সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative Assessment) শিক্ষাবর্ষ বা নির্দিষ্ট অধ্যায় শেষে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক অর্জন পরিমাপের অন্যতম হাতিয়ার হলেও এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু নীতিগত, মানসিক এবং অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
নিচে সামষ্টিক মূল্যায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো:
১. শিক্ষার্থীদের মানসিক ও আচরণগত চ্যালেঞ্জ
- অতিরিক্ত পরীক্ষাভীতি ও মানসিক চাপ: সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফল চূড়ান্ত গ্রেডে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারাত্মক মানসিক চাপ এবং ‘পরীক্ষাভীতি’ (Test Anxiety) তৈরি হয়।
- ভুল সংশোধনের সুযোগের অভাব: এটি শিখন প্রক্রিয়ার একদম শেষে ঘটে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ঘাটতি বা ভুলগুলো জানার পরও তা সংশোধনের আর কোনো সুযোগ পায় না।
- নেতিবাচক প্রতিযোগিতা ও আত্মবিশ্বাস হ্রাস: কেবল ফলাফলের ওপর জোর দেওয়ার কারণে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়।
২. প্রকৃত যোগ্যতা যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা
- মুখস্থ নির্ভরতার পুনরাবৃত্তি: প্রচলিত সামষ্টিক পরীক্ষাগুলোতে প্রায়ই শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতার চেয়ে হুবহু মনে রাখার ক্ষমতা বা মুখস্থ বিদ্যায় বেশি নম্বর পাওয়া যায়।
- নির্দিষ্ট একদিনের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরতা: কোনো শিক্ষার্থী সারা বছর ভালো পড়াশোনা করলেও পরীক্ষার দিন অসুস্থতা বা মানসিক চাপের কারণে খারাপ করলে তার পুরো বছরের মেধা সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয় না।
- উচ্চতর দক্ষতার অবমূল্যায়ন: ক্রিটিক্যাল থিংকিং, দলগত কাজ বা বাস্তব সমস্যার সমাধানের মতো দক্ষতাগুলো একটি সাধারণ লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিকভাবে যাচাই করা অসম্ভব।
১৩
১৮ মন্তব্য