সহকারী শিক্ষক
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বদলি বাণিজ্যের হালখাতা হাতে জেলা ও উপজেলা থেকে ডিলার ও এজেন্টরা এখন রাজধানীর নবাব আবদুল গণি রোডের আশেপাশে। সরকারি কলেজ ও মাদ্রাসার ১৯ হাজার ও সরকারি হাইস্কুলের ২০ হাজার শিক্ষকের বদলি বাণিজ্যের পুরনো ডিলার ও এজেন্টরা প্রথমবারের মতো শুধু হাইস্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও বদলি বাণিজ্যে নিজেদের ডিলার ও এজেন্টশিপ সম্প্রসারণ করেছেন। এমন গোপন পরিকল্পনা নিয়ে পিরোজপুর থেকে এনসিপি নেতা ও মাদ্রাসা শিক্ষক সারোয়ার, ময়মনসিংহ থেকে তোফায়েল সরকার ও রংপুর থেকে আবুয়ালরা গতকাল রোববার শিক্ষা ভবনে অবস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকেন্দ্রিক পুরনো দালাল, এজেন্ট ও ডিলারদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। কিছু বদলির তালিকার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সই করা এক সাইজের কয়েক বান্ডিল কাগজও হস্তান্তর হয়েছে বলে জানা গেছে।
হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশ নিয়েছেন মাউশি অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার পাল, বিভাষ সাহা ও কম্পিউটার অপারেটর খোকন রানা এবং কিছু বহিরাগত ঘাঘু দালাল। বদলি নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে পিরোজপুরের মাদ্রাসা শিক্ষক ও এনসিপি নেতা সারোয়ার শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেই ছবি ফেসবুকে দিয়ে বদলি প্রত্যাশী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন। ছুটি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে গতকাল সারাদিন শিক্ষা ভবন ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি করেছেন সারোয়ার।
শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তক্কে তক্কে থাকা শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র প্রিন্ট জাতীয় পত্রিকা দৈনিক আমাদের বার্তার অনুসন্ধানে বদলি বাণিজ্যের পানচিনির এমন সব তথ্য পাওয়া গেছে। আগামী ২৬ আগস্ট একাধিক গ্রুপ নানা ছদ্মবেশে বদলি নিয়ে রাজধানীতে একাধিক অনুষ্ঠান করারও পরিকল্পনা করছে বলেও জানা গেছে।
বদলির তদবিরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. কে এম এ এম সোহেল গতকাল রোববার দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, ‘অটোমেশন পদ্ধতিতে বদলি হবে, এখানে কারো ক্ষমতা বা হস্তক্ষেপ করার সুযোগই নেই। তারপরও যদি কেউ বদলি তদবির করেন তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন।”
‘ম্যানুয়ালি কিছুই হবে না। ২৭ আগস্টের পর টেলিটকের বানানো সফটওয়ারে আবেদন যাচাই-বাছাই করে বাটন টিপে বদলির আদেশ জারি করা হবে,’ বলেন মহাপরিচালক।
এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি আবেদন অনলাইনে শুরু হয়েছে গত ২১ আগস্ট। গতকাল রোববার সন্ধ্যা অবধি সাত হাজারের কিছু বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত এ আবেদন করার সুযোগ পাবেন শিক্ষকরা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র দৈনিক আমাদের বার্তাকে জানায়, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শিক্ষকরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনে পাঠানো ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বদলির আবেদন করতে পারছেন।
এদিকে গত ১৮ আগস্ট বেসরকারি স্কুল কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের (প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান, প্রদর্শক, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব শিক্ষক) বদলির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারিকৃত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত) অনুযায়ী টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় প্রস্তুতকৃত সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে উল্লিখিত নির্দেশনাবলি জারি করা হলো। জারিকৃত বদলি নীতিমালা অনুযায়ী বদলি হতে ইচ্ছুক শিক্ষকরা http://ngttdshe.teletalk.com.bd এই লিংকে তার মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আগামী ২১ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
একজন আবেদনকারী তার পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ ৩টি প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ পাবেন। প্রাপ্ত আবেদনগুলো বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই প্রক্রিয়া শেষে কর্তৃপক্ষ বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করবেন।
আবেদনকারী শিক্ষক তার চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারী শিক্ষক স্বামী, স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী, স্ত্রীর কর্মস্থল (শুধুমাত্র সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বামী বা স্ত্রী বোঝাবে) জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। বদলি সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া এ সংক্রান্ত তথ্য ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর চাকরি দুই বছর পূর্ণ হলে বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য সম্বলিত আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে না। ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেয়া প্রমাণিত হলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বদলির আবেদনের ভিত্তিতে বদলি অধিকার হিসাবে দাবি করা যাবে না। বদলিকৃত শিক্ষক কোন ধরনের টিএ, ডিএ প্রাপ্য হবেন না। আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বদলিকৃত শিক্ষক এর অবমুক্তি নিশ্চিত করবে
১
১ মন্তব্য