সহকারী শিক্ষক
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
এমপিও শিক্ষকদের বদলির আবেদনে তথ্য ভুল, সংশোধনের সুযোগ থাকবে কী
বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদনে তথ্য ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগ আপাতত থাকছে না। অনলাইনে আবেদন সাবমিট করার পর কোনো তথ্য ভুল হলে আবেদনকারী নিজে থেকে তা সংশোধন করতে পারবেন না। তবে টেলিটকের কারিগরি ত্রুটি বা সিস্টেমজনিত কারণে কোনো ভুল হলে তা সংশোধনের বিষয়টি টেলিটকের মাধ্যমে সমাধান করা হতে পারে।
আজ (২৫আগষ্ট) এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, আবেদনকারী নিজের দেওয়া তথ্য ভুল করলে তা সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। টেলিটকের সিস্টেম বা কারিগরি কারণে কোনো ভুল হলে সেটি সংশোধনের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তাই আবেদন সাবমিট করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
কর্মকর্তারা আরো জানান, অনলাইনে আবেদন সাবমিট করার পর আবেদনকারীর পক্ষ থেকে তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে তাড়াহুড়া করে আবেদন জমা দিলে পরবর্তী সময়ে ভুল সংশোধন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক—প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান, প্রদর্শক, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব শিক্ষককে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী বদলি করা হবে। টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় প্রস্তুত করা সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, বদলিতে আগ্রহী শিক্ষকরা মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ২১ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
একজন আবেদনকারী পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনগুলো বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে কর্তৃপক্ষ বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করবেন।
বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকরা চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করা যাবে।
এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায়ও বদলির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে। বদলি সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া এ-সংক্রান্ত তথ্য ভুল হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক বদলির আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করা যাবে।
এদিকে বদলির আবেদন চলমান থাকায় অনেক শিক্ষক আবেদন ফরমে বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার পর সাবমিট করার আগে তা নিয়ে যাচাই করছেন। কেউ কেউ আবেদন সাবমিট করার পর ভুল তথ্য দেখতে পাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সংশোধনের সুযোগ না থাকায় আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি তথ্য যাচাই করে আবেদন চূড়ান্ত করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। (সংগৃহীত)
১৩
১৮ মন্তব্য