Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:০৩ পূর্বাহ্ণ

হযরত ইব্রাহিম আ (আঃ) এর প্রথমা স্ত্রী হযরত সারা (আঃ)
হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর প্রথমা স্ত্রী ছিলেন হযরত সারা (আঃ)। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিবরণ অনুযায়ী, তারা ইব্রাহিমের জন্মভূমি ইরাকের ‘উর’ (Ur) নামক শহরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। হযরত সারা ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারী, যিনি ইব্রাহিম (আঃ)-এর নবুওয়তি মিশনে শুরু থেকেই তাঁর পাশে ছিলেন এবং ঈমানের পথে তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন। [1, 2]
বিবাহের পেছনের প্রেক্ষাপট ও হিজরত
পরিচয় ও ঈমান: হযরত সারা ছিলেন ইব্রাহিম (আঃ)-এর সমসাময়িক এবং তাঁর একনিষ্ঠ অনুসারী। ইব্রাহিম (আঃ) যখন নমরূদের অগ্নিকুণ্ড থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পান এবং নিজ জাতির কাউকেও তাওহিদের পথে পাননি, তখন তিনি সারাকে নিয়ে হিজরত করেন।
মিসরের পথে যাত্রা: হিজরতকালে তারা এমন এক জনপদে উপস্থিত হন যেখানে একজন অত্যাচারী ও লম্পট রাজা বা শাসক ছিল। [1, 2, 3]
জালিম বাদশাহর হাত থেকে অলৌকিক রক্ষা
সহীহ হাদিসে বর্ণিত ঐতিহাসিক সেই ঘটনাটি নিচে দেওয়া হলো:
বাদশাহর কুনজর: বাদশাহর লোকেরা খবর পায় যে ইব্রাহিম (আঃ)-এর সঙ্গে এক অত্যন্ত রূপসী নারী রয়েছেন। বাদশাহ তখন ইব্রাহিম (আঃ)-কে ডেকে পাঠান এবং নারীটি সম্পর্কে জানতে চান। [1, 2]
দীনি বোন পরিচয়: প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং চরম এক পরিস্থিতিতে ইব্রাহিম (আঃ) বলেন, "তিনি আমার বোন" (ইসলামের পরিভাষায় দ্বীনি বা বিশ্বাসের বোন)। [1]
আল্লাহর সাহায্য: বাদশাহ যখন অসৎ উদ্দেশ্যে সারা (আঃ)-এর দিকে হাত বাড়ায়, তখন তার হাত তৎক্ষণাৎ শুকিয়ে বা অবশ হয়ে যায়। সে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে এবং বলে, "আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করো, আমি আর এমন করব না"। [1]
হাজেরা (আঃ)-এর আগমন: এভাবে কয়েকবার আক্রান্ত হয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর বাদশাহ বুঝতে পারে যে সারা সাধারণ কোনো নারী নন, বরং আল্লাহর এক বিশেষ বান্দা। ভয়ে ভীত হয়ে বাদশাহ তাদের সম্মান জানায় এবং উপহার হিসেবে রাজপ্রাসাদের এক কন্যা বা দাসী হযরত হাজেরা (আঃ)-কে তাঁদের সেবায় দান করে মুক্তি দেয়।
পরবর্তী সময়ে হযরত সারা (আঃ)-এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা হযরত ইসহাক (আঃ)-এর মতো নবীকে দান করেন। [1, 2]
মন্তব্য করুন

ব্লগ