দাও জীবনভর।
শেষ নিশ্বাসে ঈমান দিও,
নবীর শাফাআত নসিব করিও;
দরুদে ভরে উঠুক প্রাণ—
এই হোক মুমিনের শ্রেষ্ঠ গান।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
রূপে অনুপম, গুণে মহান,
তাঁর জীবন পবিত্র প্রাণ;
দয়া-মায়া, সত্য-বাণী,
তাঁরই পথে জাগে প্রাণী।
মুহাম্মদ (সা.)—প্রিয় নবী,
তাঁর আদর্শ জীবনছবি;
সৌন্দর্যে তিনি অতুলনীয়,
চরিত্রে তিনি অনন্যনীয়।
আবু হুরাইরা (রা.)-র বাণী,
শুনে জাগে হৃদয়খানি—
“তাঁর চেয়ে সুন্দর কোনো
মানুষ দেখিনি”—বাণী যেন।
রূপের সাথে গুণের মেলা,
তাঁর জীবনে সত্যের খেলা;
মুখে মধুর শান্তির হাসি,
হৃদয়জুড়ে দয়ার বাসি।
চেহারাতে সৌন্দর্য দীপে,
চরিত্র ফুটত স্নিগ্ধ রূপে;
দেখলে তাঁকে প্রশান্ত হতো
ক্লান্ত হৃদয়, ব্যথিত যত।
শুধু রূপে সুন্দর নন তিনি,
গুণে ছিলেন সেরা ধনী;
সত্য, দয়া, ক্ষমা, মায়া—
তাঁর জীবনেই পেত পূর্ণ ছায়া।
চলতেন তিনি দ্রুত বেগে,
কর্মে থাকতেন সদা জেগে;
আবু হুরাইরা (রা.) বলেন—
তাঁর চেয়ে দ্রুত চলেননি কেউ।
দ্রুত গতি ছিল না উন্মাদ,
ছিল না তাতে অহংকারের স্বাদ;
কাজের বেলায় কর্মঠ থাকা—
শেখালেন তিনি, সময় না রাখা।
অলসতা নয় মুমিনের গুণ,
কর্মে হোক তার দৃঢ় মন;
সময় হলো আমানত মহান,
অপচয় তার বড় ক্ষতি-জ্ঞান।
কাজের সময় কাজে থাকি,
অলসতায় জীবন না ঢাকি;
নবীর পথে চলতে হলে
কর্মনিষ্ঠ হই সকলে।
কেউ যদি এসে কিছু চাইত,
আশা নিয়ে দুয়ারে দাঁড়াত;
জাবির (রা.)-এর বর্ণনা বলে—
‘না’ ফিরত না তাঁর দুয়ার থেকে।
যা কিছু ছিল দিতেন তিনি,
খালি হাতে ফিরত না কেউই;
দানশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত,
তাঁর জীবনেই পায় মহাকান্ত।
দানের মাঝে ছিল না গর্ব,
ছিল না তাতে অহংকার-সর্ব;
মানুষের প্রতি মমতা ছিল,
দুঃখীর পাশে হৃদয় মিলত।
আমরাও তাই শিখি আজ—
দানে যেন না থাকে লাজ;
যতটুকু আছে, ততটুকু দাও,
অসহায়ের মুখে হাসি আনাও।
দিতে না পারলেও হে ভাই,
কোমল ভাষা যেন হারাই নাই;
রূঢ় বচনে হৃদয় ভেঙো না,
অসহায়কে তুচ্ছ কোরো না।
নবীর জীবন শেখায় তাই—
মানুষকে ভালোবাসতে চাই;
সম্পদ ক্ষণিক, দয়া অমর,
সেবার স্মৃতি থাকে নিরন্তর।
রোগীর পাশে যেতেন তিনি,
ব্যথিত প্রাণের সাথি তিনি;
আনাস (রা.)-এর বর্ণনায় পাই,
রোগীর সেবায় ছিলেন সদাই।
অসুস্থ মানুষ একা নয়,
তার পাশে দাঁড়ানো দয়া হয়;
শুধু কথায় মমতা নয়—
সেবার হাতও বাড়াতে হয়।
মৃতের জানাজা, দাফনের পথে
সঙ্গ দিতেন আপন হাতে;
জীবিতের প্রতি যেমন মায়া,
মৃতের প্রতিও তেমনি ছায়া।
মানবসেবার এই আদর্শ
হোক আমাদের জীবনের হর্ষ;
রোগীর সেবা, দুঃখীর পাশে,
মানবতা ফুটুক ভালোবাসায়।
ধনী-দরিদ্র ভেদ না করি,
অসহায়কে দূরে না সরি;
কারও চোখে অশ্রু এলে
মমতার হাত রাখি তার কপালে।
নীরবতাও ছিল তাঁর গুণ,
অর্থহীন বাক্য ছিল না কোনোক্ষণ;
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন,
দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন।
সব কথা বলা জ্ঞান নয়,
চুপ থাকাও প্রজ্ঞা হয়;
যে জানে কখন কথা থামাতে,
সে জানে নিজেকে সংযত রাখতে।
অকারণে কথা বাড়িও না,
পরনিন্দায় জিহ্বা হারিও না;
অশ্লীল বচন, কটু ভাষা
মুমিনের নয়—এ শিক্ষা আশা।
কথা যখন বলতেন তিনি,
স্পষ্ট হতো প্রতিটি বাণী;
আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় পাই—
চাইলে শব্দ গোনা যেত তাই।
তাড়াহুড়ো করে বলতেন না,
অস্পষ্ট ভাষায় চলতেন না;
প্রতিটি শব্দ যথাস্থানে,
প্রজ্ঞার আলো প্রতিটি বাণীতে।
থেমে থেমে বলতেন কথা,
বোঝার জন্য রাখতেন ব্যাখ্যা;
জাবির (রা.)-এর বর্ণনা তাই—
স্পষ্ট কথন তাঁরই পরিচয়।
কথার মাঝে ছিল না ভার,
ছিল না কটু শব্দের ঝড়;
সত্য কথা, সুন্দর ভাষা—
তাঁর কথনে ফুটত আশা।
হে মুমিন, শিখো সেই বাণী,
সংযত রাখো মুখের ভাষা জানি;
কথা বলো মেপে মেপে,
সত্য রাখো কথার ভাঁজে।
একটি কথা ফুলের মতো
হৃদয় জুড়ে সুবাস ছড়ায়;
একটি কথা কাঁটার মতো
অন্যের বুকে ব্যথা ধরায়।
তাই জিহ্বাকে সংযত রাখো,
সত্য-সুন্দর কথা বলো;
কারও মনে দিও না ব্যথা,
কোমল করো নিজের কথা।
রূপ থাকিলে বিনয় চাই,
জ্ঞান থাকিলে গর্ব নাই;
সম্পদ থাকলে দান করো,
শক্তি থাকলে সেবা করো।
দ্রুত চলায় কর্মঠ হও,
নীরবতায় সংযত রও;
কথায় রেখো সত্যের আলো,
আচরণে হও মানুষ ভালো।
নবীর জীবন আলোর ধারা,
তাঁর আদর্শ সবার তারা;
সৌন্দর্য, দয়া, দান ও জ্ঞান—
তাঁর জীবনেই পূর্ণ গান।
মানুষ যদি মানুষ হতো,
অন্যের দুঃখ নিজের নিত;
রোগীর পাশে দাঁড়াত সবাই,
দুঃখীর মুখে হাসি ফুটত তাই।
যদি সমাজ নবীর মতো
দয়া-মায়ায় হতো গড়া,
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে যেত,
ভালোবাসায় হৃদয় ভরত।
যদি আমরা কথায় তাঁর
সংযমেরই শিক্ষা ধরি,
পরনিন্দা, কটু ভাষা
ছাড়ত তবে মানবসমাজ।
যদি আমরা দানে তাঁর
উদারতার শিক্ষা নিই,
অসহায়ের অশ্রু মুছে
মানবতার দীপ জ্বালি।
যদি আমরা সেবায় তাঁর
অনুপম আদর্শ ধরি,
রোগীর পাশে দাঁড়াই গিয়ে,
দুঃখীর হাতটি ধরি।
যদি আমরা কর্মে তাঁর
কর্মনিষ্ঠার শিক্ষা নিই,
অলসতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে
সাফল্যের পথে এগিয়ে যাই।
হে আল্লাহ, সেই গুণ দাও,
নবীর পথে চলতে দাও;
তাঁর সুন্নাহর আলো নিয়ে
জীবন গড়ার শক্তি দাও।
মুখে দাও সত্যের বাণী,
হৃদয় করো নূরে ভরা;
দানশীলতা দাও অন্তরে,
মমতা দাও সবার তরে।
রোগীর সেবায় মন দাও মোর,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর জোর;
মৃতের প্রতি সম্মান দাও,
মানবতার শিক্ষা দাও।
নীরবতার প্রজ্ঞা দাও,
মেপে মেপে কথা বলাও;
কথায় যেন কষ্ট না দিই,
সত্য-সুন্দর ভাষা নিই।
রূপ নয় শুধু, গুণ চাই,
কথা নয় শুধু, কর্ম চাই;
জ্ঞান নয় শুধু, সেবা চাই,
হৃদয়জুড়ে মমতা চাই।
মুহাম্মদের (সা.) আদর্শ ধরে
চলতে চাই জীবনভরে;
তাঁর সুন্নাহ হোক পথের আলো,
তাঁর শিক্ষায় মানুষ হই ভালো।
সৌন্দর্য হোক চরিত্রে,
সত্য থাকুক প্রতিটি বচনে;
দয়া থাকুক অন্তরজুড়ে,
সেবা থাকুক কর্মজুড়ে।
দান থাকুক দু’হাত ভরে,
ভালোবাসা সবার তরে;
নীরবতায় থাকুক জ্ঞান,
সত্য কথায় হোক সম্মান।
হে নবী, তোমার দেখানো পথ
মুমিন হৃদয়ের শ্রেষ্ঠ রথ;
তোমার সুন্নাহ জীবনের আলো,
তোমার আদর্শে হোক সব ভালো।
দরুদ ঝরে প্রিয় নবীর নামে,
শান্তি নামে মুমিনের প্রাণে;
আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম—
প্রেমে ভরে উঠুক অন্তরখানি।
সৌন্দর্যের সেই মহান আলো,
চরিত্রে যার তুলনা নাই কোনো;
উদারতার সেই সাগরধারা,
মানবতার শ্রেষ্ঠ দিশাহারা।
রোগীর সেবায় কোমল হৃদয়,
দুঃখীর পাশে মমতার জয়;
নীরবতায় প্রজ্ঞার দীপ,
কথায় সত্য—সুন্দর রূপ।
হে আল্লাহ, প্রিয় নবীর
সুন্নাহময় জীবন দাও;
তাঁর চরিত্রের আলো দিয়ে
আমার অন্তর ভরিয়ে দাও।
কথায় দাও তাঁর শিষ্টতা,
কর্মে দাও তাঁর নিষ্ঠা;
দানে দাও তাঁর উদারতা,
হৃদয়ে দাও তাঁর মমতা।
শেষ নিশ্বাসে ঈমান দিও,
নবীর প্রেমে প্রাণ ভরিও;
তাঁর সুন্নাহয় জীবন সাজাই,
তাঁর আদর্শে জান্নাত চাই।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
১৩
১৮ মন্তব্য