Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

মায়ার চাদরে মোড়ানো গ্রামের বাড়ি!

মায়ার চাদরে মোড়ানো গ্রামের বাড়ি!


আমি ভীষণ অতীতপ্রিয়, ভীষণ স্মৃতিপ্রিয় একজন মানুষ। অতীতকে যেন আজও আঁকড়ে ধরে আছি। জীবনের প্রতিটি স্মৃতিকে যত্ন করে বুকের ভেতর জমিয়ে রাখি। পুরোনো দিনের কথা মনে পড়লেই কেমন যেন অন্য এক জগতে হারিয়ে যাই।

আমাদের গ্রামের সেই দিনগুলো ছিল রহস্যময়, সৌন্দর্যময়—অদ্ভুত এক মায়ায় ঘেরা।

বিকেল হলেই নানি-দাদিরা একসঙ্গে বসে গল্প করতেন। কখনো মাঠের পাশে, কখনো বাড়ির উঠোনে। কত গল্প, কত হাসি, কত না বলা কথা! কেউ ঢেকিতে ধান ভানত, কেউ পিঠা-পায়েস বানাত, কেউ একসঙ্গে রান্না করত। কারও মাথায় বসে উকুন বাছার সেই দৃশ্যও ছিল খুব স্বাভাবিক, খুব আপন। আজ ভাবলে মনে হয়—সেই সাধারণ জীবনেই কত অসাধারণ আনন্দ লুকিয়ে ছিল!

প্রতিটি বাড়িতেই যেন ছিল ছোট্ট একটি সংসার-জগৎ—গরু ছিল, ছাগল ছিল, হাঁস ছিল, মুরগি ছিল। উঠোনে হাঁস-মুরগির ডাক, গোয়ালে গরুর শব্দ, চারপাশে মানুষের কর্মব্যস্ততা—সব মিলিয়ে গ্রামটা যেন নিজের মতো করে নিঃশ্বাস নিত।

সবাই কাজ করত। কেউ মাঠে, কেউ বাড়িতে, কেউ রান্নাঘরে, কেউ গৃহস্থালির কাজে। কাজের মধ্যেও ছিল গল্প, হাসি, আন্তরিকতা আর একে অপরের প্রতি টান।

কী সুন্দর ছিল সেই সময়টা!

আজ আমরা শহরের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি। চারপাশে দালান, ব্যস্ততা, কোলাহল—কিন্তু কোথাও যেন সেই আপন গন্ধটা নেই। সেই উঠোন নেই, সেই বিকেল নেই, সেই মানুষগুলো নেই, নেই সেই সহজ-সরল জীবন।

সবকিছু এখন শুধু স্মৃতি।

কখনো কখনো মনে হয়, চোখ বন্ধ করলেই যদি ফিরে যেতে পারতাম সেই দিনগুলোতে! আবার দেখতে পেতাম সেই উঠোন, সেই মাঠ, সেই বিকেল, সেই মানুষগুলোকে। আবার শুনতে পেতাম হাঁস-মুরগির ডাক, আবার দেখতাম নানিদাদিদের গল্পের আসর।

কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম।

সেই গ্রাম হয়তো আর নেই। সেই সময়ও নেই। আছে শুধু বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা কিছু অমূল্য স্মৃতি।

আর সেই স্মৃতিগুলোই আজ আমার কাছে,

আমার হারিয়ে যাওয়া শৈশব, আমার শিকড়, আমার সবচেয়ে সুন্দর অতীত।

মন্তব্য করুন